নিজ দলের ৪ সিনেটরের ভোটে কমল যুদ্ধক্ষমতা, তীব্র ক্ষোভ ট্রাম্পের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ১১: ১৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে নতুন সামরিক অভিযান চালাতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এ নিয়ে একটি যুদ্ধ-ক্ষমতা প্রস্তাব (ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন) পাস করেছে মার্কিন সিনেট। প্রস্তাবটির পক্ষে ৪৬ ডেমোক্র্যাট সিনেটরের সঙ্গে দলের অবস্থানের বাইরে ভোট দিয়েছেন চারজন রিপাবলিকান সিনেটরও।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। আলোচিত এই প্রস্তাবটিকে ইরান নীতির প্রশ্নে ট্রাম্পের ওপর কংগ্রেসের চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) একই প্রস্তাব ২১৫-২০৮ ভোটে পাস করে। ১৯৭৩ সালে ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ পাসের পর এই প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের উভয়কক্ষ একসঙ্গে এ ধরনের প্রস্তাব পাস করল।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে গত ৭ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য একটি খসড়া শান্তি-সমঝোতা সই করেছে।

সিনেটে আনা প্রস্তাবটি মূলত দলীয় লাইনেই পাস হয়েছে। তবে রিপাবলিকান দলের চার সিনেটর— মেইনের সুজান কলিন্স, কেন্টাকির র‍্যান্ড পল, লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিডি এবং আলাস্কার লিসা মুরকাউস্কি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন। রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ও ডেভিড ম্যাককর্মিক ভোটে অনুপস্থিত ছিলেন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এবারই প্রথম সিনেটে রিপাবলিকানদের একটি অংশ প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে জরিপ সংস্থা ইপসোসের প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজনের মধ্যে মাত্র একজন আমেরিকান মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ সার্থক হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষই তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি টিকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তবে এই প্রস্তাবের আইনগত কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ১৯৮৩ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি রায় অনুযায়ী, এ ধরনের প্রস্তাবকে আইনি বাধ্যবাধকতা পেতে হলে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস আইন অনুযায়ী, এই প্রস্তাব হোয়াইট হাউসে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা নেই।

হোয়াইট হাউস বলেছে, এই ভোটের কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং যুদ্ধবিরতি ইতোমধ্যে কার্যকর হওয়ায় প্রস্তাবটি অর্থহীন। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো স্কট অ্যান্ডারসন বলেছেন, ওয়ার পাওয়ারস আইনের সাংবিধানিকতার প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত আদালতেই নিষ্পত্তি হতে পারে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন এ বিষয়ে রয়টার্সকে বলেন, যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। ডেমোক্র্যাটরা ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁরা ভবিষ্যতেও যুদ্ধ-ক্ষমতা সংক্রান্ত আরও প্রস্তাব আনবেন, যাতে রিপাবলিকানরা এই যুদ্ধের ব্যাপারে তাঁদের অবস্থান প্রকাশ্যে জানাতে বাধ্য হন।

ট্রাম্পের তীব্র প্রতিক্রিয়া

সিনেটের এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ইরানকে ‘কোণঠাসা’ করে রাখার এই মুহূর্তে সিনেটের এই ভোট ‘বাজেভাবে সময়-অনুপযুক্ত ও অর্থহীন।’

তিনি অভিযোগ করেন, যাঁরা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা শত্রুর প্রতি ‘সহায়তা ও সান্ত্বনা’ দিয়েছেন। নিজ দলের বিদ্রোহী চার সিনেটরকেও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থানে অনড় থাকার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প লেখেন, ‘একভাবে বা অন্যভাবে আমি কাজটি সম্পন্ন করব, কারণ আমি সব সময়ই তা করি।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত