স্ট্রিম প্রতিবেদক

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এই রুল জারির পর রাজনৈতিক ঐকমত্যের বিষয়কে আদালতের বিচারাঙ্গনে নিয়ে আসা এবং সাংবিধানিক এখতিয়ারের প্রয়োগ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া আইনজীবীদের মধ্যে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। রুল জারির পর এই আইনি পদক্ষেপের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং এর সাংবিধানিক পরিণতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রিটের বিরোধিতাকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশ ও অধ্যাদেশকে শুরু থেকেই বাতিল বা ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ এবং ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলে দাবি করেছেন রিটকারী পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব।
আজ আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব ও আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুও । অন্যদিকে রিটের বিরোধিতা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তাদের আইনি সহযোগিতা করেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা, সাদ্দাম হোসেন ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
এর আগে সোমবার (২ মার্চ) জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পৃথক দুটি রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি ও অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম।
এছাড়া গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা এবং এর কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে জনস্বার্থে আরেকটি রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। এসব রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
আদালতের রুল জারির পর এই আইনি পদক্ষেপের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং এর সাংবিধানিক পরিণতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রিটের বিরোধিতাকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিষয়টিকে ‘প্যান্ডোরার বক্স খোলার’ সঙ্গে তুলনা করে রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতে আনার সমালোচনা করেন।
আইনজীবী শিশির মনির জানান, দুটি রিট পিটিশনে মূলত রুল জারি হয়েছে। প্রথম রুলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ কেন অসাংবিধানিক হবে না, দ্বিতীয়ত গণভোট অধ্যাদেশের ধারা ৩-এ উল্লিখিত চারটি প্রশ্ন কেন অবৈধ হবে না এবং তৃতীয়ত গণভোট অধ্যাদেশের তফসিলে প্রস্তাবিত ৩০টি সংস্কার কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না— তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
৫ আগস্টের পর সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার রাজনৈতিক উদ্যোগকে আদালতে ‘সাবজেক্ট ম্যাটার’ বা ‘বিচার্য বিষয়’ বানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অতীতে রাজনৈতিকভাবে নিষ্পত্তিযোগ্য বিষয় আদালতে নেওয়ার ফল কখনোই ইতিবাচক হয়নি।’ বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের ঐকমত্যে গৃহীত ৩০টি প্রস্তাব রুলের আওতায় আনার পেছনে কার নির্দেশনা রয়েছে, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
শুনানি ও রিট পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের একটি অংশের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘এতে ধারণা করা যায় সংস্কার প্রস্তাব সংসদে নিষ্পত্তি না করে আদালতের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা তৈরির চেষ্টা হতে পারে।’
সরকারের অবস্থানকে ‘দ্বিচারিতা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘একদিকে ৩০ দফা ঐকমত্যের অংশ হিসেবে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার প্রস্তাব চাওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে একই বিষয় আদালতে রুলের আওতায় এসেছে।’
ডেপুটি স্পিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে এ বিষয়ে বিধান রয়েছে। ঐকমত্য হওয়ার পরও বিষয়টি আদালতে আনা হয়েছে কেন—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বা গণভোটের প্রশ্ন অবৈধ হলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন, সরকার ও ক্ষমতার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এ ধরনের পদক্ষেপ প্যান্ডোরার বক্স খুলে দেওয়ার শামিল, যার দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালতের বিষয়বস্তু করে সংসদকে পাশ কাটানোর কৌশল অতীতে ইতিবাচক ফল দেয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই রিট কেবল একটি সাধারণ রিট নয়; এটি দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রিট আবেদনটির আইনি ত্রুটি তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, যাদের শপথ প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বা জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী কোনো রাজনৈতিক দলকে রিটে পক্ষভুক্ত করা হয়নি। বিএনপিও রিটের পক্ষভুক্ত নয়। এই হাইড অ্যান্ড সিক আচরণের কারণে রিটটি পক্ষদোষে দুষ্ট বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রিটে পক্ষভুক্ত না করার বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে তিনি বলেন, পক্ষ হওয়ার প্রশ্ন আলাদা তবে পক্ষ না করে বিষয়টি আদালতে আনা হয়েছে কেন—সেটিই প্রশ্ন।
এছাড়া গণভোট সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর প্রশ্নপত্রকে চ্যালেঞ্জ করার অর্থ ফলাফলকেই চ্যালেঞ্জ করা বলে তিনি মত দেন। সংসদ কার্যক্রম প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, আদালতের রুলে সুনির্দিষ্ট স্থগিতাদেশ না থাকায় সংসদ, সংস্কার পরিষদ বা কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি গঠনে কোনো বাধা নেই; তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় আলাদা। তিনি আরো বলেন, রুলকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কার্যক্রম না চালালে তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ভুল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রচলিত রীতিতে রুল জারির বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ না থাকলেও এ নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশ ও অধ্যাদেশকে শুরু থেকেই বাতিল বা ভয়েড অ্যাব ইনিশিও এবং সংবিধান পরিপন্থি বলে দাবি করেছেন রিটকারী পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। আদালতের আদেশের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি রিটের মূল আইনি ও সাংবিধানিক যুক্তিগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে গণতন্ত্র ও সংস্কার টিকবে না।’
আইনজীবী মামুন মাহবুব জানান, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত আদেশ ও অধ্যাদেশ দুটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং আলট্রা ভাইরেস টু দ্য কনস্টিটিউশন দাবি করে রিটে রুল চাওয়া হয়েছিল। শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী এহসানুল করিমসহ তিনি নিজে এবং ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়াসহ একাধিক আইনজীবী অংশ নেন। আদালত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ও অ্যাডিশনাল অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শুনেছেন।
এমনকি মামলার প্রার্থনার সঙ্গে একমত নন এমন আইনজীবীদেরও বক্তব্য শুনে আদালত একটি ‘লিবারেল ভিউ’ বা ‘উদার দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণ করে চার সপ্তাহের জন্য রুল জারি করেছেন। ঈদের পর আদালত খুললে চূড়ান্ত শুনানি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিটের মূল সাংবিধানিক যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি গণভোট সংক্রান্ত যে অর্ডিন্যান্স জারি করেছেন, তা সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে করা হয়েছে। কিন্তু ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এমন কোনো বিষয়ে অর্ডিন্যান্স করা যায় না, যার বিধান মূল সংবিধানে নেই। বর্তমান সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধানই নেই। এছাড়া ১৯৭২ সালে সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট অর্ডার নামে কোনো ব্যবস্থা সাংবিধানিক কাঠামোয় নেই। আদালত প্রাথমিকভাবে (প্রাইমা ফেসি) এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই রুল জারি করেছেন।
মামলায় কোনো স্থগিতাদেশ বা স্টে অর্ডার চাওয়া হয়নি উল্লেখ করে মামুন মাহবুব বলেন, ‘রুল জারির ফলে ভবিষ্যৎ সংসদের এখতিয়ার খর্ব হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট অর্ডার সংসদে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ এটি ভয়েড অ্যাব ইনিশিও বা জন্ম থেকেই অকার্যকর।’
রিটে থাকা শপথ সংক্রান্ত অংশটি প্রত্যাহার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মূলত আদেশ ও গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। মূল আদেশের ওপর রুল হলে আনুষঙ্গিক বিষয় হিসেবে শপথ এমনিতেই বাতিল হয়ে যাবে।’ বিগত সরকার সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নিয়ে ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সাংবিধানিক শাসনের মধ্যেই ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিষয়টিকে রাজনৈতিক আখ্যা দিয়ে আদালতের ওপর দায় চাপানোর অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগকে সরকারের বা সংসদের যেকোনো আইন পরীক্ষা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা আদালতের স্বাধীন এখতিয়ার।’

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এই রুল জারির পর রাজনৈতিক ঐকমত্যের বিষয়কে আদালতের বিচারাঙ্গনে নিয়ে আসা এবং সাংবিধানিক এখতিয়ারের প্রয়োগ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া আইনজীবীদের মধ্যে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। রুল জারির পর এই আইনি পদক্ষেপের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং এর সাংবিধানিক পরিণতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রিটের বিরোধিতাকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশ ও অধ্যাদেশকে শুরু থেকেই বাতিল বা ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ এবং ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলে দাবি করেছেন রিটকারী পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব।
আজ আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব ও আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুও । অন্যদিকে রিটের বিরোধিতা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তাদের আইনি সহযোগিতা করেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা, সাদ্দাম হোসেন ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
এর আগে সোমবার (২ মার্চ) জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পৃথক দুটি রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি ও অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম।
এছাড়া গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা এবং এর কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে জনস্বার্থে আরেকটি রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। এসব রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
আদালতের রুল জারির পর এই আইনি পদক্ষেপের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং এর সাংবিধানিক পরিণতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রিটের বিরোধিতাকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিষয়টিকে ‘প্যান্ডোরার বক্স খোলার’ সঙ্গে তুলনা করে রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতে আনার সমালোচনা করেন।
আইনজীবী শিশির মনির জানান, দুটি রিট পিটিশনে মূলত রুল জারি হয়েছে। প্রথম রুলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ কেন অসাংবিধানিক হবে না, দ্বিতীয়ত গণভোট অধ্যাদেশের ধারা ৩-এ উল্লিখিত চারটি প্রশ্ন কেন অবৈধ হবে না এবং তৃতীয়ত গণভোট অধ্যাদেশের তফসিলে প্রস্তাবিত ৩০টি সংস্কার কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না— তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
৫ আগস্টের পর সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার রাজনৈতিক উদ্যোগকে আদালতে ‘সাবজেক্ট ম্যাটার’ বা ‘বিচার্য বিষয়’ বানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অতীতে রাজনৈতিকভাবে নিষ্পত্তিযোগ্য বিষয় আদালতে নেওয়ার ফল কখনোই ইতিবাচক হয়নি।’ বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের ঐকমত্যে গৃহীত ৩০টি প্রস্তাব রুলের আওতায় আনার পেছনে কার নির্দেশনা রয়েছে, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
শুনানি ও রিট পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের একটি অংশের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘এতে ধারণা করা যায় সংস্কার প্রস্তাব সংসদে নিষ্পত্তি না করে আদালতের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা তৈরির চেষ্টা হতে পারে।’
সরকারের অবস্থানকে ‘দ্বিচারিতা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘একদিকে ৩০ দফা ঐকমত্যের অংশ হিসেবে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার প্রস্তাব চাওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে একই বিষয় আদালতে রুলের আওতায় এসেছে।’
ডেপুটি স্পিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে এ বিষয়ে বিধান রয়েছে। ঐকমত্য হওয়ার পরও বিষয়টি আদালতে আনা হয়েছে কেন—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বা গণভোটের প্রশ্ন অবৈধ হলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন, সরকার ও ক্ষমতার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এ ধরনের পদক্ষেপ প্যান্ডোরার বক্স খুলে দেওয়ার শামিল, যার দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালতের বিষয়বস্তু করে সংসদকে পাশ কাটানোর কৌশল অতীতে ইতিবাচক ফল দেয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই রিট কেবল একটি সাধারণ রিট নয়; এটি দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রিট আবেদনটির আইনি ত্রুটি তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, যাদের শপথ প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বা জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী কোনো রাজনৈতিক দলকে রিটে পক্ষভুক্ত করা হয়নি। বিএনপিও রিটের পক্ষভুক্ত নয়। এই হাইড অ্যান্ড সিক আচরণের কারণে রিটটি পক্ষদোষে দুষ্ট বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রিটে পক্ষভুক্ত না করার বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে তিনি বলেন, পক্ষ হওয়ার প্রশ্ন আলাদা তবে পক্ষ না করে বিষয়টি আদালতে আনা হয়েছে কেন—সেটিই প্রশ্ন।
এছাড়া গণভোট সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর প্রশ্নপত্রকে চ্যালেঞ্জ করার অর্থ ফলাফলকেই চ্যালেঞ্জ করা বলে তিনি মত দেন। সংসদ কার্যক্রম প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, আদালতের রুলে সুনির্দিষ্ট স্থগিতাদেশ না থাকায় সংসদ, সংস্কার পরিষদ বা কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি গঠনে কোনো বাধা নেই; তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় আলাদা। তিনি আরো বলেন, রুলকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কার্যক্রম না চালালে তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ভুল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রচলিত রীতিতে রুল জারির বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ না থাকলেও এ নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশ ও অধ্যাদেশকে শুরু থেকেই বাতিল বা ভয়েড অ্যাব ইনিশিও এবং সংবিধান পরিপন্থি বলে দাবি করেছেন রিটকারী পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। আদালতের আদেশের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি রিটের মূল আইনি ও সাংবিধানিক যুক্তিগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে গণতন্ত্র ও সংস্কার টিকবে না।’
আইনজীবী মামুন মাহবুব জানান, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত আদেশ ও অধ্যাদেশ দুটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং আলট্রা ভাইরেস টু দ্য কনস্টিটিউশন দাবি করে রিটে রুল চাওয়া হয়েছিল। শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী এহসানুল করিমসহ তিনি নিজে এবং ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়াসহ একাধিক আইনজীবী অংশ নেন। আদালত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ও অ্যাডিশনাল অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শুনেছেন।
এমনকি মামলার প্রার্থনার সঙ্গে একমত নন এমন আইনজীবীদেরও বক্তব্য শুনে আদালত একটি ‘লিবারেল ভিউ’ বা ‘উদার দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণ করে চার সপ্তাহের জন্য রুল জারি করেছেন। ঈদের পর আদালত খুললে চূড়ান্ত শুনানি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিটের মূল সাংবিধানিক যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি গণভোট সংক্রান্ত যে অর্ডিন্যান্স জারি করেছেন, তা সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে করা হয়েছে। কিন্তু ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এমন কোনো বিষয়ে অর্ডিন্যান্স করা যায় না, যার বিধান মূল সংবিধানে নেই। বর্তমান সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধানই নেই। এছাড়া ১৯৭২ সালে সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট অর্ডার নামে কোনো ব্যবস্থা সাংবিধানিক কাঠামোয় নেই। আদালত প্রাথমিকভাবে (প্রাইমা ফেসি) এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই রুল জারি করেছেন।
মামলায় কোনো স্থগিতাদেশ বা স্টে অর্ডার চাওয়া হয়নি উল্লেখ করে মামুন মাহবুব বলেন, ‘রুল জারির ফলে ভবিষ্যৎ সংসদের এখতিয়ার খর্ব হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট অর্ডার সংসদে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ এটি ভয়েড অ্যাব ইনিশিও বা জন্ম থেকেই অকার্যকর।’
রিটে থাকা শপথ সংক্রান্ত অংশটি প্রত্যাহার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মূলত আদেশ ও গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। মূল আদেশের ওপর রুল হলে আনুষঙ্গিক বিষয় হিসেবে শপথ এমনিতেই বাতিল হয়ে যাবে।’ বিগত সরকার সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নিয়ে ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সাংবিধানিক শাসনের মধ্যেই ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিষয়টিকে রাজনৈতিক আখ্যা দিয়ে আদালতের ওপর দায় চাপানোর অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগকে সরকারের বা সংসদের যেকোনো আইন পরীক্ষা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা আদালতের স্বাধীন এখতিয়ার।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ই-মেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করছে একটি প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে এনবিআর কর্তৃপক্ষ।
১ ঘণ্টা আগে
আগামী ১৫ মার্চ শেষ হচ্ছে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার সময়সীমা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা হিসাব না দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
১ ঘণ্টা আগে
রমজানে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছে নোয়াখালীর একদল স্বেচ্ছাসেবী তরুণ। নোয়াখালী সদর ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রতিদিন মাত্র ‘দুই টাকায় ইফতার’ কিনতে পারছেন অন্তত ২০০ অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটি স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
তিন শ্রেণীর নাগরিকের জন্য দূরপাল্লার আন্তঃনগর ট্রেন ও মেট্রোরেলের ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
১ ঘণ্টা আগে