সিনেমাকে রাজনীতিমুক্ত রাখার আহ্বানের প্রতিবাদে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বুকারজয়ী ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায়। এবারের উৎসবের জুরি প্রধান উইম ওয়েন্ডার্সের রাজনৈতিক সিনেমা সংক্রান্ত এই মন্তব্যের প্রতিবাদে গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বার্লিন উৎসব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন এই লেখক।
গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই বছরের সাত সদস্যের আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ডের প্রধান জার্মান পরিচালক উইম ওয়েন্ডার্স বলেছিলেন, ‘আমাদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে হবে। সরাসরি রাজনৈতিক সিনেমা বানালে আমরা রাজনীতির মাঠে ঢুকে পড়ি, কিন্তু শিল্পের কাজ হওয়া উচিত রাজনীতির ভারসাম্য বজায় রাখা। আমাদের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, রাজনীতিবিদদের জন্য নয়।’
আরেক জুরি সদস্য ইভা পুশচিনস্কাও গাজা যুদ্ধ নিয়ে বিচারকদের কাছে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়াকে ‘অন্যায়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
এই মন্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘স্তম্ভিত হওয়ার মতো’ অভিহিত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এ প্রকাশিত এক লেখায় অরুন্ধতী রায় বলেন, ‘শিল্পের কোনো রাজনৈতিক অবস্থান থাকা উচিত নয়—এটি শোনাও বিস্ময়কর। এটি মূলত আমাদের চোখের সামনে ঘটে চলা মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে আলাপ বন্ধ করে দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া। যেখানে লেখক, শিল্পী ও নির্মাতাদের উচিত এই অপরাধ রুখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা, সেখানে এমন মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না।’
উৎসব কর্তৃপক্ষ অরুন্ধতীর এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বলেছে, তাঁর অনুপস্থিতিতে উৎসবটি একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্বের অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হবে। অরুন্ধতী রায়ের লেখা ১৯৮৯ সালের চলচ্চিত্র ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোজ ওয়ানস’ এই উৎসবের ক্লাসিক বিভাগে প্রদর্শিত হওয়ার কথা ছিল।
উল্লেখ্য, গাজা যুদ্ধ নিয়ে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের অবস্থান নিয়ে মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘকাল ধরে সমালোচনা করে আসছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধ বা ইরানের আন্দোলনের ক্ষেত্রে উৎসব কর্তৃপক্ষ যতটা সরব ছিল, গাজা ইস্যুতে তাদের অবস্থানকে ‘দ্বিমুখী’ হিসেবে দেখছেন অনেকে। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতিমধ্যে নেতানিয়াহুসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।