মমতাকে সরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দখল নিল বিদ্রোহীরা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

মমতা ব্যানার্জি। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

মমতা ব্যানার্জিকে সরিয়ে বিধায়ক অরূপ রায়কে ‘তৃণমূল কংগ্রেস’- এর নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছে দলটির বিদ্রোহী অংশ। সোমবার (২২ জুন) কলকাতার নিউটাউনের একটি পাঁচতারকা হোটেলে ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সভায় কণ্ঠভোটে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়। এই অংশ নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছে।

১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে কংগ্রেস ছেড়ে মমতা ব্যানার্জি তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। ২০১১ থেকে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার মসনদ ছাড়তে হয় দলটিকে। নতুন কমিটির মাধ্যমে দলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা ব্যানার্জি এবং তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরি অভিষেক ব্যানার্জিকে একপ্রকার বহিষ্কার করল এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

বিদ্রোহী শিবির দাবি করেছে, দলের অভ্যন্তরীণ ‘সাংবিধানিক সংকট’ নিরসনে এই সভা ডাকা হয়েছিল। সভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পর পর দলের জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করতে হয়। কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর তা করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘সাংগঠনিক কাঠামোর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তা পুনর্গঠন করা হয়নি। তাই এই প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি।’

অরূপ রায়কে (হাওড়া সেন্ট্রালের বিধায়ক) প্রধান করে গঠিত নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ ও সাবিনা ইয়াসমিনকে সহ-চেয়ারম্যান এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আখরুজ্জামান আনসারিকে কোষাধ্যক্ষ মনোনীত করা হয়েছে।

এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর ৮০ জন বিধায়কের ৫৮ জনই মমতাপন্থীদের প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করে ঋতব্রতকে বিরোধী দলীয় নেতার মর্যাদা দিতে সমর্থন জানান। বর্তমানে তাদের পক্ষে প্রায় ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন বলে দাবি বিদ্রোহীদের।

এই কোন্দল শুধু বিধানসভাতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং লোকসভায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সদস্যের ২০ জন দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ নামক একটি দলের সঙ্গে একীভূত হয়েছেন। একইসঙ্গে তারা কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত