রাতুল আল আহমেদ

সারাদিনের কাজ শেষে রাতে বিছানায় শুয়ে মোবাইল হাতে নিলেই অনেক সময় অবচেতনভাবেই ঢুকে পড়ি ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে। সেখানে দেখি কেউ হয়ত বালির সমুদ্রসৈকতে সূর্যাস্ত দেখার ছবি দিচ্ছে, কেউ নতুন কেনা দামি গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে হাসছে, আবার কেউ নিখুঁতভাবে সাজানো রান্নাঘরে বিদেশি কোনো ডিশ বানাচ্ছে।
তখন নিজের অগোছালো ঘর আর একঘেয়ে জীবনের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ এক ধরনের তীব্র বিষণ্নতা চেপে বসে। মনে হয়—সবাই কত সুখে আছে, কত সার্থক তাঁদের জীবন, আর আমি পড়ে আছি সেই একই একঘেয়ে জীবনে।
এই অনুভূতিটা আমার একার নয়। অনেকেই বন্ধুমহলে আড্ডায় এমন কথা বলে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই হীনম্মন্যতা এখন খুব সাধারণ বিষয়। আমরা কখনো এটাকে ঈর্ষা বলি, কখনো আবার নিজের অযোগ্যতা ভেবে নিজেকেই দোষারোপ করি। কিন্তু মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, এর পেছনে আছে সুস্পষ্ট কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
এর পেছনের ব্যাখ্যা খুজতে গেলে তাকাতে হয় ১৯৫৪ সালে মনোবিজ্ঞানী লিওন ফেস্টিঞ্জারের প্রস্তাবিত ‘সোশ্যাল কম্পারিজন থিওরি’র দিকে। ফেস্টিঞ্জার দেখিয়েছিলেন, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে নিজের সামাজিক অবস্থান যাচাই করা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই তুলনা যখন নিজের চেয়ে 'বেশি সফল' বা সুখী মনে হওয়া কারো সঙ্গে হয়, তখন তা রূপ নেয় ‘আপওয়ার্ড সোশ্যাল কম্পারিজন’–এ।
ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ঊর্ধ্বমুখী তুলনা মানুষের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় আর মানসিক অস্বস্তি বাড়ায়।
তবে প্রশ্ন হলো, আমরা কেন আমাদের পরিচিত বন্ধুর চেয়ে সম্পূর্ণ অপরিচিত ইনফ্লুয়েন্সারদের জীবন দেখে বেশি প্রভাবিত হই?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে ‘প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ’ তত্ত্বে, যা ১৯৫৬ সালে ডোনাল্ড হর্টন ও রিচার্ড হোল প্রবর্তন করেন। দেখা যায়, ইনফ্লুয়েন্সাররা এমনভাবে কথা বলেন, এমনভাবে নিজেদের গল্প বলেন, যেন তাঁরা আমাদের খুব পরিচিত। যেন আমাদেরই আশেপাশের চেনা কোনো মানুষ। ফলে আমাদের মস্তিষ্ক অজান্তেই তাঁদের জীবনকে নিজের জীবনের মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক হিসেবে ধরে নেয়।
এদিকে কার্লটন ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা হলিউড তারকাদের বিলাসী জীবন দেখে যতটা না ঈর্ষান্বিত হই, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবিত হই একজন ইনফ্লুয়েন্সারের জীবন দেখে। কারণ মনে হয়—’সে তো আমার মতোই ছিল, সে পারলে আমি পারছি না কেন?’ কিন্তু আমরা ভুলে যাই, তাঁরা যা দেখাচ্ছে তা তাঁদের জীবনের পূর্ণ চিত্র নয়, বরং একটি পেশাদারভাবে সাজানো ‘কিউরেটেড রিয়ালিটি’। হাজারটা সাধারণ মুহূর্তের ভিড় থেকে বেছে নেওয়া উজ্জ্বল কয়েক সেকেন্ড মাত্র।
এখানে অ্যালগরিদমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
সাইবার-সাইকোলজি বিষয়ক গবেষণায় একে বলা হয় ‘হাইলাইট রিল ইফেক্ট’। আমরা একবার যে ধরনের ঝলমলে জীবন দেখতে শুরু করি, অ্যালগরিদম বারবার আমাদের সামনে ঠিক সেই ধরনের কনটেন্টই হাজির করে। ফলে মস্তিষ্কে ধীরে ধীরে একটি মিথ্যা বাস্তবতা তৈরি হয়। আমাদের মনে হতে থাকে এমন জীবনযাপন আর ঘনঘন ভ্রমণই বুঝি স্বাভাবিক জীবন।
ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই প্রবণতাকে বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যাখ্যা করেছেন। আদিম যুগে গোত্রের ভেতর নিজের সামাজিক অবস্থান বোঝা ছিল টিকে থাকার জন্য জরুরি। আধুনিক যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার কৃত্রিম বাস্তবতা আমাদের সেই আদিম মস্তিষ্ককে বারবার সংকেত দিচ্ছে যে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। এই অনুভূতিই জন্ম দেয় আধুনিক ‘ফোমো’ বা ‘ফিয়ার অব মিসিং আউটের’।
তবে এই মানসিক বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার পথও বিজ্ঞানই দেখিয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার গবেষক মেলিসা হান্টের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় মাত্র ৩০ মিনিটে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে বিষণ্নতা ও একাকিত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মানুষের সঙ্গে সংযোগ, বাস্তব অভিজ্ঞতা, এসবই ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।
সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিতদের জীবন দেখে নিজেকে ছোট মনে করা কোনো ব্যক্তির নিজস্ব দুর্বলতা নয়। এটি আমাদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া। শীতের কুয়াশা যেমন চোখের সামনের জগতকে ঢেকে দেয়, তেমনি স্ক্রিনের ওপার থেকে আসা কৃত্রিম আলো আমাদের জীবনের সাধারণ সৌন্দর্যকে আড়াল করে ফেলে।
ফলে মনে রাখতে হবে আপনি যাকে দেখছেন, সে তাঁর জীবনের পুরো গল্পটি দেখাচ্ছেন না, দেখাচ্ছেম শুধু একটি ফ্রেম। আর অন্যের এডিট করা হাইলাইটের সঙ্গে নিজের অগোছালো, বাস্তব জীবনের তুলনা করা স্রেফ অন্যায়। দিনশেষে জীবনের সার্থকতা লাইক বা কমেন্টে নয় বরং নিজের যাপনের ভেতরের তৃপ্তিতেই।

সারাদিনের কাজ শেষে রাতে বিছানায় শুয়ে মোবাইল হাতে নিলেই অনেক সময় অবচেতনভাবেই ঢুকে পড়ি ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে। সেখানে দেখি কেউ হয়ত বালির সমুদ্রসৈকতে সূর্যাস্ত দেখার ছবি দিচ্ছে, কেউ নতুন কেনা দামি গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে হাসছে, আবার কেউ নিখুঁতভাবে সাজানো রান্নাঘরে বিদেশি কোনো ডিশ বানাচ্ছে।
তখন নিজের অগোছালো ঘর আর একঘেয়ে জীবনের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ এক ধরনের তীব্র বিষণ্নতা চেপে বসে। মনে হয়—সবাই কত সুখে আছে, কত সার্থক তাঁদের জীবন, আর আমি পড়ে আছি সেই একই একঘেয়ে জীবনে।
এই অনুভূতিটা আমার একার নয়। অনেকেই বন্ধুমহলে আড্ডায় এমন কথা বলে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই হীনম্মন্যতা এখন খুব সাধারণ বিষয়। আমরা কখনো এটাকে ঈর্ষা বলি, কখনো আবার নিজের অযোগ্যতা ভেবে নিজেকেই দোষারোপ করি। কিন্তু মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, এর পেছনে আছে সুস্পষ্ট কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
এর পেছনের ব্যাখ্যা খুজতে গেলে তাকাতে হয় ১৯৫৪ সালে মনোবিজ্ঞানী লিওন ফেস্টিঞ্জারের প্রস্তাবিত ‘সোশ্যাল কম্পারিজন থিওরি’র দিকে। ফেস্টিঞ্জার দেখিয়েছিলেন, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে নিজের সামাজিক অবস্থান যাচাই করা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই তুলনা যখন নিজের চেয়ে 'বেশি সফল' বা সুখী মনে হওয়া কারো সঙ্গে হয়, তখন তা রূপ নেয় ‘আপওয়ার্ড সোশ্যাল কম্পারিজন’–এ।
ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ঊর্ধ্বমুখী তুলনা মানুষের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় আর মানসিক অস্বস্তি বাড়ায়।
তবে প্রশ্ন হলো, আমরা কেন আমাদের পরিচিত বন্ধুর চেয়ে সম্পূর্ণ অপরিচিত ইনফ্লুয়েন্সারদের জীবন দেখে বেশি প্রভাবিত হই?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে ‘প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ’ তত্ত্বে, যা ১৯৫৬ সালে ডোনাল্ড হর্টন ও রিচার্ড হোল প্রবর্তন করেন। দেখা যায়, ইনফ্লুয়েন্সাররা এমনভাবে কথা বলেন, এমনভাবে নিজেদের গল্প বলেন, যেন তাঁরা আমাদের খুব পরিচিত। যেন আমাদেরই আশেপাশের চেনা কোনো মানুষ। ফলে আমাদের মস্তিষ্ক অজান্তেই তাঁদের জীবনকে নিজের জীবনের মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক হিসেবে ধরে নেয়।
এদিকে কার্লটন ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা হলিউড তারকাদের বিলাসী জীবন দেখে যতটা না ঈর্ষান্বিত হই, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবিত হই একজন ইনফ্লুয়েন্সারের জীবন দেখে। কারণ মনে হয়—’সে তো আমার মতোই ছিল, সে পারলে আমি পারছি না কেন?’ কিন্তু আমরা ভুলে যাই, তাঁরা যা দেখাচ্ছে তা তাঁদের জীবনের পূর্ণ চিত্র নয়, বরং একটি পেশাদারভাবে সাজানো ‘কিউরেটেড রিয়ালিটি’। হাজারটা সাধারণ মুহূর্তের ভিড় থেকে বেছে নেওয়া উজ্জ্বল কয়েক সেকেন্ড মাত্র।
এখানে অ্যালগরিদমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
সাইবার-সাইকোলজি বিষয়ক গবেষণায় একে বলা হয় ‘হাইলাইট রিল ইফেক্ট’। আমরা একবার যে ধরনের ঝলমলে জীবন দেখতে শুরু করি, অ্যালগরিদম বারবার আমাদের সামনে ঠিক সেই ধরনের কনটেন্টই হাজির করে। ফলে মস্তিষ্কে ধীরে ধীরে একটি মিথ্যা বাস্তবতা তৈরি হয়। আমাদের মনে হতে থাকে এমন জীবনযাপন আর ঘনঘন ভ্রমণই বুঝি স্বাভাবিক জীবন।
ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই প্রবণতাকে বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যাখ্যা করেছেন। আদিম যুগে গোত্রের ভেতর নিজের সামাজিক অবস্থান বোঝা ছিল টিকে থাকার জন্য জরুরি। আধুনিক যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার কৃত্রিম বাস্তবতা আমাদের সেই আদিম মস্তিষ্ককে বারবার সংকেত দিচ্ছে যে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। এই অনুভূতিই জন্ম দেয় আধুনিক ‘ফোমো’ বা ‘ফিয়ার অব মিসিং আউটের’।
তবে এই মানসিক বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার পথও বিজ্ঞানই দেখিয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার গবেষক মেলিসা হান্টের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় মাত্র ৩০ মিনিটে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে বিষণ্নতা ও একাকিত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মানুষের সঙ্গে সংযোগ, বাস্তব অভিজ্ঞতা, এসবই ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।
সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিতদের জীবন দেখে নিজেকে ছোট মনে করা কোনো ব্যক্তির নিজস্ব দুর্বলতা নয়। এটি আমাদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া। শীতের কুয়াশা যেমন চোখের সামনের জগতকে ঢেকে দেয়, তেমনি স্ক্রিনের ওপার থেকে আসা কৃত্রিম আলো আমাদের জীবনের সাধারণ সৌন্দর্যকে আড়াল করে ফেলে।
ফলে মনে রাখতে হবে আপনি যাকে দেখছেন, সে তাঁর জীবনের পুরো গল্পটি দেখাচ্ছেন না, দেখাচ্ছেম শুধু একটি ফ্রেম। আর অন্যের এডিট করা হাইলাইটের সঙ্গে নিজের অগোছালো, বাস্তব জীবনের তুলনা করা স্রেফ অন্যায়। দিনশেষে জীবনের সার্থকতা লাইক বা কমেন্টে নয় বরং নিজের যাপনের ভেতরের তৃপ্তিতেই।

কিংবদন্তি অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির মারা গেছেন। কলকাতার সিনেমায় সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ থাকলেও ‘মিস ক্যালকাটা’ খ্যাত এই নায়িকার জীবনে বড় পরিবর্তন আসে, যখন সত্যজিৎ রায় তাঁকে বাংলাদেশের নির্মাতা আলমগীর কবিরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আলমগীর কবিরের নির্দেশনায় তিনি বেশ কিছু কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
গত ৮ জানুয়ারি নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করেছে ব্যান্ডদল ‘সোনার বাংলা সার্কাস’। ইতিমধ্যে ‘মহাশ্মশান’ নামের এই ডাবল অ্যালবামটি শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। অ্যালবাম তৈরির গল্প নিয়ে লিখেছেন এই ব্যান্ডের গিটারিস্ট, গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডজয়ী মিউজিশিয়ান শ্বেত পান্ডুরাঙ্গা ব্লুমবার্গ। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন
২১ ঘণ্টা আগে
আজ ১৫ জানুয়ারি কবি নাজিম হিকমতের জন্মদিন। তাঁর জীবনের ১৭ বছরই কেটেছে স্বৈরশাসকের কারাগারে বন্দী হয়ে। এক সময় প্রাণশঙ্কায় তিনি নির্বাসিত হয়ে পাড়ি জমান রাশিয়ায়। তুরস্কের সরকার নাগরিকত্ব বাতিল করে তাঁকে চিরতরে নিষিদ্ধ করেছিল।
১ দিন আগে
আজ ১৪ জানুয়ারি পৌষ মাসের শেষ দিনে পুরান ঢাকায় পালিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব। কবে ও কীভাবে এই উৎসব শুরু হয়েছিল? কেন পুরান ঢাকায় পালিত হয়?
২ দিন আগে