বিতর্কিত কুরিল দ্বীপে পুতিন, রাশিয়া-জাপান নতুন উত্তেজনা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৪৮
ইতুরুপ দ্বীপে মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কমপ্লেক্স পরিদর্শনে পুতিন। এক্স থেকে নেওয়া ছবি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়। পুতিনের এই সফরে ক্ষোভ জানিয়েছে জাপান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানায়, এ ঘটনায় রুশ রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে কিসের বিরোধ

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপ থেকে জাপানের প্রধান উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডো পর্যন্ত বিস্তৃত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দ্বীপপুঞ্জের দখল নেয়; তখন থেকেই এটি রাশিয়ার আওতায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে জাপান এই দ্বীপপুঞ্জের চারটি দ্বীপের মালিকানা দাবি করে আসছে। এই চার দ্বীপকে ‘নর্দার্ন টেরিটোরি’ বা উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড হিসেবে অভিহিত করে জাপান।

বৃহস্পতিবার পুতিন এই চার দ্বীপের একটি ইতুরুপে মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিদর্শন করেন। রুশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেখানে তাঁকে মাছের ডিম (ক্যাভিয়ার) খেতে দেওয়া হয়।

তবে জাপানে এই দ্বীপ ইতোরোফু নামে পরিচিত। ১৯৪৫ সালে দখলের পর এই দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রায় ১৭ হাজার জাপানিকে বের করে দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। বর্তমানে দ্বীপগুলোতে প্রায় ২০ হাজার রুশ নাগরিক বসবাস করেন।

রুশ নেতারা বিতর্কিত এই দ্বীপপুঞ্জে খুব কমই সফর করেছেন। ২০১০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রথম রুশ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কুরিল সফর করেন। এই ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধের জেরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এখনো রাশিয়া-জাপানের আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি সই হয়নি।

জাপানের প্রতিক্রিয়া

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি বলেন, ‘নর্দার্ন টেরিটোরিজ ঐতিহাসিক এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাপানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা এই সফরের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, এটি ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’ এই সফর জাপানের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত