leadT1ad

যুদ্ধবিরতিতেই হাজার ফিলিস্তিনি হত্যা ইসরায়েলের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ১২: ০৩
ইসরায়েলের হামলায় স্বজনের লাশ নিয়ে আহাজারি ফিলিস্তিনিদের। ছবি: আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ১ হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করেছে ইসরায়েল। অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটির মানবিক পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। খবর আল-জাজিরার।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার (১৭ জুন) জানিয়েছে, চুক্তির পর থেকে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গাজায় মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টাইন্সের (এমএপি) পরিচালক ফিকর শালতুত বলেন, গাজা আরেকটি মর্মান্তিক মাইলফলকে পৌঁছেছে। যাদের বলা হয়েছিল সবচেয়ে খারাপ সময় শেষ হয়ে গেছে, সেই হাজারো মানুষ এখনো তাঁদের স্বজনদের দাফন করছেন।

যুদ্ধবিরতির ফলে বড় ধরনের লড়াই বন্ধ হয়েছে। তবে চুক্তির দ্বিতীয় এবং আরও সংবেদনশীল ধাপ বাস্তবায়নে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। ওই ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের কথা রয়েছে।

অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল গাজায় নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। বর্তমানে তারা গাজা উপত্যকার ৬৪ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এটি চুক্তিতে নির্ধারিত ৫৩ শতাংশের চেয়ে বেশি।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গত শুক্রবার গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের কয়েক ডজন পরিবারকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। ইসরায়েলি বাহিনী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ আরও পশ্চিমে সম্প্রসারণের ইঙ্গিত হিসেবে সেখানে হলুদ রঙের সিমেন্ট ব্লক স্থাপন করে।

এ মাসের শুরুতে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান আল জাজিরাকে বলেন, সংগঠনটি এখনই তাঁদের অস্ত্র হস্তান্তর করবে না। হামাসের সামরিক অস্ত্রভান্ডারের ভবিষ্যৎ অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার পর নির্ধারণ করা হবে।

যুদ্ধবিরতির পর গাজার পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ শুরুর কথা ছিল।

ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২০টি আংশিকভাবে চালু রয়েছে। পুরোপুরি কার্যকর অবস্থায় কোনো হাসপাতালই নেই।

ফিকর শালতুত বলেন, গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধের সময় বিশ্বনেতারা মনে করেছিলেন একটি কাগুজে চুক্তিই জবাবদিহি নিশ্চিত, অবরোধ প্রত্যাহার কিংবা মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিতে যথেষ্ট হবে।

তিনি আরও বলেন, এখনো গাজায় প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত। ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মানবিক সহায়তাকেও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবু বিশ্বনেতারা নীরব।

গাজায় গত বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ভূখণ্ডটির বেশির ভাগ অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত