ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫১, জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৪৫
উদ্ধারকারীদল ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকাদের উদ্ধারে কাজ করেছে। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনে জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে ফ্লোরেস দ্বীপে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৫১ জন নিহত হয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পের পর ৩৪১ বার আফটারশক অনুভূত হয়। এতে ৯০০ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়নি।

দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, মাংগারাই প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ২৪ জন নিহত, দুজন গুরুতর ও ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১৫০টির বেশি বাড়ি, কয়েক ডজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপাসনালয়, সরকারি কার্যালয় ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৫০০টি ত্রাণ প্যাকেজ বেস অপারেশন কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

ফ্লোরেসের বৃহত্তম শহর মাউমেরের বন্দরে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টার্মিনাল ভবনের বড় বড় কংক্রিটের অংশ ভেঙে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ওপর পড়ছে। একটি জাহাজের সঙ্গে যুক্ত গ্যাংওয়ে ভেঙে পড়লে কয়েকজন যাত্রী সাগরে পড়ে যান।

পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর জানান, ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে ঘুমের মধ্যেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে অনেকেই ঝাঁকুনিতে জাগে এবং নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হন।

তালিবুরা গ্রামের বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো জানান, ঘুম ভাঙার পর তিনি দ্রুত সন্তানের ঘরে চলে যান। সমুদ্রের পানি অনেকটা সরে যাওয়ায় অনেক মানুষ আগেই পাহাড়ের দিকে চলে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়। এতে অন্তত ২ হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যান। তবে তিন ঘণ্টা পরও সমুদ্রপৃষ্ঠের উল্লেখযোগ্য উচ্চতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে, ভূমিধসের কারণে কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকাদের উদ্ধারে কাজ করেছে। রুটেং শহরে চিকিৎসার জন্য একটি অস্থায়ী তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার অন্য প্রান্তে ৬.৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলকে ‘রিং অব ফায়ার’ বা ‘অগ্নিবলয়’ বলা হয়। দেশটি তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫১, জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি