তথ্যসূত্র:

হাঙ্গেরির জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের রক্ষণশীল শাসনের অবসান ঘটেছে। রোববার (১২ এপ্রিল) নির্বাচনে রক্ষণশীল ইউরোপপন্থি নেতা পিটার মাজিয়ারের কাছে পরাজিত হয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র অরবান। এই ফলাফল ঘোষণার পর সোমবার ভোরের আলো ফোটার আগেই বুদাপেস্টের রাজপথ পরিণত হয় বিশাল উৎসবে। দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে হাঙ্গেরির তরুণ প্রজন্ম অনুভব করছে এক নতুন ‘মুক্তির স্বাদ’।
ভিক্টর অরবান ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে অন্যতম। অরবানের পতন কেবল হাঙ্গেরির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক প্রভাব বলয়েও এক বড় ধাক্কা। অরবানের রক্ষণশীল নীতি এবং ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দর্শনের মধ্যে এক গভীর সখ্য ছিল। অরবানের এই পরাজয় ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্রে ডানপন্থি জাতীয়তাবাদের প্রভাব হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পিটার মাজিয়ার এখন হাঙ্গেরির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ হিসেবে হাঙ্গেরি এখন রাশিয়ার প্রভাবমুক্ত হয়ে পুনরায় পশ্চিমের মূলধারার রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে ফিরে আসার পথে হাঁটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে, দীর্ঘদিনের স্বৈরতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী শাসনের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন কোনো দেয়ালই তাদের আটকে রাখতে পারে না।
রাজধানী বুদাপেস্টের দানিউব নদীর তীরে সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী নাচ ও গানে মেতে ওঠেন। ভোরের আলোয় বুদাপেস্টের গ্র্যান্ড বুলেভার্ডজুড়ে দেখা যায়, অপরিচিত মানুষ একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন, ক্রমাগত হর্ন বাজিয়ে তাঁদের আনন্দের জানান দিচ্ছেন।

২৫ বছর বয়সী ছিলা বেদেশি নামের এক তরুণী এএফপিকে বলেন, ‘অবশেষে নিজেকে হাঙ্গেরিয়ান হিসেবে পরিচয় দিতে ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে কাঁধ থেকে বিশাল একটি পাথর নেমে গেল।’
পিটার মাজিয়ার: নতুন দিনের দিশারি
বিজয়ী ভাষণে ৪৫ বছর বয়সী পিটার মাজিয়ার তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের ধন্যবাদ। তোমরা নতুন ও সাহসী হাঙ্গেরি গড়ার আশা জাগিয়ে দিয়েছ। তোমরা দেখিয়েছ ভয়ের শাসন কীভাবে ভাঙতে হয়।’
নির্বাচনের আগে থেকেই হাঙ্গেরির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অরবানের প্রতি তীব্র অনাস্থা তৈরি হয়েছিল। জনমত জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ‘মিডিয়ান’-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সীদের ৭৬ শতাংশই সমর্থন জানিয়েছিলেন মাজিয়ারের দল ‘তিসা’-কে। অথচ সরকারি দল ফিদেজের সমর্থক ছিল মাত্র ১০ শতাংশ।
২০১০ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে অরবানের বিরুদ্ধে শিক্ষাক্ষেত্রে অবহেলা এবং স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ ছিল। গত গ্রীষ্মে বুদাপেস্টের বিখ্যাত ‘সিগেট ফেস্টিভ্যাল’-সহ বড় বড় কনসার্টে ‘নোংরা ফিদেজ’ স্লোগান শোনা গিয়েছিল। যদিও অরবান ২৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য আয়কর ছাড়ের মতো কিছু যুব-বান্ধব নীতি প্রচার করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে হাঙ্গেরির তরুণরা অর্থনৈতিক স্থবিরতা, আবাসন সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার অবনতি নিয়ে তীব্র হতাশ ছিল।
পোলিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এডিট জগত-প্রিজিবলস্কা জানান, অরবানের দল তরুণদের জন্য কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারেনি। হাঙ্গেরির তরুণরা প্রথাগত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু মাজিয়ারের নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন সেই হতাশার শক্তিকে ইতিবাচক ও ইউরোপপন্থি প্রগতিশীল বার্তায় রূপান্তরিত করতে পেরেছে।
২৮ বছর বয়সী ট্যাক্সি ড্রাইভার ক্রিস্টোফার মায়ার তাঁর উল্লাসের কথা প্রকাশ করে বলেন, ‘ফিদেজ এই দেশকে দীর্ঘ সময় ধরে দমবন্ধ করে রেখেছিল, ওদের শাসনে নিশ্বাস নেওয়া কঠিন ছিল।’ তবে মাজিয়ারের সামনে চ্যালেঞ্জটাও পাহাড়সম। হাঙ্গেরির রাষ্ট্রীয় কোষাগার কার্যত লুট হয়েছে এবং নতুন সরকারকে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে হবে। মায়ার বলেন, ‘আমি জানি মাজিয়ার সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারবে না, কারণ ফিদেজ রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে গেছে। কাজটা কঠিন, কিন্তু অন্তত আমরা এখন আশা করতে পারি। আজ থেকেই আমাদের ভবিষ্যৎ শুরু।’

হাঙ্গেরির জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের রক্ষণশীল শাসনের অবসান ঘটেছে। রোববার (১২ এপ্রিল) নির্বাচনে রক্ষণশীল ইউরোপপন্থি নেতা পিটার মাজিয়ারের কাছে পরাজিত হয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র অরবান। এই ফলাফল ঘোষণার পর সোমবার ভোরের আলো ফোটার আগেই বুদাপেস্টের রাজপথ পরিণত হয় বিশাল উৎসবে। দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে হাঙ্গেরির তরুণ প্রজন্ম অনুভব করছে এক নতুন ‘মুক্তির স্বাদ’।
ভিক্টর অরবান ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে অন্যতম। অরবানের পতন কেবল হাঙ্গেরির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক প্রভাব বলয়েও এক বড় ধাক্কা। অরবানের রক্ষণশীল নীতি এবং ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দর্শনের মধ্যে এক গভীর সখ্য ছিল। অরবানের এই পরাজয় ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্রে ডানপন্থি জাতীয়তাবাদের প্রভাব হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পিটার মাজিয়ার এখন হাঙ্গেরির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ হিসেবে হাঙ্গেরি এখন রাশিয়ার প্রভাবমুক্ত হয়ে পুনরায় পশ্চিমের মূলধারার রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে ফিরে আসার পথে হাঁটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে, দীর্ঘদিনের স্বৈরতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী শাসনের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন কোনো দেয়ালই তাদের আটকে রাখতে পারে না।
রাজধানী বুদাপেস্টের দানিউব নদীর তীরে সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী নাচ ও গানে মেতে ওঠেন। ভোরের আলোয় বুদাপেস্টের গ্র্যান্ড বুলেভার্ডজুড়ে দেখা যায়, অপরিচিত মানুষ একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন, ক্রমাগত হর্ন বাজিয়ে তাঁদের আনন্দের জানান দিচ্ছেন।

২৫ বছর বয়সী ছিলা বেদেশি নামের এক তরুণী এএফপিকে বলেন, ‘অবশেষে নিজেকে হাঙ্গেরিয়ান হিসেবে পরিচয় দিতে ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে কাঁধ থেকে বিশাল একটি পাথর নেমে গেল।’
পিটার মাজিয়ার: নতুন দিনের দিশারি
বিজয়ী ভাষণে ৪৫ বছর বয়সী পিটার মাজিয়ার তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের ধন্যবাদ। তোমরা নতুন ও সাহসী হাঙ্গেরি গড়ার আশা জাগিয়ে দিয়েছ। তোমরা দেখিয়েছ ভয়ের শাসন কীভাবে ভাঙতে হয়।’
নির্বাচনের আগে থেকেই হাঙ্গেরির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অরবানের প্রতি তীব্র অনাস্থা তৈরি হয়েছিল। জনমত জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ‘মিডিয়ান’-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সীদের ৭৬ শতাংশই সমর্থন জানিয়েছিলেন মাজিয়ারের দল ‘তিসা’-কে। অথচ সরকারি দল ফিদেজের সমর্থক ছিল মাত্র ১০ শতাংশ।
২০১০ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে অরবানের বিরুদ্ধে শিক্ষাক্ষেত্রে অবহেলা এবং স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ ছিল। গত গ্রীষ্মে বুদাপেস্টের বিখ্যাত ‘সিগেট ফেস্টিভ্যাল’-সহ বড় বড় কনসার্টে ‘নোংরা ফিদেজ’ স্লোগান শোনা গিয়েছিল। যদিও অরবান ২৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য আয়কর ছাড়ের মতো কিছু যুব-বান্ধব নীতি প্রচার করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে হাঙ্গেরির তরুণরা অর্থনৈতিক স্থবিরতা, আবাসন সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার অবনতি নিয়ে তীব্র হতাশ ছিল।
পোলিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এডিট জগত-প্রিজিবলস্কা জানান, অরবানের দল তরুণদের জন্য কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারেনি। হাঙ্গেরির তরুণরা প্রথাগত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু মাজিয়ারের নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন সেই হতাশার শক্তিকে ইতিবাচক ও ইউরোপপন্থি প্রগতিশীল বার্তায় রূপান্তরিত করতে পেরেছে।
২৮ বছর বয়সী ট্যাক্সি ড্রাইভার ক্রিস্টোফার মায়ার তাঁর উল্লাসের কথা প্রকাশ করে বলেন, ‘ফিদেজ এই দেশকে দীর্ঘ সময় ধরে দমবন্ধ করে রেখেছিল, ওদের শাসনে নিশ্বাস নেওয়া কঠিন ছিল।’ তবে মাজিয়ারের সামনে চ্যালেঞ্জটাও পাহাড়সম। হাঙ্গেরির রাষ্ট্রীয় কোষাগার কার্যত লুট হয়েছে এবং নতুন সরকারকে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে হবে। মায়ার বলেন, ‘আমি জানি মাজিয়ার সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারবে না, কারণ ফিদেজ রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে গেছে। কাজটা কঠিন, কিন্তু অন্তত আমরা এখন আশা করতে পারি। আজ থেকেই আমাদের ভবিষ্যৎ শুরু।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার পরও বিশ্বশান্তির পক্ষে কথা বলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন পোপ লিও চতুর্দশ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে না জড়িয়ে নিজের অবস্থানে অটল থাকার ঘোষণা দেন তিনি।
৩ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের পরিকল্পনাকে সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, কোনো ধরনের চাপের মুখেই ব্রিটেন এই যুদ্ধে জড়াবে না এবং মার্কিন বাহিনীর নৌ-অবরোধ সমর্থন দেবে না।
৩ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবার কোনো নারীকে প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশটির সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েলকে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেছে।
৭ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিআইএ পরিচালক জন ব্রেনান। তাঁর মতে, ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উগ্র মন্তব্য এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের হুমকি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
৭ ঘণ্টা আগে