তারেক রহমানের সফর ‘সম্পূর্ণ সফল’: চীনা রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ২৩: ১৬
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে ‘সম্পূর্ণ সফল’ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার চীনা দূতাবাসে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ইয়াও ওয়েন বলেন, গত ২২ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর দুই দেশের সহযোগিতার পরবর্তী ধাপে সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছে। এই সফরের বড় অর্জন হলো চীন-বাংলাদেশ ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’কে আরও এগিয়ে নেওয়া।

তিনি জানান, উভয় দেশ উচ্চ-পর্যায়ের সফর বিনিময় এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সংলাপ ব্যবস্থা (স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ মেকানিজম) এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক ‘২+২’ সংলাপ ব্যবস্থার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে একমত হয়েছে দুই দেশ।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে ইয়াও বলেন, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সামগ্রিক দিকনির্দেশনায় আমাদের প্রতিশ্রুতি কখনোই নড়চড় হবে না। চীন সবসময়ই বাংলাদেশের একজন বিশ্বস্ত বন্ধু ও অংশীদার থাকবে।’

রাষ্ট্রদূত জানান, চীনই প্রথম দেশ যারা কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় দলিলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সমর্থন করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশও ‘এক চীন নীতি’র প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতার বিষয়টি পুনরুল্লেখ করেছে।

তিনি আরও জানান, অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় গ্রিন ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বাণিজ্য, অর্থায়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে। বিনিয়োগ আরও সহজ করতে বাংলাদেশ চীনে তার প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ কার্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে।

তিস্তা নদী সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) প্রসঙ্গে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘তিস্তা প্রকল্পে চীনের প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত রয়েছে। নিজেদের সক্ষমতার মধ্যে সহায়তা অব্যাহত রাখব এবং ফিজিবিলিটি স্টাডি ত্বরান্বিত করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা করব। তিস্তা বাংলাদেশের একটি প্রকল্প, এটি আপনাদের প্রকল্প।’

প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর’কে একটি নতুন কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার স্বার্থে চীন এটি নির্মাণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এখানে ভারতসহ অন্য দেশের যোগদানের দরজা উন্মুক্ত রয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে ইয়াও জানান, এটি সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেরই একটি অংশ। তবে নির্দিষ্ট কোনো সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের পরিচালক ঝাং জিং এবং কাউন্সেলর সং ইয়াং উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত