সিএনএনের এক্সক্লুসিভ
স্ট্রিম ডেস্ক

পাঁচ সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার পরও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনো অক্ষত আছে। একইসঙ্গে দেশটিতে হাজার হাজার সস্তা একমুখি ড্রোনও মজুদ আছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এমন তিনটি সূত্রের বরাতে এই খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
একটি সূত্র বলেছে, তারা (ইরান) এখনো গোটা অঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালানোর সক্ষমতা রাখে।
অপর দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ এখনো অটুট আছে। এছাড়া ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশও অক্ষত আছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
সিএনএন বলছে, গোয়েন্দাদের এ তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্যের উল্টো চিত্র তুলে ধরেছে। বুধবারও (২ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা ‘নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে’। আর অস্ত্র কারখানা ও রকেট লঞ্চারগুলো ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, খুব কমই অক্ষত আছে’।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ইরানের ভেতরে ১২ হাজার ৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে, গত ১৯ মার্চ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একমুখি ড্রোন হামলা ৯০ শতাংশ কমেছে। পেন্টাগন অবশ্য কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়েছে তা না বলে, হামলার সংখ্যা কমার বিষয়টি বলছে।
গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করা প্রথম সূত্রটি বলেছেন, দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শেষ করার ট্রাম্পের লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব। আমাদের ক্রমাগত আঘাতের সক্ষমতা আছে সন্দেহ নেই। কিন্তু দুই সপ্তাহে এটি শেষ হবে মনে করা পাগলামি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি অবশ্য সিএনএনের এই তথ্যের জবাবে বলেছেন, অজ্ঞাতনামা সূত্রগুলো মরিয়া হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আক্রমণ করতে চাইছে।
তিনি দাবি করেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ৯০ শতাংশ কমে গেছে। তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে এবং দুই-তৃতীয়াংশ উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলও সিএনএনের প্রতিবেদন ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে উড়িয়ে দেন।
অবশ্য ইসরায়েলের হিসাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি আরও বেশি কমেছে। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা মনে করেন, ইরানের মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখন অক্ষত আছে। এর কারণও আছে। ইসরায়েলিরা ইরানের মাটিচাপা পড়া বা গুহায় আটকে পড়া লঞ্চারগুলো অক্ষত হিসেবে ধরেন না।
দুটি সূত্র জানিয়েছে, খুব বেশি লঞ্চার ধ্বংস না হওয়ার মূল কারণ, সেগুলো মাটির নিচে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা। ইরান কয়েক দশক ধরে সুড়ঙ্গ ও গুহার বিস্তৃত নেটওয়ার্কে তার লঞ্চারগুলো লুকিয়ে রাখছে। এ ছাড়া ইরান ভ্রাম্যমাণ প্ল্যাটফর্ম থেকে হামলা করে দ্রুত সটকে পড়ছে। যা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত কঠিন করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ এবং বুলডোজারসহ ভারী যন্ত্রপাতি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যাতে ইরান ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে আর প্রবেশ করতে না পারে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে এমন গোয়েন্দা তথ্য সামনে এলো। প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত আলোচনায় স্বীকার করছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ খোলার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব না।
ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হলেও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পৃথক নৌ শক্তি আছে। সেটির প্রায় অর্ধেক এখনো অটুট আছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, আইআরজিসির কাছে এখনো ‘শত শত, এমনকি হাজার হাজার ছোট নৌকা ও মনুষ্যহীন প্রযুক্তিনির্ভর জলযান’ রয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ড অবশ্য বলছে, বুধবার পর্যন্ত ১৫৫টিরও বেশি ইরানি জলযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্টের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ আনিকা গ্যানজেভেল্ড বলেন, আইআরজিসি নৌবাহিনীই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত করছে। ড্রোন ও প্রক্সি বাহিনীসহ এখনো অনেক কিছু অক্ষত আছে। হরমুজে জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর সক্ষমতা যে ইরানের আছে, সম্প্রতি তারা এটি প্রমাণও করেছে।

পাঁচ সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার পরও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনো অক্ষত আছে। একইসঙ্গে দেশটিতে হাজার হাজার সস্তা একমুখি ড্রোনও মজুদ আছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এমন তিনটি সূত্রের বরাতে এই খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
একটি সূত্র বলেছে, তারা (ইরান) এখনো গোটা অঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালানোর সক্ষমতা রাখে।
অপর দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ এখনো অটুট আছে। এছাড়া ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশও অক্ষত আছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
সিএনএন বলছে, গোয়েন্দাদের এ তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্যের উল্টো চিত্র তুলে ধরেছে। বুধবারও (২ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা ‘নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে’। আর অস্ত্র কারখানা ও রকেট লঞ্চারগুলো ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, খুব কমই অক্ষত আছে’।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ইরানের ভেতরে ১২ হাজার ৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে, গত ১৯ মার্চ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একমুখি ড্রোন হামলা ৯০ শতাংশ কমেছে। পেন্টাগন অবশ্য কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়েছে তা না বলে, হামলার সংখ্যা কমার বিষয়টি বলছে।
গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করা প্রথম সূত্রটি বলেছেন, দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শেষ করার ট্রাম্পের লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব। আমাদের ক্রমাগত আঘাতের সক্ষমতা আছে সন্দেহ নেই। কিন্তু দুই সপ্তাহে এটি শেষ হবে মনে করা পাগলামি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি অবশ্য সিএনএনের এই তথ্যের জবাবে বলেছেন, অজ্ঞাতনামা সূত্রগুলো মরিয়া হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আক্রমণ করতে চাইছে।
তিনি দাবি করেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ৯০ শতাংশ কমে গেছে। তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে এবং দুই-তৃতীয়াংশ উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলও সিএনএনের প্রতিবেদন ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে উড়িয়ে দেন।
অবশ্য ইসরায়েলের হিসাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি আরও বেশি কমেছে। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা মনে করেন, ইরানের মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখন অক্ষত আছে। এর কারণও আছে। ইসরায়েলিরা ইরানের মাটিচাপা পড়া বা গুহায় আটকে পড়া লঞ্চারগুলো অক্ষত হিসেবে ধরেন না।
দুটি সূত্র জানিয়েছে, খুব বেশি লঞ্চার ধ্বংস না হওয়ার মূল কারণ, সেগুলো মাটির নিচে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা। ইরান কয়েক দশক ধরে সুড়ঙ্গ ও গুহার বিস্তৃত নেটওয়ার্কে তার লঞ্চারগুলো লুকিয়ে রাখছে। এ ছাড়া ইরান ভ্রাম্যমাণ প্ল্যাটফর্ম থেকে হামলা করে দ্রুত সটকে পড়ছে। যা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত কঠিন করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ এবং বুলডোজারসহ ভারী যন্ত্রপাতি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যাতে ইরান ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে আর প্রবেশ করতে না পারে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে এমন গোয়েন্দা তথ্য সামনে এলো। প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত আলোচনায় স্বীকার করছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ খোলার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব না।
ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হলেও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পৃথক নৌ শক্তি আছে। সেটির প্রায় অর্ধেক এখনো অটুট আছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, আইআরজিসির কাছে এখনো ‘শত শত, এমনকি হাজার হাজার ছোট নৌকা ও মনুষ্যহীন প্রযুক্তিনির্ভর জলযান’ রয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ড অবশ্য বলছে, বুধবার পর্যন্ত ১৫৫টিরও বেশি ইরানি জলযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্টের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ আনিকা গ্যানজেভেল্ড বলেন, আইআরজিসি নৌবাহিনীই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত করছে। ড্রোন ও প্রক্সি বাহিনীসহ এখনো অনেক কিছু অক্ষত আছে। হরমুজে জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর সক্ষমতা যে ইরানের আছে, সম্প্রতি তারা এটি প্রমাণও করেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে বিমান হামলায় এক লাখ চল্লিশ হাজার আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্টের হালনাগাদ তথ্যে এমনটাই জানানো হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরানের ‘অনুমোদিত করিডোর’ এড়িয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছে ওমানের তিনটি জাহাজ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিপিং সাময়িকী লয়েডস লিস্ট জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিংয়ের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে এ খবর দিয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধের মধ্যেই নিজেদের সেনাবাহিনী প্রধান র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেনাপ্রধান র্যান্ডিকে বরখাস্ত করেন।
৪ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সংকট এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সহিংসতা ও অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে জ্বালানি না পেয়ে ক্ষুব্ধ চালকদের হাতে পেট্রল পাম্পের কর্মীদের প্রাণ হারানোর মতো ঘটনা ঘটছে।
১৩ ঘণ্টা আগে