লেখা:

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদের এক বৈঠকেও হামলা করেছিল। ওই হামলা দেশটির নেতৃত্ব হস্তান্তরের দীর্ঘদিনের আলোচনাকে হঠাৎ জরুরি অবস্থায় ঠেলে দেয়। এর ফলে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত আর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়নি। বরং তা পরিণত হয় অস্পষ্ট ও চাপের মধ্যে নেওয়া এক সিদ্ধান্তে। এই পরিস্থিতিতে খামেনির ছেলে মুজতবাকে বেছে নেওয়া হয়।
তবে শুধু জরুরি অবস্থাই নয় তার নির্বাচনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা বাছাইয়ে তার হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত এবং ইসরায়েলের ধারাবাহিক হত্যার হুমকি মুজতবাকে ইরানের শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার জন্য একমাত্র কার্যকর বিকল্পে পরিণত করে।
ইরান মনে করেছে, তাদের সার্বভৌমত্ব দুর্বল করা হয়েছে এবং নেতৃত্বকে অপমান করা হয়েছে। তাই তারা এমন একজনকে সামনে আনে, যিনি বিদেশি চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হতে পারেন। যদিও এই সিদ্ধান্ত তাদের আদর্শিক অবস্থান ও সাংবিধানিক রীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
যুদ্ধের সময়ে না হলে সাধারণ ইরানিদের বড় অংশ তার বাবার মতোই কট্টরপন্থী মুজতবাকে সহজে মেনে নিত না। মধ্যপন্থী ইসলামি অভিজাতদের কাছেও তিনি গ্রহণযোগ্য হতেন না, কারণ তারা অপেক্ষাকৃত কম কট্টর একজন নেতাকে চাইতেন।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে বহু ইরানি মুজতবাকে জাতীয় প্রতিরোধ ও শাসনব্যবস্থার স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে মেনে নিতে পারেন। তাদের কাছে বিশৃঙ্খলার চেয়ে দুর্বল শৃঙ্খলাও ভালো, অনিরাপত্তার চেয়ে সীমিত নিরাপত্তাও ভালো, আর যুদ্ধ ও বিদেশি আধিপত্যের চেয়ে যেকোনো দেশীয় শাসনই গ্রহণযোগ্য।
আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নেতৃত্ব বদলের সময়টি প্রায়ই টিকে থাকা বা ভেঙে পড়ার মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হয়ে ওঠে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানেও এই প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে জটিল ছিল। কারণ দেশের ভেতরে যেমন নানা মতবিরোধ রয়েছে, তেমনি বাইরে থেকেও প্রবল চাপ আছে। দেশের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তারের লড়াই চলেছে একদিকে বিপ্লবী গার্ড, বাসিজ মিলিশিয়া ও কট্টর ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে, আর অন্যদিকে সংস্কারপন্থী, আন্দোলন-অভিজ্ঞ গোষ্ঠী ও বাস্তববাদী মধ্যপন্থীদের মধ্যে।
নেতৃত্ব হস্তান্তরের এই বিতর্ক জড়িয়ে রয়েছে ‘বিলায়াত-ই-ফকিহ’ বা ইসলামি আইনজ্ঞের অভিভাবকত্বের ধারণার সঙ্গে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক চাপও এই বিতর্ককে গভীর করেছে। মুজতবার সামনে আসা সেই জটিলতাকে আরও বাড়িয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমর্থকরাও এখন বিভক্ত। কেউ প্রশ্ন তুলছেন, বিলায়াত-ই-ফকিহের সঙ্গে বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তর কীভাবে একসঙ্গে চলে।
যুদ্ধের আগে মুজতবা প্রকাশ্যে খুব বেশি দৃশ্যমান ছিলেন না, কিন্তু পর্দার আড়ালে তিনি যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন। তিনি তার বাবার দপ্তরের ছায়ায় থেকেই নিরাপত্তা ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে, বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে, ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু অধিকাংশ মূল্যায়ন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নেতার জন্য যে ধর্মীয় যোগ্যতা প্রয়োজন, তা তার ছিল না।
বিলায়াত-ই-ফকিহের ধারণা অনুযায়ী, একজন সর্বোচ্চ নেতার গভীর ধর্মীয় পাণ্ডিত্য ও উচ্চমানের আলেমসুলভ মর্যাদা থাকা দরকার। মুজতবা একজন মধ্যম পর্যায়ের আলেম হিসেবে এই উচ্চ মানদণ্ড পূরণ করেন না। অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইসলামি আইনশাস্ত্র নিয়ে লেখা ও গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের ধর্মীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
কিন্তু মুজতাবার তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাজ নেই। উচ্চ পর্যায়ের কোনো স্বীকৃত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষও তাকে স্বাধীন ফিকহি বিচারক্ষমতাসম্পন্ন আলেম হিসেবে নিশ্চিত করেননি। তবু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বাবার উত্তরাধিকার বহনকারী প্রতীকী গুরুত্ব তাকে উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে সামনে এনে দেয়।
একসময় বয়োজ্যেষ্ঠ খামেনি নিজেও মুজতাবাকে সামনে আনার বিপক্ষে ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি বংশানুক্রমিক শাসনকে প্রকাশ্যে নিন্দা করেছিলেন। তিনি একে রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষণ হিসেবে দেখেছিলেন। তার মতে, এটি বিপ্লবী যুক্তিবোধ ও ইসলামি নীতির পরিপন্থী। তিনি তার ছেলেদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রবেশ করতে বারবার নিষেধ করেছিলেন। ক্ষমতার নৈকট্য ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে বলেও সতর্ক করেছিলেন।
কিন্তু খামেনির হত্যাকাণ্ড এমন এক বাস্তবতা তৈরি করে, যা নিয়ে বহু বিশ্লেষকের আগেই ধারণা ছিল। অনেকের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন, যা শিয়া আত্মত্যাগের আদর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত। তার মৃত্যুর ফলে ছেলের প্রতীকী মর্যাদা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সমালোচনাও মুজতবার পক্ষে উল্টো ফল বয়ে আনে।
তাকে নিয়ে যখন জল্পনা বাড়ছিল, তখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখান। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, “খামেনির ছেলে খুব দুর্বল ধরনের মানুষ।” তিনি তাকে “অগ্রহণযোগ্য” আখ্যা দেন এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তিনি ওয়াশিংটনের দাবির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে রাজি, কিন্তু মুজতবা তা নন। অন্যদিকে ইসরায়েল প্রকাশ্যে ঘোষণা করে, নতুন যেই সর্বোচ্চ নেতাই নির্বাচিত হোক না কেন, তাকেও হত্যা করা হবে।
এই মন্তব্যগুলো শেষ পর্যন্ত উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ইরানের শাসকগোষ্ঠী ট্রাম্প ও ইসরায়েলের মন্তব্যকে জাতীয় অপমান হিসেবে দেখে। তারা নতি স্বীকার না করে উল্টো কঠোর অবস্থান নেয়। ফলে আগের সর্বোচ্চ নেতার বংশানুক্রমিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের আপত্তি সরিয়ে রেখে দ্রুত মুজতাবাকে নির্বাচিত করা হয়।
উত্তরাধিকার নিয়ে প্রতিযোগিতা বহু বছর ধরেই চলছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানির নেতৃত্বে সংস্কারপন্থী ও মধ্যপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন দাবি করে আসছিলেন। তারা মনে করতেন, কট্টরপন্থী মুজতবা জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে পারবেন না এবং অর্থবহ পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করবেন না।
তবে মুজতবার পক্ষে ছিল আরেক শক্তিশালী বলয়। প্রভাবশালী কট্টরপন্থী সাঈদ জলিলির অনুসারী প্রধান নীতিবাদীরা, বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডাররা, বাসিজ নেতৃত্ব এবং শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে সমর্থন দেন। যদিও সবাই একইভাবে একমত ছিলেন না। খামেনির মৃত্যুর পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে এই কট্টরপন্থীরা, বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ড, বিশেষজ্ঞ পরিষদের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রবেশাধিকার পায়। কারণ পরিষদের বহু সদস্য নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিপ্লবী গার্ডের ওপর নির্ভরশীল।
খামেনির মৃত্যুর পর সংস্কারপন্থী ফ্রন্ট বিবৃতি দিয়ে এমন একজন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দাবি জানায়, যিনি প্রায় সবার গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন। ইসলামি ইরানের জাতীয় উন্নয়ন পার্টিও বলেছিল, এমন একজন সর্বজনীন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া দরকার, যিনি বৈশ্বিক সম্পর্ক নিয়ে সচেতন, জাতীয় স্বার্থ ও জনকল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যিনি জাতীয় ঐক্য গঠনের পথ খুলে দিতে পারেন।
কিন্তু তাদের সমস্যা ছিল ভিন্ন জায়গায়। পরিষদের প্রভাবশালী সদস্যদের সঙ্গে তাদের ততটা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না। ফলে ক্ষমতার প্রকৃত কেন্দ্রগুলোর কাছে সরাসরি নিজেদের মত পৌঁছে দেওয়া বা পরিষদের সদস্যদের তদবির করার সুযোগ তাদের হাতে ছিল না।
যুদ্ধের সময় না হলে মুজতাবার নির্বাচন সম্ভবত ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিত। ইরানের নাগরিক সমাজ, খাতামির নেতৃত্বাধীন সংস্কারপন্থীরা এবং রুহানির নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থীরা এটিকে রাজতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন বলে আখ্যা দিতেন। তারা নিশ্চুপ না থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেন। যদিও এই বিক্ষোভ বিশেষজ্ঞ পরিষদের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারত না, তবু তা শাসনব্যবস্থার জন্য বিশাল সংকট তৈরি করত।
কিন্তু যুদ্ধ ও বিমান হামলার বাস্তবতা পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। মধ্যপন্থী অভিজাতরা চাপে পড়ে গেছেন। জনসমক্ষে ভিন্নমত প্রকাশের জায়গাও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কট্টরপন্থীরা তাই বাধাহীনভাবে এগোতে পেরেছে। যে প্রক্রিয়া মূলত সর্বোচ্চ ধর্মীয় যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিল, সেটি এখন অবরুদ্ধ শাসনব্যবস্থাকে রক্ষা করার মরিয়া প্রচেষ্টায় পরিণত হয়েছে। এখন মূল রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হলো ইরানের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব রক্ষা করা। অন্য সব প্রশ্ন আপাতত গৌণ।
ইসরায়েলি হামলায় আহত অবস্থায় সামনে আসা মুজতবা সম্ভবত তার বাবার পথই অনুসরণ করবেন। তবে যুদ্ধকালীন বৈধতা যোগ হওয়ায় তার হাতে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি হতে পারে। তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারে বিপ্লবী গার্ডকে আরও ক্ষমতাশালী করতে পারেন। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারেন। ভিন্নমত, প্রতিবাদ এবং সংস্কারচেষ্টার বিরুদ্ধে দমন আরও তীব্র হতে পারে।
অবশ্য ট্রাম্প বা ইসরায়েলের কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে তাদের হুমকি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে মুজতাবাকেও হত্যা করতে পারেন। কিন্তু তার বাবাকে হত্যা করার পর যেমন শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান হয়নি বা রাষ্ট্র ভেঙে পড়েনি, তেমনি মুজতাবার অনুপস্থিতিও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ঘোষিত যুদ্ধলক্ষ্য পূরণ করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং এর উল্টো ফল হতে পারে।
এতে শাসনব্যবস্থার ধর্মীয় সমর্থন আরও শক্তিশালী হতে পারে, সামরিক নেতারা যুদ্ধ আরও জোরালোভাবে চালিয়ে যেতে পারেন, এবং মুসলিম বিশ্বের শিয়া সমাজে এর গভীর প্রতিধ্বনি তৈরি হতে পারে। বহু শিয়া এটিকে বিদেশি শক্তির হাতে নিজেদের ওপর নতুন নিপীড়নের উদাহরণ হিসেবে দেখবে। এই বয়ান তাদের ইতিহাসে বহু পুরোনো, যা ষষ্ঠ শতকের উমাইয়া আমল পর্যন্ত প্রসারিত।
এমনকি যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বকে ধারাবাহিকভাবে হত্যা এবং আশা করে যে একসময় ইরান আর বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজে পাবে না, তবুও রাষ্ট্রটি সহজে ভেঙে পড়বে না। কারণ ইরানে উত্তরাধিকার পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে করা আছে, আর বিপ্লবী গার্ডের কাঠামোও বিকেন্দ্রীভূত। ফলে বিকল্প ব্যবস্থার যথেষ্ট জায়গা রয়েছে।
এমন একটি পরিস্থিতিও অসম্ভব নয়, যেখানে বিপ্লবী গার্ড পুরোপুরি বিলায়াত-ই-ফকিহ পদ্ধতিকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে নেবে। তখন দেশটি ধর্মীয় আবরণ বজায় না রেখেও এক ধরনের সামরিক একনায়কতন্ত্রে রূপ নিতে পারে।
(ফরেন অ্যাফেয়ার্সে প্রকাশিত ইরানি সাংবাদিক আকবর গাঞ্জির ‘দ্য নিউ খামেনি’ শিরোনামের বিশ্লেষণমূলক লেখাটির অনুবাদ করেছেন মাহবুব তারেক)

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদের এক বৈঠকেও হামলা করেছিল। ওই হামলা দেশটির নেতৃত্ব হস্তান্তরের দীর্ঘদিনের আলোচনাকে হঠাৎ জরুরি অবস্থায় ঠেলে দেয়। এর ফলে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত আর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়নি। বরং তা পরিণত হয় অস্পষ্ট ও চাপের মধ্যে নেওয়া এক সিদ্ধান্তে। এই পরিস্থিতিতে খামেনির ছেলে মুজতবাকে বেছে নেওয়া হয়।
তবে শুধু জরুরি অবস্থাই নয় তার নির্বাচনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা বাছাইয়ে তার হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত এবং ইসরায়েলের ধারাবাহিক হত্যার হুমকি মুজতবাকে ইরানের শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার জন্য একমাত্র কার্যকর বিকল্পে পরিণত করে।
ইরান মনে করেছে, তাদের সার্বভৌমত্ব দুর্বল করা হয়েছে এবং নেতৃত্বকে অপমান করা হয়েছে। তাই তারা এমন একজনকে সামনে আনে, যিনি বিদেশি চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হতে পারেন। যদিও এই সিদ্ধান্ত তাদের আদর্শিক অবস্থান ও সাংবিধানিক রীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
যুদ্ধের সময়ে না হলে সাধারণ ইরানিদের বড় অংশ তার বাবার মতোই কট্টরপন্থী মুজতবাকে সহজে মেনে নিত না। মধ্যপন্থী ইসলামি অভিজাতদের কাছেও তিনি গ্রহণযোগ্য হতেন না, কারণ তারা অপেক্ষাকৃত কম কট্টর একজন নেতাকে চাইতেন।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে বহু ইরানি মুজতবাকে জাতীয় প্রতিরোধ ও শাসনব্যবস্থার স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে মেনে নিতে পারেন। তাদের কাছে বিশৃঙ্খলার চেয়ে দুর্বল শৃঙ্খলাও ভালো, অনিরাপত্তার চেয়ে সীমিত নিরাপত্তাও ভালো, আর যুদ্ধ ও বিদেশি আধিপত্যের চেয়ে যেকোনো দেশীয় শাসনই গ্রহণযোগ্য।
আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নেতৃত্ব বদলের সময়টি প্রায়ই টিকে থাকা বা ভেঙে পড়ার মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হয়ে ওঠে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানেও এই প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে জটিল ছিল। কারণ দেশের ভেতরে যেমন নানা মতবিরোধ রয়েছে, তেমনি বাইরে থেকেও প্রবল চাপ আছে। দেশের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তারের লড়াই চলেছে একদিকে বিপ্লবী গার্ড, বাসিজ মিলিশিয়া ও কট্টর ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে, আর অন্যদিকে সংস্কারপন্থী, আন্দোলন-অভিজ্ঞ গোষ্ঠী ও বাস্তববাদী মধ্যপন্থীদের মধ্যে।
নেতৃত্ব হস্তান্তরের এই বিতর্ক জড়িয়ে রয়েছে ‘বিলায়াত-ই-ফকিহ’ বা ইসলামি আইনজ্ঞের অভিভাবকত্বের ধারণার সঙ্গে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক চাপও এই বিতর্ককে গভীর করেছে। মুজতবার সামনে আসা সেই জটিলতাকে আরও বাড়িয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমর্থকরাও এখন বিভক্ত। কেউ প্রশ্ন তুলছেন, বিলায়াত-ই-ফকিহের সঙ্গে বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তর কীভাবে একসঙ্গে চলে।
যুদ্ধের আগে মুজতবা প্রকাশ্যে খুব বেশি দৃশ্যমান ছিলেন না, কিন্তু পর্দার আড়ালে তিনি যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন। তিনি তার বাবার দপ্তরের ছায়ায় থেকেই নিরাপত্তা ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে, বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে, ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু অধিকাংশ মূল্যায়ন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নেতার জন্য যে ধর্মীয় যোগ্যতা প্রয়োজন, তা তার ছিল না।
বিলায়াত-ই-ফকিহের ধারণা অনুযায়ী, একজন সর্বোচ্চ নেতার গভীর ধর্মীয় পাণ্ডিত্য ও উচ্চমানের আলেমসুলভ মর্যাদা থাকা দরকার। মুজতবা একজন মধ্যম পর্যায়ের আলেম হিসেবে এই উচ্চ মানদণ্ড পূরণ করেন না। অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইসলামি আইনশাস্ত্র নিয়ে লেখা ও গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের ধর্মীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
কিন্তু মুজতাবার তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাজ নেই। উচ্চ পর্যায়ের কোনো স্বীকৃত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষও তাকে স্বাধীন ফিকহি বিচারক্ষমতাসম্পন্ন আলেম হিসেবে নিশ্চিত করেননি। তবু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বাবার উত্তরাধিকার বহনকারী প্রতীকী গুরুত্ব তাকে উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে সামনে এনে দেয়।
একসময় বয়োজ্যেষ্ঠ খামেনি নিজেও মুজতাবাকে সামনে আনার বিপক্ষে ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি বংশানুক্রমিক শাসনকে প্রকাশ্যে নিন্দা করেছিলেন। তিনি একে রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষণ হিসেবে দেখেছিলেন। তার মতে, এটি বিপ্লবী যুক্তিবোধ ও ইসলামি নীতির পরিপন্থী। তিনি তার ছেলেদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রবেশ করতে বারবার নিষেধ করেছিলেন। ক্ষমতার নৈকট্য ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে বলেও সতর্ক করেছিলেন।
কিন্তু খামেনির হত্যাকাণ্ড এমন এক বাস্তবতা তৈরি করে, যা নিয়ে বহু বিশ্লেষকের আগেই ধারণা ছিল। অনেকের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন, যা শিয়া আত্মত্যাগের আদর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত। তার মৃত্যুর ফলে ছেলের প্রতীকী মর্যাদা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সমালোচনাও মুজতবার পক্ষে উল্টো ফল বয়ে আনে।
তাকে নিয়ে যখন জল্পনা বাড়ছিল, তখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখান। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, “খামেনির ছেলে খুব দুর্বল ধরনের মানুষ।” তিনি তাকে “অগ্রহণযোগ্য” আখ্যা দেন এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তিনি ওয়াশিংটনের দাবির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে রাজি, কিন্তু মুজতবা তা নন। অন্যদিকে ইসরায়েল প্রকাশ্যে ঘোষণা করে, নতুন যেই সর্বোচ্চ নেতাই নির্বাচিত হোক না কেন, তাকেও হত্যা করা হবে।
এই মন্তব্যগুলো শেষ পর্যন্ত উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ইরানের শাসকগোষ্ঠী ট্রাম্প ও ইসরায়েলের মন্তব্যকে জাতীয় অপমান হিসেবে দেখে। তারা নতি স্বীকার না করে উল্টো কঠোর অবস্থান নেয়। ফলে আগের সর্বোচ্চ নেতার বংশানুক্রমিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের আপত্তি সরিয়ে রেখে দ্রুত মুজতাবাকে নির্বাচিত করা হয়।
উত্তরাধিকার নিয়ে প্রতিযোগিতা বহু বছর ধরেই চলছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানির নেতৃত্বে সংস্কারপন্থী ও মধ্যপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন দাবি করে আসছিলেন। তারা মনে করতেন, কট্টরপন্থী মুজতবা জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে পারবেন না এবং অর্থবহ পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করবেন না।
তবে মুজতবার পক্ষে ছিল আরেক শক্তিশালী বলয়। প্রভাবশালী কট্টরপন্থী সাঈদ জলিলির অনুসারী প্রধান নীতিবাদীরা, বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডাররা, বাসিজ নেতৃত্ব এবং শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে সমর্থন দেন। যদিও সবাই একইভাবে একমত ছিলেন না। খামেনির মৃত্যুর পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে এই কট্টরপন্থীরা, বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ড, বিশেষজ্ঞ পরিষদের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রবেশাধিকার পায়। কারণ পরিষদের বহু সদস্য নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিপ্লবী গার্ডের ওপর নির্ভরশীল।
খামেনির মৃত্যুর পর সংস্কারপন্থী ফ্রন্ট বিবৃতি দিয়ে এমন একজন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দাবি জানায়, যিনি প্রায় সবার গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন। ইসলামি ইরানের জাতীয় উন্নয়ন পার্টিও বলেছিল, এমন একজন সর্বজনীন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া দরকার, যিনি বৈশ্বিক সম্পর্ক নিয়ে সচেতন, জাতীয় স্বার্থ ও জনকল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যিনি জাতীয় ঐক্য গঠনের পথ খুলে দিতে পারেন।
কিন্তু তাদের সমস্যা ছিল ভিন্ন জায়গায়। পরিষদের প্রভাবশালী সদস্যদের সঙ্গে তাদের ততটা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না। ফলে ক্ষমতার প্রকৃত কেন্দ্রগুলোর কাছে সরাসরি নিজেদের মত পৌঁছে দেওয়া বা পরিষদের সদস্যদের তদবির করার সুযোগ তাদের হাতে ছিল না।
যুদ্ধের সময় না হলে মুজতাবার নির্বাচন সম্ভবত ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিত। ইরানের নাগরিক সমাজ, খাতামির নেতৃত্বাধীন সংস্কারপন্থীরা এবং রুহানির নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থীরা এটিকে রাজতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন বলে আখ্যা দিতেন। তারা নিশ্চুপ না থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেন। যদিও এই বিক্ষোভ বিশেষজ্ঞ পরিষদের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারত না, তবু তা শাসনব্যবস্থার জন্য বিশাল সংকট তৈরি করত।
কিন্তু যুদ্ধ ও বিমান হামলার বাস্তবতা পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। মধ্যপন্থী অভিজাতরা চাপে পড়ে গেছেন। জনসমক্ষে ভিন্নমত প্রকাশের জায়গাও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কট্টরপন্থীরা তাই বাধাহীনভাবে এগোতে পেরেছে। যে প্রক্রিয়া মূলত সর্বোচ্চ ধর্মীয় যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিল, সেটি এখন অবরুদ্ধ শাসনব্যবস্থাকে রক্ষা করার মরিয়া প্রচেষ্টায় পরিণত হয়েছে। এখন মূল রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হলো ইরানের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব রক্ষা করা। অন্য সব প্রশ্ন আপাতত গৌণ।
ইসরায়েলি হামলায় আহত অবস্থায় সামনে আসা মুজতবা সম্ভবত তার বাবার পথই অনুসরণ করবেন। তবে যুদ্ধকালীন বৈধতা যোগ হওয়ায় তার হাতে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি হতে পারে। তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারে বিপ্লবী গার্ডকে আরও ক্ষমতাশালী করতে পারেন। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারেন। ভিন্নমত, প্রতিবাদ এবং সংস্কারচেষ্টার বিরুদ্ধে দমন আরও তীব্র হতে পারে।
অবশ্য ট্রাম্প বা ইসরায়েলের কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে তাদের হুমকি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে মুজতাবাকেও হত্যা করতে পারেন। কিন্তু তার বাবাকে হত্যা করার পর যেমন শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান হয়নি বা রাষ্ট্র ভেঙে পড়েনি, তেমনি মুজতাবার অনুপস্থিতিও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ঘোষিত যুদ্ধলক্ষ্য পূরণ করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং এর উল্টো ফল হতে পারে।
এতে শাসনব্যবস্থার ধর্মীয় সমর্থন আরও শক্তিশালী হতে পারে, সামরিক নেতারা যুদ্ধ আরও জোরালোভাবে চালিয়ে যেতে পারেন, এবং মুসলিম বিশ্বের শিয়া সমাজে এর গভীর প্রতিধ্বনি তৈরি হতে পারে। বহু শিয়া এটিকে বিদেশি শক্তির হাতে নিজেদের ওপর নতুন নিপীড়নের উদাহরণ হিসেবে দেখবে। এই বয়ান তাদের ইতিহাসে বহু পুরোনো, যা ষষ্ঠ শতকের উমাইয়া আমল পর্যন্ত প্রসারিত।
এমনকি যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বকে ধারাবাহিকভাবে হত্যা এবং আশা করে যে একসময় ইরান আর বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজে পাবে না, তবুও রাষ্ট্রটি সহজে ভেঙে পড়বে না। কারণ ইরানে উত্তরাধিকার পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে করা আছে, আর বিপ্লবী গার্ডের কাঠামোও বিকেন্দ্রীভূত। ফলে বিকল্প ব্যবস্থার যথেষ্ট জায়গা রয়েছে।
এমন একটি পরিস্থিতিও অসম্ভব নয়, যেখানে বিপ্লবী গার্ড পুরোপুরি বিলায়াত-ই-ফকিহ পদ্ধতিকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে নেবে। তখন দেশটি ধর্মীয় আবরণ বজায় না রেখেও এক ধরনের সামরিক একনায়কতন্ত্রে রূপ নিতে পারে।
(ফরেন অ্যাফেয়ার্সে প্রকাশিত ইরানি সাংবাদিক আকবর গাঞ্জির ‘দ্য নিউ খামেনি’ শিরোনামের বিশ্লেষণমূলক লেখাটির অনুবাদ করেছেন মাহবুব তারেক)

বাংলাদেশে যদি সঠিকভাবে জাকাত আদায় ও বণ্টন করা যায়, তাহলে মাত্র সাত থেকে দশ বছরের মধ্যেই দেশ থেকে দারিদ্র্য অনেকটাই দূর করা সম্ভব। এটি কোনো কল্পনা নয়, বরং একটি বাস্তবসম্মত হিসাব। বাংলাদেশে জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন ২০২৩ বিদ্যমান রয়েছে, কিন্তু এর কার্যকর প্রয়োগ প্রায় দেখা যায় না।
১৭ ঘণ্টা আগে
পারস্য উপসাগরজুড়ে যুদ্ধের দামামার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম ধাক্কা এসে লেগেছে তেলের বাজারে। তবে এর সুদূরপ্রসারী ধাক্কা হয়তো বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থার মূলে আঘাত হানবে। গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে আন্তর্জাতিক আর্থিক শৃঙ্খলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যের অলিখিত চুক্তির ওপর টিকে আছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
খাল খনন কর্মসূচির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি এর বাস্তবায়নে চরম পেশাদারত্বের পরিচয় দিতে হবে। খাল খননের পূর্বশর্ত হিসেবে হাইড্রোলজিক্যাল সার্ভে ও সারফেস ওয়াটার ডিস্ট্রিবিউশনের ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ 'মাস্টার প্ল্যান' প্রণয়ন করতে হবে।
২ দিন আগে
বাংলাদেশে ডিজিটাল শাসনের পথচলা এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। আর এর অন্যতম ভিত্তি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ (পিডিপিও) ২০২৫ এবং পরবর্তী ২০২৬ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি।
২ দিন আগে