মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সম্প্রতি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ার পর তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন।
শনিবার (৭ মার্চ) অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের অংশ হিসেবে দেওয়া এক ভাষণে সাম্প্রতিক সময়ে হামলায় যেসব প্রতিবেশী দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। ইরানের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ করে। এর জেরে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের কিছু হামলা উপসাগরীয় দেশ সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানার সংবাদ পাওয়া যায়। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল মূলত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। তবে এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়।
পেজেশকিয়ান তাঁর ভাষণে আরও জানান, ইরানের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে যোগাযোগের সমস্যার কারণেও কিছু হামলা ঘটতে পারে। এই কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ সেনাবাহিনীকে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ না এলে প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে আর কোনো হামলা চালানো হবে না।
বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, এই ক্ষমা চাওয়ার পেছনে মূল উদ্দেশ্যই হতে পারে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সামরিক নেতৃত্বে বড় ধাক্কা লাগে। কমান্ড কাঠামোও কিছুটা বিঘ্নিত হয়। সেই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও খারাপ হলে ইরান কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে তেহরান এই বার্তা দিয়ে থাকতে পারে।
তবে ইরানের ভেতরেই এই বক্তব্য নিয়ে কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির কিছু কঠোরপন্থী রাজনৈতিক নেতা ও সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, এমন ক্ষমা প্রার্থনা ইরানের অবস্থান দুর্বল হিসেবে দেখাতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। একে তিনি মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের ফল বলে উল্লেখ করেন।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সামরিক সংঘাতের বদলে আলোচনার মাধ্যমেই আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তবে শেষ পর্যন্ত এই ক্ষমা চাওয়া বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে মাঠের পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপর।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা ও রয়টার্স