মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই রাজ্যের ৭১৭টি মদের দোকান বন্ধে নির্দেশ বিজয়ের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ১২: ৩৩
তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় রাজ্যজুড়ে ৭১৭টি সরকারি মদ বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। ধর্মীয় স্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ড থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা দোকানগুলো আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির।

সরকারি মালিকানাধীন সংস্থা তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশন (টিএএসএমএসি) পরিচালিত এসব দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তটি বিজয় সরকারের প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেটরির কাজগম (টিভিকে) গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেলেও সরকার গঠনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল। পরে কংগ্রেস, বাম দল ও একটি আঞ্চলিক দলের সমর্থনে তারা সরকার গঠন করে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনকল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে টিএএসএমএসি রাজ্যে প্রায় ৪ হাজার ৭৬৫টি মদের দোকান পরিচালনা করে। যার মধ্যে শত শত দোকান ধর্মীয় স্থান, স্কুল ও বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি অবস্থিত।

তবে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ রাজ্যের মোট আয়ের বড় একটি অংশ আসে মদ বিক্রি থেকে। ২০২৫ সালে টিএএসএমএসির রাজস্ব আয় ৪৮ হাজার কোটি রুপির বেশি ছিল।

‘আসক্তিমুক্ত তামিলনাড়ু’ গড়ে তোলার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজয়ের দল টিভিকে। মদের দোকান বন্ধকে সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে টিএএসএমএসি নিয়ে আগেও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গত বছর সংস্থাটির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে অভিযান চালায়।

ইডি দাবি করে, তারা প্রায় ১ হাজার কোটি রুপি হিসাববহির্ভূত অর্থের সন্ধান পেয়েছে। পাশাপাশি টেন্ডার প্রক্রিয়া, লাইসেন্স বরাদ্দ ও মূল্য নির্ধারণে অনিয়ম এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও আনা হয়।

তবে সেই সময় রাজ্য সরকার এই অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে। কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারেরও অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। তখন কেন্দ্র-রাজ্য ক্ষমতার সীমা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বর্তমানে নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে এটি সামাজিক সংস্কারের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও অন্যদিকে রাজস্ব ক্ষতির শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত