চীনের এজেন্ট ছিলেন, স্বীকার করে মার্কিন মেয়রের পদত্যাগ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

আর্কাডিয়ার সাবেক মেয়র আইলিন ওয়াং

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের উপশহর আর্কাডিয়ার মেয়র আইলিন ওয়াং চীনের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তিনি সোমবার (১১ মে) মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ এসব তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াং ২০২০ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চীনের পক্ষে কাজ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বেইজিংপন্থী প্রচারণা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

৫৮ বছর বয়সী ওয়াং ‘ইউএস নিউজ সেন্টার’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালাতেন। ওয়েবসাইটটি চীনা-আমেরিকানদের জন্য সংবাদ প্রকাশের দাবি করলেও সেখানে চীন-সমর্থিত বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করা হতো বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।

প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ইয়াওনিং সানের সঙ্গে যৌথভাবে ওই ওয়েবসাইট চালাতেন ওয়াং। বিদেশি সরকারের অবৈধ এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে সানকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বিচার বিভাগ বলেছে, ওয়াং চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করা নিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। ওই প্রবন্ধটি চীনা কর্মকর্তাদের লেখা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর্কাডিয়া শহরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ;বিবৃতিতে জানানো হয়, ওয়াং সোমবার মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

ওয়াংয়ের আইনজীবী ব্রায়ান এ সান ও জেসন লিয়াং এক বিবৃতিতে বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে করা ভুলের জন্য ওয়াং ক্ষমা চাচ্ছেন। তবে তাদের দাবি, অভিযোগের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওয়াংয়ের দায়িত্ব পালনের কোনো সম্পর্ক নেই।

তারা আরও বলেন, আর্কাডিয়া সম্প্রদায়ের প্রতি ওয়াংয়ের ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা অটুট রয়েছে এবং তিনি সবার সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ আইজেনবার্গ এ ঘটনাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কেবল মার্কিন জনগণের স্বার্থেই কাজ করা উচিত।

চীনা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গোপন রেখে একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করাকে উদ্বেগের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে এমন এক সময়ে এই ঘটনা সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বেইজিংয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকে ইরান, বাণিজ্য ও তাইওয়ান ইস্যু গুরুত্ব পাবে।

সম্পর্কিত