leadT1ad

নতুন প্ল্যাটফর্ম এনপিএ, তিন মুখপাত্রসহ ১০১ জনের কমিটি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

‘বাংলাদেশপন্থী বামধারার’ নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) আত্মপ্রকাশ। স্ট্রিম ছবি

যাত্রা শুরু করল ‘বাংলাদেশপন্থী বামধারার’ নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘নতুন রাজনৈতিক প্রয়াস’ প্রতিপাদ্যে প্ল্যাটফর্মটি আত্মপ্রকাশ করে।

অনুষ্ঠানে এনপিএর মুখপাত্র হিসেবে তুহিন খান, ফেরদৌস আরা রুমি ও নাজিয়া জান্নাতের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে ১০১ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটি তাদের কার্যক্রম চালাবে বলে জানানো হয়।

আত্মপ্রকাশের আগেই প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। উদ্যোক্তাদের অন্যতম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মীর হুযাইফা আল মামদূহ গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) স্ট্রিমকে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশপন্থী বামধারার’ নতুন রাজনৈতিক এই প্ল্যাটফর্মে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্ব জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছেড়ে আসা কয়েকজন থাকবেন।

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘১৬ জানুয়ারি রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে নতুন এই প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা হবে। একটি বাংলাদেশপন্থী বামধারার রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করবে প্ল্যাটফর্মটি।’ তবে শুক্রবার সরেজমিন অনুষ্ঠানে এনসিপি ছেড়ে আসা শীর্ষস্থানীয় কাউকে দেখা যায়নি।

এনপিএর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেন নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। স্ট্রিম ছবি
এনপিএর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেন নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। স্ট্রিম ছবি

জাতীয় সংগীতে শুরু হয় এনপিএর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান। পরে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পাঁচ মূলনীতি এবং সাত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এনপিএ তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ সুরক্ষাই তাদের মূলমন্ত্র।

অনুষ্ঠানে নতুন এই রাজনৈতিক প্রয়াসের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন উদ্যোক্তারা। প্ল্যাটফর্মের অন্যতম মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিবর্তন এবং জনগণের মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুধু অতীতের অর্জন রক্ষার প্রশ্ন নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ নির্মাণের অপরিহার্যতা। এনপিএ সেই পথচলার একটি সার্বজনীন প্ল্যাটফর্ম হতে চায়।’

অনুষ্ঠানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আসা সোয়েব মাহমুদ স্ট্রিমকে বলেন, এপিএর উদ্যোক্তাদের অনেককে আমি চিনি। বিভিন্ন মিছিলে হেঁটে এই পরিচয়। আমি বিশ্বাস করি, একসঙ্গে মিছিল করা মানুষ কখনো প্রতারণা করে না। পচে যাওয়া রাজনীতির দেশে তারা ভালো কিছু করবেন, আমি আশাবাদী।

রাজধানীর মিরপুর থেকে আসা মোহাম্মদ হাফিজ বলেন, বিভিন্ন দল থেকে আসা লোকেরা নতুন দল করছেন। তাদের শুভ কামনা জানাতে এসেছি। ভালো কিছু করুক, তা চাই।

স্বাগত বক্তব্যে অন্যতম উদ্যোক্তা অনিক রায় বলেন, ‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠিত। ১৯৭১ আমাদের রাষ্ট্রের জন্মভিত্তি। ১৯৪৭ বা ’৯০ এর লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর নাগরিকরা রাষ্ট্রের কাঠামোগত এবং প্রচলিত অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কারের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি, এই মৌলিক প্রশ্নগুলো এখন পর্যন্ত অনেকাংশে উপেক্ষিত। যেসব তরুণ সংস্কারের দুর্দমনীয় আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে, তাদের অনেকেই আজ পুরাতন বন্দোবস্তের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্কের কোনো রূপান্তর ঘটেনি। সংস্কার প্রক্রিয়া অভিজাত শ্রেণির মধ্যে আপস-রফার একটি প্রক্রিয়ায় পর্যবসিত হয়েছে। জুলাইয়ের প্রজন্ম এই পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছে। কিন্তু করণীয় কী তা বুঝতে পারেনি। জুলাই পরবর্তী রাজনৈতিক করণীয় হাজিরের জন্যই আজকের এই যাত্রা। আমরা রাজনীতিকে শুধু ভাবাদর্শিক লড়াইয়ে পরিণত করতে চাই না। আবার ওয়েলফেয়ারের নামে পেট্রন-ক্লায়েন্টভিত্তিক রাজনীতিও লক্ষ্য নয়। আমরা চাই– রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের মৌলিক রূপান্তর। আমরা চাই– একটি মানবিক রাষ্ট্র, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, ন্যায্য অর্থনীতি এবং সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন।’

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে অনিক বলেন, ‘আপনারা এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, ’৭১ এর অধরা যে স্বপ্ন, সেসব বাস্তবায়নে অংশীদ্বার হবেন আশা করি। আমরা অনেক দ্রুত কিছু করে ফেলতে চাই না। খুব কম সময়ের মধ্যে আমরা অনেক কিছু জয় করতে চাই না। কারণ আমরা জানি, আমাদের এই লড়াই দীর্ঘ।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি ন্যায্য, মানবিক, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব। আমাদের এই লড়াইয়ে থাকবেন, প্রতিনিয়ত আমাদের সমালোচনা করবেন, পরামর্শ দিবেন। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য, তাদের প্রত্যেক নাগরিকের পরামর্শ ও তাদের সুপারিশের ওপরে এই প্ল্যাটফর্ম চলবে।’

ঘোষণা দিলেও আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এনসিপি ছেড়ে আসা শীর্ষস্থানীয় কাউকে দেখা যায়নি। স্ট্রিম ছবি
ঘোষণা দিলেও আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এনসিপি ছেড়ে আসা শীর্ষস্থানীয় কাউকে দেখা যায়নি। স্ট্রিম ছবি

কারা আছেন কমিটিতে

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এনপিএর ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে আছেন অনার্য মুর্শিদ, তাহসিন আহমেদ অমি, মো. হাসিব, অনিক রায়, তুহিন খান, মোশারফ আরা শিমুল, অনিকেত চ্যাটার্জি, নজরুল ইসলাম, মোহন বড়ুয়া, অনিন্দা পণ্ডিত, নাজমুল আহমেদ, রঞ্জন কুমার দে, অনিরুদ্ধ রতন দাস, নাজিফা জান্নাত, রহমত উল আলম, অনুপম সৈকত শান্ত, নাফিসা রায়হানা, রাজীব চক্রবর্তী সুকান্ত, অপু সাহা, নাশিদ মনসূর, রাফসান আহমেদ, অমর্ত্য রায়, নাসিরউদ্দিন টগর, রাশেদুল কবীর রাফি, অলিভিয়র সান, নিসর্গ নিলয়, রাহাত মুস্তাফিজ, অলীক মূ, নীলা চাকমা, রাহুল দাস, আফছাল হোসেন, নুমান আহমাদ চৌধুরী, রিয়াদুস সালেহীন জাওয়াদ, আতিকুর রহমান আতিক, পারভেজ আলম, রেজওয়ান আমীন, আহ্নিতা কবির, পুন্নি কবির, রেজাউর রহমান রিন্টু, আলমগীর কবির মিথুন, ফজলে রাব্বী খান তাজ, রৌদ্র তাপসী, আসাদ রেহমান, ফয়জুল্লাহ নানান, শমী হোসেন, আশিকুর রহমান অনিক, ফরহাদ নাইয়া, শামীম আরা নীপা, আহমেদ আন-নাবা, ফারিয়া জামান নিকি, শেখ ফাতেমা খায়রুন, ইমতিয়াজ নাঈভী, ফেরদৌস আরা রুমী, সমীর সরকার, ইরফান আহমেদ, বাকী বিল্লাহ, হাসান ইকবাল সজীব, ইলোরা সুলতানা, বিনয় আমিন, সমীর সরকার, ঋদ্ধ রহমান, মঞ্জুরুল ইসলাম শুদ্ধ, সজীব তনভীর, কাওসার শাকিল, মনোয়ার হোসেন নাইম।

কমিটিতে আরও আছেন, সাখাওয়াত ফাহাদ, কাওসার হামিদ, মতিন আহমেদ, সাদ আহমেদ, কে এম সুফিয়ান, মাহবুবুর রহমান, সাদিক মোহাম্মদ আলম, কৌশিক আহমেদ, মামুনুর রশিদ, সামি মোহাম্মদ, খালিদ হাসান আলো, মারুফ বিল্লাহ তন্ময়, সালেহ রাব্বি, জাকারিয়া হোসেইন, মাসুদ রানা, সেতু আরিফ, জান্নাতুল মাওয়া আইনান, মিম আরাফাত মানব, সৈয়দা নীলিমা দোলা, জাহিদ জামিল, মিতা নাহার, সোনিয়া আফরোজ যূথী, জাহিদ হোসেন ইনকিয়াদ, মীর মোকাররম শুভ, সৌরভ দেব, টিপু গোস্বামী, মীর হুযাইফা আল-মামদূহ, হাবিব ইমরান জনি, তসলিম আহমেদ, মুকুল ইসলাম, হাসান সালিহি, তাসলিমা মিজি, মুশফিকুর রহমান, হাসান সোলাইমান, তাহমীদুর আর চৌধুরী ও মেঘমল্লার বসু প্রমুখ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত