স্ট্রিম ডেস্ক

আলোচনার জন্য পরবর্তী গন্তব্যস্থল কাতারের রাজধানী দোহায় যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল। আজই (৩০ জুন) তারা দেশটিতে পৌঁছাবেন। তবে দুপক্ষের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বৈঠকের সম্ভাবনার কথা জানালেও তা সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান।
সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ভালো অবস্থানে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, 'দোহার বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণও হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। দেখা যাক কী হয়। সামরিক দিক থেকে আমরা প্রায় জিতেই গেছি। এখন মূল বিষয় ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। আমরা চাই না তারা পারমাণবিক অস্ত্র পাক। তারা সেটিতে সম্মত হয়েছে।'
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই বৈঠকের বিষয়টি নাকচ করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পর্যায়ের বৈঠকের সূচি নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে ইরানের কারিগরি প্রতিনিধিদল কাতারে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সফরের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
বাঘাই বলেন, 'এ মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নিজেদের দাবিগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।'
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারকে আলোচনার জন্য দোহায় পাঠাচ্ছেন। অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের প্রতিনিধিদলের সফর কেবল সমঝোতা বাস্তবায়নের কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে।
যুদ্ধ বন্ধে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ৬০ দিনের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে এমওইউ বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ করেছে।
এমনকি হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগে সম্প্রতি ইরানের ১০টির বেশি স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে রোববার কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই দেশের সম্পর্ক এখনো নাজুক।
মার্কিন কংগ্রেসেও বিষয়টি নিয়ে বিভক্তি স্পষ্ট। সোমবার উইটকফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফোনে কংগ্রেস সদস্যদের ইরান পরিস্থিতি নিয়ে অবহিত করেন। তবে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার আলোচনাকে 'অপ্রতুল ও তথ্যহীন' বলে সমালোচনা করেছেন।
তাঁর ভাষায়, 'আমেরিকাকে একটি ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়ানোর পর ট্রাম্প প্রশাসন এখনো বলতে পারছে না বিনিময়ে কী পাওয়া গেছে। উল্টো ইরান তেল রপ্তানি থেকে বিলিয়ন ডলার আয় করবে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ঝুঁকিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণও বজায় রাখবে।'
ইরানের দাবি, সমঝোতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে দেশটির তেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিয়েছে এবং বিদেশে জব্দ থাকা অর্থ ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
সোমবার প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানান, কাতারে জব্দ থাকা তেহরানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের মধ্যে প্রথম ধাপে ৬০০ কোটি ডলার ছাড় হবে। তিনি এই সমঝোতাকে ইরানি জনগণের জন্য 'বড় বিজয়' বলে অভিহিত করেন।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সোমবার জানান, উত্তেজনা প্রশমনে তিনি ওমানের সঙ্গে কাজ করছেন এবং মাইন অপসারণে অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।
তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জবাবে বলেছেন, মাইন অপসারণের দায়িত্ব শুধু ইরানের। ফ্রান্সকে বিষয়টি জটিল না করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স ও আলজাজিরা

আলোচনার জন্য পরবর্তী গন্তব্যস্থল কাতারের রাজধানী দোহায় যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল। আজই (৩০ জুন) তারা দেশটিতে পৌঁছাবেন। তবে দুপক্ষের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বৈঠকের সম্ভাবনার কথা জানালেও তা সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান।
সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ভালো অবস্থানে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, 'দোহার বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণও হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। দেখা যাক কী হয়। সামরিক দিক থেকে আমরা প্রায় জিতেই গেছি। এখন মূল বিষয় ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। আমরা চাই না তারা পারমাণবিক অস্ত্র পাক। তারা সেটিতে সম্মত হয়েছে।'
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই বৈঠকের বিষয়টি নাকচ করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পর্যায়ের বৈঠকের সূচি নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে ইরানের কারিগরি প্রতিনিধিদল কাতারে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সফরের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
বাঘাই বলেন, 'এ মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নিজেদের দাবিগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।'
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারকে আলোচনার জন্য দোহায় পাঠাচ্ছেন। অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের প্রতিনিধিদলের সফর কেবল সমঝোতা বাস্তবায়নের কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে।
যুদ্ধ বন্ধে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ৬০ দিনের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে এমওইউ বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ করেছে।
এমনকি হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগে সম্প্রতি ইরানের ১০টির বেশি স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে রোববার কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই দেশের সম্পর্ক এখনো নাজুক।
মার্কিন কংগ্রেসেও বিষয়টি নিয়ে বিভক্তি স্পষ্ট। সোমবার উইটকফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফোনে কংগ্রেস সদস্যদের ইরান পরিস্থিতি নিয়ে অবহিত করেন। তবে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার আলোচনাকে 'অপ্রতুল ও তথ্যহীন' বলে সমালোচনা করেছেন।
তাঁর ভাষায়, 'আমেরিকাকে একটি ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়ানোর পর ট্রাম্প প্রশাসন এখনো বলতে পারছে না বিনিময়ে কী পাওয়া গেছে। উল্টো ইরান তেল রপ্তানি থেকে বিলিয়ন ডলার আয় করবে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ঝুঁকিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণও বজায় রাখবে।'
ইরানের দাবি, সমঝোতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে দেশটির তেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিয়েছে এবং বিদেশে জব্দ থাকা অর্থ ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
সোমবার প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানান, কাতারে জব্দ থাকা তেহরানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের মধ্যে প্রথম ধাপে ৬০০ কোটি ডলার ছাড় হবে। তিনি এই সমঝোতাকে ইরানি জনগণের জন্য 'বড় বিজয়' বলে অভিহিত করেন।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সোমবার জানান, উত্তেজনা প্রশমনে তিনি ওমানের সঙ্গে কাজ করছেন এবং মাইন অপসারণে অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।
তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জবাবে বলেছেন, মাইন অপসারণের দায়িত্ব শুধু ইরানের। ফ্রান্সকে বিষয়টি জটিল না করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স ও আলজাজিরা
.png)

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের বিষয়ে ইরান ও ওমান একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তেহরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। দুই দেশের গঠন করা ‘হরমুজ জয়েন্ট কমিটি’র প্রথম বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তিনি। খবর এএফপির।
২ ঘণ্টা আগে
ইউরোপজুড়ে চলমান দাবদাহে গত ২১ জুন থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সোমবার (২৯ জুন) ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাবে চীন জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাধীন এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়।
১৫ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে কাতারের দোহায় মঙ্গলবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ জুন) ভোরে ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান বৈঠকের অনুরোধ করেছে। আগামীকাল দোহায় বৈঠক হবে!’
১৬ ঘণ্টা আগে