leadT1ad

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ১৭
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ছবি: রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি স্পষ্ট করেন যে, তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। ক্রাউন প্রিন্স আরও জানান, রিয়াদ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সংলাপের মাধ্যমে সব মতপার্থক্য দূর করতে আগ্রহী।

পেজেশকিয়ান সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে যুদ্ধ প্রতিরোধে সহায়ক যেকোনো প্রক্রিয়াকে তেহরান স্বাগত জানায়।

এর আগে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা বা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মার্কিন একটি ‘নৌবহর’ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন যে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের হত্যা করা হলে কিংবা দেশটি তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করলে তিনি সামরিক পদক্ষেপ নেবেন। তবে ইরানে বর্তমানে বিক্ষোভ পরিস্থিতি অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে।

এদিকে, রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা সোমবার জানিয়েছেন, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এবং সহায়ক যুদ্ধজাহাজ ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সামর্থ্যও বেড়েছে।

উল্লেখ্য যে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাধারণ পথচারীরাও রয়েছেন। তাদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে বড় দমন-পীড়নের ঘটনা। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই প্রাণহানির জন্য নির্বাসিত বিরোধীদের মদদপুষ্ট ‘দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করেছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত