ধরনায় মমতার গর্জন, জীবন থাকলে বিজেপিকে সরাবই

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ধর্মতলায় ওয়াই-চ্যানেলে ধরনা মঞ্চে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুক থেকে নেওয়া ছবি

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে ধরনা পালন করেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে ধর্মতলায় ওয়াই-চ্যানেলে ধরনা মঞ্চে তিনি বলেন, ‘যদি বেঁচে থাকি, বিজেপিকে সরাবই।’

রানি রাসমণি রোডে এই কর্মসূচির অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় কলকাতা পুলিশ। এমনকি সভামঞ্চ এবং মাইক্রোফোন ব্যবহারেও বাধা দেয়। হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দেন মমতা ব্যানার্জি। গ্রেপ্তার হতে প্রস্তুত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘লড়াই করব, নয়তো মরব।’

এ সময় ক্ষমতাসীন বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হুঁশিয়ারি করে মমতা বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্র এবং সংবিধানকে বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করবেন না। আমাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবেন না।’

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি এবং কল্যাণ ব্যানার্জির ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত তৃণমূলের অন্তত ১২ কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। হাজার হাজার কর্মী বাড়িছাড়া।

অন্যদিকে, রেলওয়ের হকার উচ্ছেদ অভিযানের বিরোধিতা করে সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুনর্বাসন ছাড়া হকারদের উচ্ছেদ করা তৃণমূলের নীতি নয়। আমরা সব সময় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সমস্যার সমাধান করেছি।’

টিএমসি এমপি কল্যাণ ব্যনার্জির অভিযোগ, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উসকানিতে পুলিশি সন্ত্রাস চলছে। কমপক্ষে ৩০ কর্মীকে ইতোমধ্যে হত্যা করা হয়েছে।

মমতার ধরনা ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ইমরান মাসুদ বলেন, ‘বাংলায় কোনো শাসনব্যবস্থা অবশিষ্ট নেই।’ অভিষেক ব্যানার্জির ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠান।

তবে বিজেপির রাজ্য নেতা রাহুল সিনহা এবং লকেট চ্যাটার্জি এই আন্দোলনকে ‘লোকদেখানো তামাশা’ অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, অভিষেক ব্যানার্জির ওপর হামলার ঘটনা সাজানো এবং তৃণমূলের রাজনীতি এখন শেষের পথে।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার, দ্য হিন্দু ও হিন্দুস্থান টাইমস

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত