leadT1ad

গাজার শাসন দেখভালে ‘শান্তি বোর্ডে’ ব্লেয়ার-রুবিওসহ যারা আছেন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ১০
মার্ক রুবিও (বাঁ থেকে), টনি ব্লেয়ার ও জারেড কুশনার। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজায় শান্তি ফেরানোর জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ‘টেকনোক্র্যাট’ প্রশাসন তদারকির জন্য আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি বোর্ড সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নাম ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই বোর্ডের চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনারও ওই বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী হিসেবে থাকবেন।

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বোর্ড গঠনা করা হয়েছে। এই বোর্ড সাময়িকভাবে গাজার শাসন পরিচালনা এবং পুনর্গঠন দেখভাল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ডে আরও আছেন একটি বেসরকারি ইকুইটি ফার্মের প্রধান মার্ক রোয়ান, বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান অজয় বাঙ্গা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি সদস্যের ‘গাজার স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ’ দায়িত্ব থাকবে। সামনের দিনে বোর্ডের অন্য সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছেন, বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডকে তিনি ‘যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে একত্রিত সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বোর্ড’ বলে অভিহিত করেছেন।

যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার দৈনন্দিন শাসনকাজ পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যের একটি পৃথক টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠনের পরেই শান্তি বোর্ডের এ ঘোষণা আসলো। ওই টেকনোক্র্যাট কমিটির নাম হলো ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি)। এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সাবেক উপমন্ত্রী আলী শাথ।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এছাড়া বুলগেরিয়ান রাজনীতিবিদ এবং জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত নিকোলে ম্লাদেনভ এনসিএজির সঙ্গে শান্তি বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজায় একটি ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ (আইএসএফ) মোতায়েন করা হবে। এই বাহিনী যাচাইকৃত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফারস এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন। বাহিনীটির লক্ষ্য হবে গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।

গত অক্টোবর থেকে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে এটি দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। এই ধাপে গাজার পুনর্গঠন এবং হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

উইটকফ সতর্ক করে বলেছেন, হামাসকে অবশ্যই তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করতে হবে, যার মধ্যে সর্বশেষ ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমানে গাজার যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৪৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একই সময়ে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর হামলায় তাদের ৩ জন সৈন্য নিহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের হামাসেয় এ পর্যন্ত গাজায় ৭১ হাজার ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বর্তমানে সেখানে মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত