স্ট্রিম ডেস্ক

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ইসরায়েলি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে তেলআবিব। এত দিন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ দায়িত্ব পালন করত। ফিলিস্তিনি রাজনীতিক ও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত পশ্চিম তীরকে কার্যত ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নেবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ শুক্রবার দেশটির সেনাবাহিনীকে এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। পরিকল্পনায় পশ্চিম তীরে বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ইসরায়েলি পুলিশের হাতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের কয়েকটি বাড়ি সম্প্রতি ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা সপ্তাহব্যপি অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে হারেৎজ।
এ ঘটনায় বরাবরের মতো ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিয়ে কাৎজ বলেছেন, সেনাবাহিনীর মূল কাজ ফিলিস্তিনি ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করা, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের পেছনে ছোটা নয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসামরিক এসব বিষয় দেখভালের জন্য পুলিশ একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করবে।
তবে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে। তাঁদের মতে, এটি পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়া, ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং জাতিগত নিধনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
ফিলিস্তিনের ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের মহাসচিব মুস্তাফা বারঘৌতি বলেছেন, পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার চক্রান্তের ‘অগ্রভাগে’ রাখা হয়েছে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের।
আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ও চাপ প্রয়োগের ঘটনা ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির সময়ের ঘটনাগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
বারঘৌতির অভিযোগ, নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা এখন এমন ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যাঁরা ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের আরও শক্তিশালী করার পক্ষে। বিশেষ করে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিম তীর কার্যত ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
ইসরায়েলবিষয়ক গবেষক ও শিক্ষাবিদ মোহানাদ মুস্তাফা মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, পশ্চিম তীর আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে একটি অধিকৃত ভূখণ্ড। সেখানে সেনাবাহিনীর পরিবর্তে ইসরায়েলের বেসামরিক পুলিশের হাতে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব দেওয়া হলে ইসরায়েল পশ্চিম তীরকে আর অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে না— এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হবে।
মোহানাদ মুস্তাফার মতে, এটি পশ্চিম তীরকে কার্যত ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ারই শামিল। তিনি আরও আশঙ্কা করেন, পুলিশের ওপর জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরের প্রভাবের কারণে ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা আরও বেশি সুবিধা পেতে পারেন। এতে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন ও সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
ইসরায়েলের নতুন এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) নির্বাহী কমিটির মহাসচিব হুসেইন আল-শেখ। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন। এর মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিম তীরে, পূর্ব জেরুজালেমসহ, ইসরায়েলি আইন ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসও। তাদের ভাষায়, এটি পশ্চিম তীরে ‘কার্যত সংযুক্তি’ প্রতিষ্ঠার পথে একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ। একই সঙ্গে এর ফলে ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা করে আরও বেশি সুরক্ষা পাবে বলে আশঙ্কা করছে তারা।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনী এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করার বদলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের মদদ দেয়।
ইসরায়েলবিষয়ক বিশ্লেষক নিহাদ আবু গোষ মনে করেন, সেনাবাহিনীর দায়িত্ব কমিয়ে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর ফলে তারা রাষ্ট্রের এক ধরনের সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা এমন কিছু কাজ করে, যা রাষ্ট্রীয় বাহিনী সরাসরি করলে নিয়ম ও জবাবদিহির মধ্যে পড়তে হতো। এভাবে ধীরে ধীরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হচ্ছে।
নতুন করে আলোচনায় এসেছে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের জন্য ভিন্ন আইনি ব্যবস্থা কার্যকর থাকার বিষয়টিও।
ইসরায়েলবিষয়ক গবেষক শাদি আল-শুরাফা বলেন, একই ভূখণ্ডে বসবাস করলেও ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের জন্য ভিন্ন আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি একটি ‘বর্ণবাদী অ্যাপার্টহাইড ব্যবস্থা’।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন এলাকায় সীমাবদ্ধ করে রাখা এবং তাদের ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পথ তৈরি করা।
আরেক ইসরায়েলবিষয়ক বিশ্লেষক আদেল শাদিদের মতে, পরিস্থিতি এখন শুধু পশ্চিম তীরকে সংযুক্ত করার পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ নেই। এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও ভাবতে হতে পারে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নীতির পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকেরা।
আদেল শাদিদের অভিযোগ, ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিন্দা বাস্তবে খুব বেশি পরিবর্তন আনছে না। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পশ্চিম তীর নিয়ে বড় ধরনের সমন্বয় রয়েছে।
সাবেক জাতিসংঘ কর্মকর্তা ও বেলফোর প্রজেক্টের পরিচালক অ্যান্ড্রু হুইটলি ইসরায়েলের এই উদ্যোগকে ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, মানুষের চোখের সামনেই ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করলেই হবে না, বরং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি পুলিশের ভূমিকা বাড়ানোর এই উদ্যোগ তাই শুধু আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পরিবর্তন নয়। এর মাধ্যমে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও গভীর ও স্থায়ী করার পথ তৈরি হচ্ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে বসতি সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপ এবং বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ইসরায়েলি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে তেলআবিব। এত দিন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ দায়িত্ব পালন করত। ফিলিস্তিনি রাজনীতিক ও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত পশ্চিম তীরকে কার্যত ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নেবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ শুক্রবার দেশটির সেনাবাহিনীকে এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। পরিকল্পনায় পশ্চিম তীরে বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ইসরায়েলি পুলিশের হাতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের কয়েকটি বাড়ি সম্প্রতি ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা সপ্তাহব্যপি অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে হারেৎজ।
এ ঘটনায় বরাবরের মতো ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিয়ে কাৎজ বলেছেন, সেনাবাহিনীর মূল কাজ ফিলিস্তিনি ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করা, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের পেছনে ছোটা নয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসামরিক এসব বিষয় দেখভালের জন্য পুলিশ একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করবে।
তবে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে। তাঁদের মতে, এটি পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়া, ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং জাতিগত নিধনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
ফিলিস্তিনের ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের মহাসচিব মুস্তাফা বারঘৌতি বলেছেন, পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার চক্রান্তের ‘অগ্রভাগে’ রাখা হয়েছে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের।
আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ও চাপ প্রয়োগের ঘটনা ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির সময়ের ঘটনাগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
বারঘৌতির অভিযোগ, নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা এখন এমন ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যাঁরা ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের আরও শক্তিশালী করার পক্ষে। বিশেষ করে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিম তীর কার্যত ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
ইসরায়েলবিষয়ক গবেষক ও শিক্ষাবিদ মোহানাদ মুস্তাফা মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, পশ্চিম তীর আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে একটি অধিকৃত ভূখণ্ড। সেখানে সেনাবাহিনীর পরিবর্তে ইসরায়েলের বেসামরিক পুলিশের হাতে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব দেওয়া হলে ইসরায়েল পশ্চিম তীরকে আর অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে না— এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হবে।
মোহানাদ মুস্তাফার মতে, এটি পশ্চিম তীরকে কার্যত ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ারই শামিল। তিনি আরও আশঙ্কা করেন, পুলিশের ওপর জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরের প্রভাবের কারণে ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা আরও বেশি সুবিধা পেতে পারেন। এতে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন ও সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
ইসরায়েলের নতুন এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) নির্বাহী কমিটির মহাসচিব হুসেইন আল-শেখ। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন। এর মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিম তীরে, পূর্ব জেরুজালেমসহ, ইসরায়েলি আইন ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসও। তাদের ভাষায়, এটি পশ্চিম তীরে ‘কার্যত সংযুক্তি’ প্রতিষ্ঠার পথে একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ। একই সঙ্গে এর ফলে ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা করে আরও বেশি সুরক্ষা পাবে বলে আশঙ্কা করছে তারা।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনী এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করার বদলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের মদদ দেয়।
ইসরায়েলবিষয়ক বিশ্লেষক নিহাদ আবু গোষ মনে করেন, সেনাবাহিনীর দায়িত্ব কমিয়ে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর ফলে তারা রাষ্ট্রের এক ধরনের সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা এমন কিছু কাজ করে, যা রাষ্ট্রীয় বাহিনী সরাসরি করলে নিয়ম ও জবাবদিহির মধ্যে পড়তে হতো। এভাবে ধীরে ধীরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হচ্ছে।
নতুন করে আলোচনায় এসেছে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের জন্য ভিন্ন আইনি ব্যবস্থা কার্যকর থাকার বিষয়টিও।
ইসরায়েলবিষয়ক গবেষক শাদি আল-শুরাফা বলেন, একই ভূখণ্ডে বসবাস করলেও ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের জন্য ভিন্ন আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি একটি ‘বর্ণবাদী অ্যাপার্টহাইড ব্যবস্থা’।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন এলাকায় সীমাবদ্ধ করে রাখা এবং তাদের ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পথ তৈরি করা।
আরেক ইসরায়েলবিষয়ক বিশ্লেষক আদেল শাদিদের মতে, পরিস্থিতি এখন শুধু পশ্চিম তীরকে সংযুক্ত করার পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ নেই। এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও ভাবতে হতে পারে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নীতির পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকেরা।
আদেল শাদিদের অভিযোগ, ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিন্দা বাস্তবে খুব বেশি পরিবর্তন আনছে না। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পশ্চিম তীর নিয়ে বড় ধরনের সমন্বয় রয়েছে।
সাবেক জাতিসংঘ কর্মকর্তা ও বেলফোর প্রজেক্টের পরিচালক অ্যান্ড্রু হুইটলি ইসরায়েলের এই উদ্যোগকে ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, মানুষের চোখের সামনেই ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করলেই হবে না, বরং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি পুলিশের ভূমিকা বাড়ানোর এই উদ্যোগ তাই শুধু আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পরিবর্তন নয়। এর মাধ্যমে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও গভীর ও স্থায়ী করার পথ তৈরি হচ্ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে বসতি সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপ এবং বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
.png)

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও তালেবানের ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট মার্কিন সমর্থিত সরকারের পতন ঘটিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। ওই সময় সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিশ্ব দেখেছিল, ভিড়ে উপচে পড়া বিমানবন্দর আর হাজারো আফগানের উড়োজাহাজে পালানোর দৃশ্য
৫ ঘণ্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আশিস ব্যানার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে বাড়ির পাশের দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। এসময় পুলিশ এক পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে।
৮ ঘণ্টা আগে
ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনে জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে ফ্লোরেস দ্বীপে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৫১ জন নিহত হয়েছেন।
১০ ঘণ্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা আশিস ব্যানার্জির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে বীরভূমের রামপুরহাটে দলীয় কার্যালয় থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়।