নৌপথের নিরাপত্তায় কতটা সক্ষম বাংলাদেশ-সৌদিসহ ১৩ দেশের জোট

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

বাব এল-মান্দেব। ছবি: সংগৃহীত

লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের সমন্বয়ে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিতে এই জোট গঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের জেদ্দায় জোটের তৃতীয় বৈঠক শেষে জানানো হয়, যৌথ ঘোষণাপত্রে ১৫টি দেশ স্বাক্ষর করছে। তবে বাংলাদেশ, বাহরাইন, কোমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক এবং ইয়েমেন—এই ১৩টি দেশ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জোটের সনদে স্বাক্ষর করেছে।

এর আগে গত ৩০ জুলাই যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে এই জোট গঠনের ঘোষণা হয়েছিল।

জোটের যৌথ নৌ-প্রতিরক্ষা পরিচালনা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং অভিযান পরিচালনায় রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে প্রধান কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই জোটের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া, কৌশলগত পরিকল্পনা উন্নয়ন এবং সমন্বিত নৌ-অভিযান পরিচালনা করা হবে।

কতটা কাজে আসবে?

উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার মাঝেই এই জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেবে সৌদির পতাকাবাহী জাহাজ ও তেলের অবকাঠামোগুলোতে বারবার হামলা চালিয়েছে।

লোহিত সাগর থেকে এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক পথ বাব এল-মান্দেব। হুতিরা এই পথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে শঙ্কা রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগি আল জাজিরাকে জানান, এই নতুন সামুদ্রিক জোটের গুরুত্ব নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে তার ওপর। তিনি জানান, অতীতে এডেন উপসাগরে জলদস্যুতাবিরোধী রাজনৈতিক উদ্যোগ দেখা গেলেও সেগুলোর অনেকগুলোই বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। এই জোটের মাধ্যমে হুতিদের প্রতিহত করতে চাইছে সৌদি আরব। এর পাশাপাশি এটি যে কেবল তাদের একার সমস্যা নয়, বরং আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন ও বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি—সেই বৈশ্বিক বার্তাও তারা পৌঁছে দিতে চাইছে।

আহমেদ নাগি আরও বলেন, এটি মূলত 'প্রতিরক্ষামূলক জোট' এবং এখনই হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি এই জোট মাঠে নামবে এমন ইঙ্গিত মেলেনি। তবে হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে জোট সেই সামরিক পদক্ষেপে আইনি ও আন্তর্জাতিক ভিত্তি জোগাবে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত