বিবিসি

নতুন বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে বিদেশে গিয়ে নতুন জীবন গড়ার জন্য সেরা দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে এসব দেশে পাড়ি জমিয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে জানা গেছে, কেন দেশগুলো তাঁদের কাছে আকর্ষণীয়।
ইন্টারন্যাশনসের ২০২৬ সালের ‘এক্সপ্যাট ইনসাইডার’ জরিপে বিদেশে বসবাসের জন্য ৩১টি দেশের ওপর এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। জীবনযাত্রার মান, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, বিদেশে কাজের সুযোগ, ‘পার্সোনাল ফাইন্যান্স’, আবাসন ও ডিজিটাল সেবার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এবারের তালিকায় মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও জীবনযাত্রার খরচ বেশ বড় ভূমিকা রেখেছে। শীর্ষ ১০ দেশের সাতটিই নতুন পরিবেশে সহজে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে। আর শীর্ষ পাঁচ দেশের প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেন তাঁরা এসব দেশে গেছেন এবং সেখানে গিয়ে কেমন অভিজ্ঞতা হয়েছে।
টানা তৃতীয়বারের মতো র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে পানামা। কাজ এবং ‘পার্সোনাল ফাইন্যান্স’-এর দিক থেকে দেশটি প্রথম। পানামায় থাকা ৮৭ শতাংশ প্রবাসী তাঁদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট। বিশ্বজুড়ে এই হার ৭০ শতাংশ। আর ৯০ শতাংশ প্রবাসীর মতে, সেখানে বাসা খুঁজে পাওয়াও সহজ।
আর্জেন্টিনা থেকে আট বছর আগে পানামার ক্যারিবীয় উপকূলে যান আরিয়েল বারিওনুয়েভো। সেখানে যাওয়ার পর তাঁর ঘুম ভালো হয়েছে, সকালে উঠে শরীর-মনও বেশি সতেজ লাগে। তাঁর কাছে পানামার ধীর গতির জীবনযাপনই সবচেয়ে ভালো লেগেছে।
পানামায় জীবনযাত্রার খরচ আর্জেন্টিনার তুলনায় কম বলেও মনে করেন তিনি। দেশটির স্থিতিশীল অর্থনীতির কারণে ব্যবসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করাও সহজ।
এ বছর কানাডা থেকে পানামা সিটিতে যাওয়া রেজা মোতালেবপুরের কাছেও দেশটির জীবনযাপন বেশ সুবিধাজনক মনে হয়েছে। ভালো ইন্টারনেট থাকায় ঘরে বসে কাজ করা সহজ। ব্যাংকের কাজও সহজে করা যায়।
তবে সবকিছুই যে সহজ, তা নয়। দ্বীপে পণ্য পৌঁছাতে দেরি হতে পারে, আবহাওয়ার কারণেও কখনো পরিকল্পনা বদলাতে হয়। তবু বারিওনুয়েভোর মতে, ধীরে, একটু শান্তভাবে বাঁচার সুযোগটাই পানামার বড় আকর্ষণ।
র্যাঙ্কিংয়ে মেক্সিকোর অবস্থান দ্বিতীয়। তবে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটি সবার ওপরে। বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় মেক্সিকোতেই প্রবাসীদের স্থানীয় মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা সহজ। মেক্সিকোয় থাকা ৭৩ শতাংশ প্রবাসী বলেছেন, স্থানীয়দের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা সহজ। বিশ্বজুড়ে এই হার ৩৯ শতাংশ।
২০২২ সালে স্বামীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভালার্তায় যান ক্রিস্টেন রাকুইয়া। তাঁর মতে, বিদেশে এসে এমন কিছু ভালো বন্ধু পেয়েছেন, যাদের মতো বন্ধুত্ব শিকাগোতেও হয়নি। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম খরচের জীবন তাঁকে সেখানে থাকতে আগ্রহী করেছে।
জীবনযাত্রার খরচও তাঁর কাছে কম মনে হয়েছে। সম্প্রতি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসা ও হাসপাতালে থাকার খরচ হয়েছে চার হাজার ডলারের কম। যুক্তরাষ্ট্রে এমন খরচ কল্পনা করাও কঠিন বলে মনে করেন তিনি। মেক্সিকোর স্থানীয় জীবন দেখতে সকালে বাজারে নাশতা করা এবং রোববার সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার পরামর্শ দেন রাকুইয়া। কারণ সেদিন স্থানীয় পরিবারগুলোরও সেখানে ভিড় থাকে।
তবে নিরাপত্তা মেক্সিকোর বড় দুর্বলতা। ৩১টি দেশের মধ্যে নিরাপত্তার দিক থেকে দেশটির অবস্থান ২৫তম। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট ৬৮ শতাংশ প্রবাসী, যেখানে বিশ্বজুড়ে এই হার ৮১ শতাংশ।
তৃতীয় স্থানে থাকা থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এর জীবনযাত্রার খরচ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। ৮৬ শতাংশ প্রবাসী বিদেশে তাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট। এখন পর্যন্ত এটিই জরিপে সর্বোচ্চ।
২০২৪ সালে ব্রিটেনের ডেভন থেকে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাইল্যান্ডে যান বেথান জিনটিপ্রাফেট। শুরুতে এক বছর থাকার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ব্যাংককে প্রথমবার রাস্তার খাবার খেয়ে চারজনের খাবারের খরচ হয়েছিল প্রায় ১ পাউন্ড। দুই সপ্তাহের মধ্যেই তিনি বুঝে যান, আর দেশে ফিরবেন না।
থাইল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থাও তাঁর ছেলের ওপর ভালো প্রভাব ফেলেছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, থাই সংস্কৃতিতে সম্মানকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনাকে অনেক সম্মানের সঙ্গে দেখে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ১১ বছর আগে থাইল্যান্ডে যাওয়া অ্যারন হেনরির মতে, ব্যাংকক আধুনিক হয়েছে, কিন্তু নিজের সংস্কৃতি হারায়নি।
শহরে এখন আন্তর্জাতিক খাবার, সুন্দর পার্ক, আর্ট গ্যালারি ও বড় শপিং মলের সংখ্যা বেড়েছে। তবে শহরকে কাছ থেকে দেখতে পর্যটকের ভিড় কম এমন আরি ও ফ্রা খানং এলাকার মতো জায়গায় হাঁটার পরামর্শ দেন তিনি।
কাজের সুযোগ, ক্যারিয়ার, ভিসা ও ভাষার মতো বিষয়ে ভালো স্কোর পাওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে চতুর্থ স্থানে। বিদেশিদের সেখানে নতুন জীবন শুরু করা এবং ক্যারিয়ার গড়া তুলনামূলক সহজ। দুবাইয়ে থাকা প্রবাসীদের মতে, নিরাপদ ও স্বস্তির জীবন এবং বিদেশিদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ দেশটির বড় আকর্ষণ। এ বছর লন্ডন থেকে দুবাইয়ে যাওয়া নিকিতা ওরুগান্টির মতে, অনিশ্চিত সময়েও দেশটির স্থিতিশীলতা তাঁকে স্বস্তি দেয়।
তবে দুবাইকে বুঝতে শুধু বিলাসবহুল এলাকাগুলো দেখলেই হবে না। ব্যস্ত সময়ে মেট্রোতে চড়া, বুর দুবাই ও দেইরার পুরোনো এলাকায় হাঁটা এবং স্থানীয় ছোট রেস্তোরাঁয় খাওয়ার পরামর্শ দেন নিকিতা। এতে শহরের সাধারণ জীবনকে কাছ থেকে দেখা যায়।
দুবাইয়ের বাইরে রাস আল খাইমাহতে আট বছর ধরে থাকছেন ব্রিটিশ প্রবাসী শ্যারন ম্যাককারনান। তাঁর কাছে সেখানকার শান্ত জীবন, কম যানজট এবং পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগই সবচেয়ে ভালো লাগে।
প্রথমবারের মতো শীর্ষ পাঁচে উঠে এসেছে ব্রাজিল। সুখী জীবন, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, স্থানীয় মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ভালো স্কোর পেয়েছে দেশটি। প্রবাসীদের মতে, ব্রাজিলিয়ানদের আন্তরিকতাই তাঁদের সবচেয়ে বেশি আপন করে নেয়।
ব্যবসার জন্য বার্বাডোস থেকে সাও পাওলোতে যাওয়া ক্লিন্ট ম্যানিং বলেন, ব্রাজিলে কারও সঙ্গে প্রথমবার পরিচয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর বাড়িতে দাওয়াত পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। নিজের দেশের জীবনযাত্রার সঙ্গে ব্রাজিলেরও কিছুটা মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি।
ব্রাজিলে ইংরেজির প্রচলন কম। তবে ম্যানিং এটিকে সমস্যা নয়, বরং সুবিধা হিসেবে দেখেন। কারণ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পর্তুগিজ শেখা সহজ হয়েছে তাঁর। ফলে অন্য দেশে অন্য ভাষা শেখার তুলনায় দ্রুত পর্তুগিজ শিখতে পেরেছেন। সাও পাওলোর স্থানীয় জীবন দেখতে ভিলা মাদালেনা ও বেলা ভিস্তার বার ও বেকারি, লিবেরদাদে এলাকার জাপানি খাবার এবং ইবিরাপুয়েরা পার্ক ঘুরে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
তবে সবকিছুর ওপরে ব্রাজিলের মানুষের কথাই বলেছেন প্রবাসীরা। সাও পাওলোতে ১২ বছর থাকা ক্রিস কোলের ভাষায়, ব্রাজিলিয়ানরা তাঁকে কখনো বাইরের মানুষ মনে করতে দেননি; বরং শুরু থেকেই মনে হয়েছে, তিনি এই সমাজেরই একজন।

নতুন বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে বিদেশে গিয়ে নতুন জীবন গড়ার জন্য সেরা দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে এসব দেশে পাড়ি জমিয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে জানা গেছে, কেন দেশগুলো তাঁদের কাছে আকর্ষণীয়।
ইন্টারন্যাশনসের ২০২৬ সালের ‘এক্সপ্যাট ইনসাইডার’ জরিপে বিদেশে বসবাসের জন্য ৩১টি দেশের ওপর এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। জীবনযাত্রার মান, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, বিদেশে কাজের সুযোগ, ‘পার্সোনাল ফাইন্যান্স’, আবাসন ও ডিজিটাল সেবার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এবারের তালিকায় মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও জীবনযাত্রার খরচ বেশ বড় ভূমিকা রেখেছে। শীর্ষ ১০ দেশের সাতটিই নতুন পরিবেশে সহজে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে। আর শীর্ষ পাঁচ দেশের প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেন তাঁরা এসব দেশে গেছেন এবং সেখানে গিয়ে কেমন অভিজ্ঞতা হয়েছে।
টানা তৃতীয়বারের মতো র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে পানামা। কাজ এবং ‘পার্সোনাল ফাইন্যান্স’-এর দিক থেকে দেশটি প্রথম। পানামায় থাকা ৮৭ শতাংশ প্রবাসী তাঁদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট। বিশ্বজুড়ে এই হার ৭০ শতাংশ। আর ৯০ শতাংশ প্রবাসীর মতে, সেখানে বাসা খুঁজে পাওয়াও সহজ।
আর্জেন্টিনা থেকে আট বছর আগে পানামার ক্যারিবীয় উপকূলে যান আরিয়েল বারিওনুয়েভো। সেখানে যাওয়ার পর তাঁর ঘুম ভালো হয়েছে, সকালে উঠে শরীর-মনও বেশি সতেজ লাগে। তাঁর কাছে পানামার ধীর গতির জীবনযাপনই সবচেয়ে ভালো লেগেছে।
পানামায় জীবনযাত্রার খরচ আর্জেন্টিনার তুলনায় কম বলেও মনে করেন তিনি। দেশটির স্থিতিশীল অর্থনীতির কারণে ব্যবসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করাও সহজ।
এ বছর কানাডা থেকে পানামা সিটিতে যাওয়া রেজা মোতালেবপুরের কাছেও দেশটির জীবনযাপন বেশ সুবিধাজনক মনে হয়েছে। ভালো ইন্টারনেট থাকায় ঘরে বসে কাজ করা সহজ। ব্যাংকের কাজও সহজে করা যায়।
তবে সবকিছুই যে সহজ, তা নয়। দ্বীপে পণ্য পৌঁছাতে দেরি হতে পারে, আবহাওয়ার কারণেও কখনো পরিকল্পনা বদলাতে হয়। তবু বারিওনুয়েভোর মতে, ধীরে, একটু শান্তভাবে বাঁচার সুযোগটাই পানামার বড় আকর্ষণ।
র্যাঙ্কিংয়ে মেক্সিকোর অবস্থান দ্বিতীয়। তবে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটি সবার ওপরে। বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় মেক্সিকোতেই প্রবাসীদের স্থানীয় মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা সহজ। মেক্সিকোয় থাকা ৭৩ শতাংশ প্রবাসী বলেছেন, স্থানীয়দের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা সহজ। বিশ্বজুড়ে এই হার ৩৯ শতাংশ।
২০২২ সালে স্বামীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভালার্তায় যান ক্রিস্টেন রাকুইয়া। তাঁর মতে, বিদেশে এসে এমন কিছু ভালো বন্ধু পেয়েছেন, যাদের মতো বন্ধুত্ব শিকাগোতেও হয়নি। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম খরচের জীবন তাঁকে সেখানে থাকতে আগ্রহী করেছে।
জীবনযাত্রার খরচও তাঁর কাছে কম মনে হয়েছে। সম্প্রতি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসা ও হাসপাতালে থাকার খরচ হয়েছে চার হাজার ডলারের কম। যুক্তরাষ্ট্রে এমন খরচ কল্পনা করাও কঠিন বলে মনে করেন তিনি। মেক্সিকোর স্থানীয় জীবন দেখতে সকালে বাজারে নাশতা করা এবং রোববার সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার পরামর্শ দেন রাকুইয়া। কারণ সেদিন স্থানীয় পরিবারগুলোরও সেখানে ভিড় থাকে।
তবে নিরাপত্তা মেক্সিকোর বড় দুর্বলতা। ৩১টি দেশের মধ্যে নিরাপত্তার দিক থেকে দেশটির অবস্থান ২৫তম। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট ৬৮ শতাংশ প্রবাসী, যেখানে বিশ্বজুড়ে এই হার ৮১ শতাংশ।
তৃতীয় স্থানে থাকা থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এর জীবনযাত্রার খরচ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। ৮৬ শতাংশ প্রবাসী বিদেশে তাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট। এখন পর্যন্ত এটিই জরিপে সর্বোচ্চ।
২০২৪ সালে ব্রিটেনের ডেভন থেকে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাইল্যান্ডে যান বেথান জিনটিপ্রাফেট। শুরুতে এক বছর থাকার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ব্যাংককে প্রথমবার রাস্তার খাবার খেয়ে চারজনের খাবারের খরচ হয়েছিল প্রায় ১ পাউন্ড। দুই সপ্তাহের মধ্যেই তিনি বুঝে যান, আর দেশে ফিরবেন না।
থাইল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থাও তাঁর ছেলের ওপর ভালো প্রভাব ফেলেছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, থাই সংস্কৃতিতে সম্মানকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনাকে অনেক সম্মানের সঙ্গে দেখে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ১১ বছর আগে থাইল্যান্ডে যাওয়া অ্যারন হেনরির মতে, ব্যাংকক আধুনিক হয়েছে, কিন্তু নিজের সংস্কৃতি হারায়নি।
শহরে এখন আন্তর্জাতিক খাবার, সুন্দর পার্ক, আর্ট গ্যালারি ও বড় শপিং মলের সংখ্যা বেড়েছে। তবে শহরকে কাছ থেকে দেখতে পর্যটকের ভিড় কম এমন আরি ও ফ্রা খানং এলাকার মতো জায়গায় হাঁটার পরামর্শ দেন তিনি।
কাজের সুযোগ, ক্যারিয়ার, ভিসা ও ভাষার মতো বিষয়ে ভালো স্কোর পাওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে চতুর্থ স্থানে। বিদেশিদের সেখানে নতুন জীবন শুরু করা এবং ক্যারিয়ার গড়া তুলনামূলক সহজ। দুবাইয়ে থাকা প্রবাসীদের মতে, নিরাপদ ও স্বস্তির জীবন এবং বিদেশিদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ দেশটির বড় আকর্ষণ। এ বছর লন্ডন থেকে দুবাইয়ে যাওয়া নিকিতা ওরুগান্টির মতে, অনিশ্চিত সময়েও দেশটির স্থিতিশীলতা তাঁকে স্বস্তি দেয়।
তবে দুবাইকে বুঝতে শুধু বিলাসবহুল এলাকাগুলো দেখলেই হবে না। ব্যস্ত সময়ে মেট্রোতে চড়া, বুর দুবাই ও দেইরার পুরোনো এলাকায় হাঁটা এবং স্থানীয় ছোট রেস্তোরাঁয় খাওয়ার পরামর্শ দেন নিকিতা। এতে শহরের সাধারণ জীবনকে কাছ থেকে দেখা যায়।
দুবাইয়ের বাইরে রাস আল খাইমাহতে আট বছর ধরে থাকছেন ব্রিটিশ প্রবাসী শ্যারন ম্যাককারনান। তাঁর কাছে সেখানকার শান্ত জীবন, কম যানজট এবং পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগই সবচেয়ে ভালো লাগে।
প্রথমবারের মতো শীর্ষ পাঁচে উঠে এসেছে ব্রাজিল। সুখী জীবন, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, স্থানীয় মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ভালো স্কোর পেয়েছে দেশটি। প্রবাসীদের মতে, ব্রাজিলিয়ানদের আন্তরিকতাই তাঁদের সবচেয়ে বেশি আপন করে নেয়।
ব্যবসার জন্য বার্বাডোস থেকে সাও পাওলোতে যাওয়া ক্লিন্ট ম্যানিং বলেন, ব্রাজিলে কারও সঙ্গে প্রথমবার পরিচয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর বাড়িতে দাওয়াত পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। নিজের দেশের জীবনযাত্রার সঙ্গে ব্রাজিলেরও কিছুটা মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি।
ব্রাজিলে ইংরেজির প্রচলন কম। তবে ম্যানিং এটিকে সমস্যা নয়, বরং সুবিধা হিসেবে দেখেন। কারণ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পর্তুগিজ শেখা সহজ হয়েছে তাঁর। ফলে অন্য দেশে অন্য ভাষা শেখার তুলনায় দ্রুত পর্তুগিজ শিখতে পেরেছেন। সাও পাওলোর স্থানীয় জীবন দেখতে ভিলা মাদালেনা ও বেলা ভিস্তার বার ও বেকারি, লিবেরদাদে এলাকার জাপানি খাবার এবং ইবিরাপুয়েরা পার্ক ঘুরে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
তবে সবকিছুর ওপরে ব্রাজিলের মানুষের কথাই বলেছেন প্রবাসীরা। সাও পাওলোতে ১২ বছর থাকা ক্রিস কোলের ভাষায়, ব্রাজিলিয়ানরা তাঁকে কখনো বাইরের মানুষ মনে করতে দেননি; বরং শুরু থেকেই মনে হয়েছে, তিনি এই সমাজেরই একজন।
.png)

ডাবলিনের নীল আকাশে তখন শরতের রোদ মৃদু সোনালি আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের বাতাসে হালকা শীতের ছোঁয়া। সেই বিকেলে রাজধানীর রেড কাউ হোটেলের হলরুম যেন রঙিন হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশি প্রবাসীদের পদচারণায়।
০৭ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশকে ধ্বংসাবশেষ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে প্রবাসীরাই মূল ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।আজ শনিবার (৩১ মে) টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক কমিউনিটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
০৬ জুন ২০২৫