যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ১১: ১৩
তেহরানের একটি সমাবেশে স্লোগান দিচ্ছে দেশটির জনগন। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আশা প্রকাশ করেছেন। এদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

সূত্রগুলোর মতে, প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের জন্য তৈরি। তবে এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নেই।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে বলেন, তেহরান দ্রুতই প্রতিক্রিয়া জানাবে। অন্যদিকে ইরান পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র এবং আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম রেজাই প্রস্তাবটিকে ‘বাস্তবতার চেয়ে আমেরিকার ইচ্ছার তালিকা বেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তারা চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। চুক্তি হওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, এটি দ্রুতই শেষ হবে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প বারবার সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও এখনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনও ভিন্ন।

সূত্রগুলো জানায়, একটি এক পাতার সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তের খুব কাছাকাছি। এরপর হরমুজ প্রণালিতে খোলা, ইরানের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হতে পারে।

চুক্তির গুঞ্জনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১১ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য শুরু করা নৌ অভিযান স্থগিত করেন। এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যবহার সীমিত করার পর এই সিদ্ধান্ত আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে সৌদি আরবের অসন্তোষ ছিল। তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।

সূত্রগুলোর মতে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। প্রাথমিক সমঝোতা হলে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির জন্য বিস্তারিত আলোচনা শুরু হতে পারে।

তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের সমর্থন বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রস্তাবে নেই। একই সঙ্গে ইরানের পারমানবিক কর্মসূচি নিয়ে কোন শর্ত যুক্ত করা হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত