সাংবাদিক হত্যা যুদ্ধাপরাধ, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি সিপিজের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ১৬
ফিলিস্তিনের গাজায় বুধবার আলজাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ ওয়াশাহর গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায়। ছবি: এপি

লেবানন ও ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনে তিন সাংবাদিক নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশিত সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি সুস্পষ্ট অবজ্ঞার শামিল এবং এর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

সিপিজে জানায়, আন্তর্জাতিক আইনে সাংবাদিকরা বেসামরিক নাগরিক হিসেবে সুরক্ষিত। ফলে তাদের লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃত হামলা স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়ে এবং এ ধরনের ঘটনার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

হামলায় নিহত তিন সাংবাদিক হলেন– গাজায় আলজাজিরা মুবাশ্বেরের সংবাদদাতা মোহাম্মদ সামির ওয়াশাহ, লেবাননে সাওত আল-ফারাহের উপস্থাপক ঘাদা দাইয়েখ এবং আল-মানার টিভি, আল-নূর রেডিওর প্রতিবেদক ও উপস্থাপক সুজান খলিল।

তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটিতে ওয়াশাহর গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েল ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে লেবাননে পৃথক হামলায় প্রাণ হারান দাইয়েখ ও খলিল।

সিপিজের পরিসংখ্যান বলছে, গাজা যুদ্ধ ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালে সংঘাত শুরুর পর থেকে সর্বশেষ ঘটনাসহ অন্তত ২৬০ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও সাংবাদিক নিহতের ঘটনা বেড়েছে। শুধু লেবাননেই সাম্প্রতিক সপ্তাহে অন্তত সাত সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন।

সিপিজের আঞ্চলিক পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এই ধরনের প্রাণঘাতী হামলা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং সাংবাদিকদের জন্য আন্তর্জাতিক আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম সুরক্ষার মারাত্মক ব্যর্থতার প্রতিফলন। জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের হামলা আরও বাড়তে পারে।

চলমান হামলা বন্ধে দ্রুত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে সিপিজে বলেছে, গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্য করে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা ও লেবাননে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বৃহত্তর আক্রমণের অংশ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত