leadT1ad

ট্রাম্পকে থামাল সৌদি-কাতার জোট, নেপথ্যে কী

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রতীকী ছবি

ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা ঠেকিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও তুরস্কের কূটনৈতিক তৎপরতা। উপসাগরীয় মিত্ররা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বুঝিয়েছেন যে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে ভয়াবহ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে। একসময় তেহরানে সরকার পরিবর্তন কামনা করা আরব নেতারা এখন উল্টো পথে হাঁটছেন। কেন এই পরিবর্তন? এর পেছনে রয়েছে ইসরায়েলি আগ্রাসনের ভয়, আঞ্চলিক অর্থনীতির স্বার্থ এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার কৌশল।

ইসরায়েলি আধিপত্যের ভয়

আরব রাষ্ট্রগুলো গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েলের লাগামহীন তাণ্ডব দেখছে। গাজায় গণহত্যা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে কর্তৃত্ব স্থাপনের পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারে ইসরায়েলি হামলা আরবদের জন্য ছিল চরম সতর্কবার্তা। কাতার আমেরিকার মিত্র হওয়া সত্ত্বেও রেহাই পায়নি। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করছে, ইরান পুরোপুরি ধসে পড়লে এই অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য ইসরায়েলের দিকে হেলে পড়বে। ইসরায়েলের ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা সাম্রাজ্য বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আরব শাসকদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। ইরানে মার্কিন হামলা মানেই ইসরায়েলের একচ্ছত্র আধিপত্যের পথ প্রশস্ত হওয়া, যা আরব রাষ্ট্রগুলো চায় না।

দুর্বল ইরান, কিন্তু পতন কাম্য নয়

২০২৩ সাল থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আমেরিকা-ইসরায়েলের হামলায় ইরান অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতন এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর পর্যুদস্ত হওয়ার পর ইরান এখন আর আরবদের জন্য বড় হুমকি নয়।

১৮ নভেম্বর ওভাল অফিসে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বক্তব্য রাখছেন। ছবি: রয়টার্স।
১৮ নভেম্বর ওভাল অফিসে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বক্তব্য রাখছেন। ছবি: রয়টার্স।

আরব শাসকরা মনে করেন, একটি দুর্বল ইরানকে সামলানো সম্ভব। কিন্তু সামরিক হামলায় ইরান রাষ্ট্র ভেঙে পড়লে ৯ কোটি মানুষের দেশে যে অরাজকতা সৃষ্টি হবে, তার মাশুল দিতে হবে পুরো অঞ্চলকে। শরণার্থীর ঢল এবং জঙ্গিবাদের উত্থান আরব দেশগুলোর জন্যও বিপদ ডেকে আনবে।

অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জ্বালানি নিরাপত্তা

সৌদি আরব তার উচ্চাভিলাষী ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চায়। ইরানে হামলা হলে জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন লাগবে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন হুমকিতে পড়তে পারে। এছাড়া লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালে অস্থিরতা দেখা দিলে মিসরের অর্থনীতিও বিপদে পড়বে। তাই নিজের ঘরের কাছে নতুন করে আগুন চায় না উপসাগরীয় দেশগুলো।

কৌশলগত সম্পর্কের পরিবর্তন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব রাষ্ট্রগুলো কূটনৈতিকভাবে ইরানের কাছাকাছি এসেছে। ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরান সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে। কাতারে ইসরায়েলি হামলার পর রিয়াদ ও তেহরান আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সৌদি আরব একসময় ইরানকে প্রধান শত্রু ভাবলেও এখন ইসরায়েলকেই অঞ্চলের প্রধান অস্থিতিশীল শক্তি হিসেবে দেখছে। আরব নেতারা আশঙ্কা করছেন, তাঁরা হয়তো ইতিমধ্যে ইসরায়েলের ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ মানচিত্রের আওতায় রয়েছেন।

বিক্ষোভে ইসরায়েলি ইন্ধন

ইসরায়েল দাবি করেছে ইরানে মার্কিন হামলার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই। তবে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং ইসরায়েলি মন্ত্রীদের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, ইরানের বিক্ষোভে ইসরায়েলি এজেন্টরা ইন্ধন জোগাচ্ছে। আরব নেতারা মনে করেন, ইসরায়েল বহু বছর ধরেই আমেরিকাকে ইরানে সরকার পরিবর্তনের জন্য উস্কানি দিয়ে আসছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটন সরাসরি যুদ্ধের খরচ এড়িয়ে চলতে চায়। তারা স্থানীয় বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়ে ইরানের অর্থনীতিকে শ্বাসরোধ করে সরকারের পতন ঘটাতে আগ্রহী। তবে আরব নেতারা চান উত্তেজনা কমুক। ইতিহাসের নির্মম পরিহাস হলো, ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ আচরণ এবং আমেরিকার আগ্রাসনের ভয়ই শেষ পর্যন্ত বিভক্ত আরব বিশ্বকে এক কাতারে নিয়ে আসছে। অভিন্ন হুমকির মুখে তারা এখন ঐক্যবদ্ধ।

তথ্যসূত্র: মিডিল ইস্ট আই এবং আল-জাজিরা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত