ফাবিহা বিনতে হক

১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে পহেলা ফাল্গুন কিংবা ভালবাসা দিবস হিসেবেই আমরা জানি। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে আমাদের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, ১৯৮৩ সালের এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের জন্য এক অগ্নিঝরা দিন। আশির দশকেও এদেশের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এসেছিল স্বৈরাচারের নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে। আর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর আবারও রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে শিক্ষার্থীদের বুকের রক্তে। ইতিহাসে এই দিনটি ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পরিচিত।
১৯৮২ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের শাসনামলে সামরিক সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ছিলেন ড. আবদুল মজিদ খান। সে বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর নেতৃত্বে ‘মজিদ খান শিক্ষা নীতির’ প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই নীতিতে প্রথম শ্রেণি থেকে বাংলার সঙ্গে আরবি এবং দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে ইংরেজি অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয়েই ৩টি ভাষা বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়। এছাড়া যারা ৫০ শতাংশ ব্যয় বহন করতে পারবে, পরীক্ষার ফল খারাপ হলেও তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয় এতে। এর পাশাপাশি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক কোর্স করা হয় ১২ বছর।
কিন্তু ছাত্রসমাজের দাবি ছিল একটি অবৈতনিক বৈষম্যহীন শিক্ষানীতি। শিক্ষামন্ত্রী ড. মজিদ খান যে নীতি ঘোষণা করেন, সেখানে বাণিজ্যিকীকরণ আর ধর্মীয় প্রতিফলন ঘটেছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। তাই শুরু থেকেই ওই নীতির বিরোধিতা করতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবসে ছাত্রসমাজ এই শিক্ষানীতিকে গণবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি আখ্যা দিয়ে ৩ দফা দাবিতে আন্দোলন চালানোর ঘোষণা দেয়। এই ৩ দফা দাবির মধ্যে ছিল মজিদ খানের গণবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিল, সব ছাত্র ও রাজবন্দীকে নিঃশর্ত মুক্তিদান এবং সামরিক শাসন প্রত্যাহার করে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ছাত্রসমাজ আন্দোলন চালিয়ে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। ৮ নভেম্বর পুলিশের লাঠি পেটায় আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নুরুল আমিনসহ আরও অনেক শিক্ষার্থী। আন্দোলন করার অপরাধে ৩০ জনকে আটক করে পুলিশ। পরিস্থিতি হাত থেকে বেরিয়ে যাবার আগেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেয় কর্তৃপক্ষ।

১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলেও আন্দোলন কমার কোনো নামগন্ধ ছিল না। উলটো আরও ১৪টি ছাত্র সংগঠন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। ২১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে গঠিত হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে সারা দেশে গণস্বাক্ষরতা অভিযান পরিচালনা করে। একইসঙ্গে চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জনমত তৈরির কাজ।
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ১৯৮৩ সালের ১১ জানুয়ারি সচিবালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষার্থীরা। সামরিক শাসক এরশাদ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিলে ছাত্রসমাজ তা প্রত্যাখ্যান করে।
১১ জানুয়ারি শেষ পর্যন্ত অনিবার্য কারণবশত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি হাতে নেয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে মজিদ খানের কুখ্যাত শিক্ষানীতি বাতিলসহ একটি বিজ্ঞানমনস্ক, অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার দাবি এবং রাজবন্দীদের মুক্তির লক্ষ্যে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসে। তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলটি সচিবালয় অভিমুখে যাওয়ার সময় হাইকোর্ট মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে আটকে যায়।
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের উপর পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়। গরম পানি, টিয়ারশেল এবং লাঠিচার্জের মাধ্যমে শুরু হয় এক ভয়াবহ দমন-পীড়ন। এর জবাবে শিক্ষার্থীরা ইট-পাটকেল ছুড়লে পুলিশ বেপরোয়া হয়ে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ শুরু করে, যার ফলে পুরো এলাকাটি মুহূর্তেই এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এই সংঘাতের সময় জয়নাল নামের এক শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পৈশাচিকতার চরম সীমা অতিক্রম করে পুলিশ গুলিবিদ্ধ জয়নালের শরীর বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুলির সময় প্রাণ বাঁচাতে ছাত্ররা আশ্রয় নেন পাশের শিশু একাডেমিতে। সেখানে শিশুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চললেও থামেনি পুলিশের নির্যাতন। সেসময় পুলিশের গুলিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা শিশু দীপালি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। অন্য শিশু ও অভিভাবকদের ওপরও পুলিশ লাঠিচার্জ চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আহতদের চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে চাইলেও সেখানে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। এর মধ্যে ছাত্রদের লাশ গুম করে ফেলে পুলিশ।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার্থী জয়নালের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ফুঁসে ওঠে ছাত্ররা। তাঁর জানাজায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীদের ওপর ফের হামলা চালানো শুরু করে পুলিশ ও বিডিআরের যৌথ বাহিনী। শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ করতে গেলে লাঠিচার্জ শুরু করে যৌথবাহিনী।
আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কলাভবন ও উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকলে তাদের টেনে বের করে পিটিয়ে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। জয়নালের লাশের সন্ধানে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওপর। কেবল সরকারি হিসাবমতেই এদিন ১ হাজার ৩৩১ জন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথ কলেজের সামনে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুই তরুণকে। তেজগাঁওয়ের ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ২ ছাত্রকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। সদরঘাটে এক শিশুকে বেয়নেট দিয়ে হত্যা করা হয়। এই আন্দোলনের ছোঁয়া লেগেছিল চট্টগ্রামেও। সেখানে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন কাঞ্চন নামের একজন।
পুলিশের নির্বিচারে হত্যার প্রতিবাদে ১৫ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসেন। ঢাকার নানা এলাকায় পুলিশের সেঙ্গে চলে দিনভর তুমুল সংঘর্ষ। চট্টগ্রামে শহীদ হন মোজাম্মেল নামের এক ছাত্র। এক পর্যায়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
সেই রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে জাফর, জয়নাল, দীপালী, আইয়ুব, ফারুক, কাঞ্চনসহ বেশ কয়েকজন নিহতের নাম জানা গেলেও ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি মোট কতজন শহীদ হয়েছিলেন, তা আজও অজানা। কারণ অভিযোগ আছে, সেদিন সব লাশই গুম করেছিল এরশাদের পেটোয়া বাহিনী।
ব্যাপক আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি পিছু হটেন সামরিক প্রশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, ‘জনগণের রায় ছাড়া শিক্ষা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।’ এক প্রেস নোটে বলা হয়, আটক ১ হাজার ২২১ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষানীতি স্থগিত করে এরশাদ সরকার।
সেই আন্দোলনের পথ ধরেই নব্বইয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়।

১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে পহেলা ফাল্গুন কিংবা ভালবাসা দিবস হিসেবেই আমরা জানি। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে আমাদের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, ১৯৮৩ সালের এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের জন্য এক অগ্নিঝরা দিন। আশির দশকেও এদেশের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এসেছিল স্বৈরাচারের নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে। আর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর আবারও রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে শিক্ষার্থীদের বুকের রক্তে। ইতিহাসে এই দিনটি ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পরিচিত।
১৯৮২ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের শাসনামলে সামরিক সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ছিলেন ড. আবদুল মজিদ খান। সে বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর নেতৃত্বে ‘মজিদ খান শিক্ষা নীতির’ প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই নীতিতে প্রথম শ্রেণি থেকে বাংলার সঙ্গে আরবি এবং দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে ইংরেজি অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয়েই ৩টি ভাষা বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়। এছাড়া যারা ৫০ শতাংশ ব্যয় বহন করতে পারবে, পরীক্ষার ফল খারাপ হলেও তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয় এতে। এর পাশাপাশি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক কোর্স করা হয় ১২ বছর।
কিন্তু ছাত্রসমাজের দাবি ছিল একটি অবৈতনিক বৈষম্যহীন শিক্ষানীতি। শিক্ষামন্ত্রী ড. মজিদ খান যে নীতি ঘোষণা করেন, সেখানে বাণিজ্যিকীকরণ আর ধর্মীয় প্রতিফলন ঘটেছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। তাই শুরু থেকেই ওই নীতির বিরোধিতা করতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবসে ছাত্রসমাজ এই শিক্ষানীতিকে গণবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি আখ্যা দিয়ে ৩ দফা দাবিতে আন্দোলন চালানোর ঘোষণা দেয়। এই ৩ দফা দাবির মধ্যে ছিল মজিদ খানের গণবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিল, সব ছাত্র ও রাজবন্দীকে নিঃশর্ত মুক্তিদান এবং সামরিক শাসন প্রত্যাহার করে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ছাত্রসমাজ আন্দোলন চালিয়ে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। ৮ নভেম্বর পুলিশের লাঠি পেটায় আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নুরুল আমিনসহ আরও অনেক শিক্ষার্থী। আন্দোলন করার অপরাধে ৩০ জনকে আটক করে পুলিশ। পরিস্থিতি হাত থেকে বেরিয়ে যাবার আগেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেয় কর্তৃপক্ষ।

১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলেও আন্দোলন কমার কোনো নামগন্ধ ছিল না। উলটো আরও ১৪টি ছাত্র সংগঠন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। ২১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে গঠিত হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে সারা দেশে গণস্বাক্ষরতা অভিযান পরিচালনা করে। একইসঙ্গে চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জনমত তৈরির কাজ।
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ১৯৮৩ সালের ১১ জানুয়ারি সচিবালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষার্থীরা। সামরিক শাসক এরশাদ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিলে ছাত্রসমাজ তা প্রত্যাখ্যান করে।
১১ জানুয়ারি শেষ পর্যন্ত অনিবার্য কারণবশত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি হাতে নেয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে মজিদ খানের কুখ্যাত শিক্ষানীতি বাতিলসহ একটি বিজ্ঞানমনস্ক, অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার দাবি এবং রাজবন্দীদের মুক্তির লক্ষ্যে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসে। তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলটি সচিবালয় অভিমুখে যাওয়ার সময় হাইকোর্ট মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে আটকে যায়।
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের উপর পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়। গরম পানি, টিয়ারশেল এবং লাঠিচার্জের মাধ্যমে শুরু হয় এক ভয়াবহ দমন-পীড়ন। এর জবাবে শিক্ষার্থীরা ইট-পাটকেল ছুড়লে পুলিশ বেপরোয়া হয়ে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ শুরু করে, যার ফলে পুরো এলাকাটি মুহূর্তেই এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এই সংঘাতের সময় জয়নাল নামের এক শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পৈশাচিকতার চরম সীমা অতিক্রম করে পুলিশ গুলিবিদ্ধ জয়নালের শরীর বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুলির সময় প্রাণ বাঁচাতে ছাত্ররা আশ্রয় নেন পাশের শিশু একাডেমিতে। সেখানে শিশুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চললেও থামেনি পুলিশের নির্যাতন। সেসময় পুলিশের গুলিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা শিশু দীপালি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। অন্য শিশু ও অভিভাবকদের ওপরও পুলিশ লাঠিচার্জ চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আহতদের চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে চাইলেও সেখানে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। এর মধ্যে ছাত্রদের লাশ গুম করে ফেলে পুলিশ।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার্থী জয়নালের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ফুঁসে ওঠে ছাত্ররা। তাঁর জানাজায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীদের ওপর ফের হামলা চালানো শুরু করে পুলিশ ও বিডিআরের যৌথ বাহিনী। শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ করতে গেলে লাঠিচার্জ শুরু করে যৌথবাহিনী।
আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কলাভবন ও উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকলে তাদের টেনে বের করে পিটিয়ে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। জয়নালের লাশের সন্ধানে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওপর। কেবল সরকারি হিসাবমতেই এদিন ১ হাজার ৩৩১ জন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথ কলেজের সামনে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুই তরুণকে। তেজগাঁওয়ের ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ২ ছাত্রকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। সদরঘাটে এক শিশুকে বেয়নেট দিয়ে হত্যা করা হয়। এই আন্দোলনের ছোঁয়া লেগেছিল চট্টগ্রামেও। সেখানে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন কাঞ্চন নামের একজন।
পুলিশের নির্বিচারে হত্যার প্রতিবাদে ১৫ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসেন। ঢাকার নানা এলাকায় পুলিশের সেঙ্গে চলে দিনভর তুমুল সংঘর্ষ। চট্টগ্রামে শহীদ হন মোজাম্মেল নামের এক ছাত্র। এক পর্যায়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
সেই রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে জাফর, জয়নাল, দীপালী, আইয়ুব, ফারুক, কাঞ্চনসহ বেশ কয়েকজন নিহতের নাম জানা গেলেও ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি মোট কতজন শহীদ হয়েছিলেন, তা আজও অজানা। কারণ অভিযোগ আছে, সেদিন সব লাশই গুম করেছিল এরশাদের পেটোয়া বাহিনী।
ব্যাপক আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি পিছু হটেন সামরিক প্রশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, ‘জনগণের রায় ছাড়া শিক্ষা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।’ এক প্রেস নোটে বলা হয়, আটক ১ হাজার ২২১ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষানীতি স্থগিত করে এরশাদ সরকার।
সেই আন্দোলনের পথ ধরেই নব্বইয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়।

‘আমি চাই না আপনারা আমাকে দেখেন, মানুষ খুশি থাকলে আমিও খুশি’— অত্যন্ত সাধারণ এই জীবনবোধের অধিকারী কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চরের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম তাজুর। তিনি আজ ইন্টারনেটে এক পরিচিত নাম।
৯ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীর ইতিহাসে সংক্রামক ব্যাধির সঙ্গে মানুষের লড়াই অনেক পুরোনো। বিভিন্ন যুগে নানা রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব রোগে প্রাণহানি ঘটেছে কোটি কোটি মানুষের। চতুর্দশ শতাব্দীতে ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বা প্লেগ রোগে ইউরোপের বিপুল সংখ্যক মানুষ মারা যায়। এরপর গুটিবসন্ত, কলেরা ও স্প্যানিশ ফ্লু পৃথিবীতে ব্যাপক ধ্বং
১৭ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় একসময় হাম ছিল শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এক সময় এই সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগটি বহু শিশুর জীবন কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি টিকাদান কর্মসূচি, শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও কার্যকর নজরদারির মাধ্যমে আজ সেই চিত্র বদলে গেছে।
১ দিন আগে
আমাদের সমাজে শিশুর ঘুম নিয়ে প্রচলিত অনেক কথা আছে। যেমন, শিশু রাতে ১২ ঘণ্টা ঘুমাবে। কেউ বলেন, দিনে বেশি ঘুমালে রাতে ঘুম হবে না। আবার কেউ বলেন, দিনে বেশি ঘুমালে রাতেও ঘুমের অভ্যাস গড়ে উঠবে। এমন অনেক কথায় কান দিয়ে বাবা-মায়েরা সন্তানের ঘুম নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান।
১ দিন আগে