স্ট্রিম প্রতিবেদক

অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেবেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে 'জনমুখী বাজেট ৭ প্রস্তাবনা' বা 'জনমুখী বাজেট ২০২৬-২৭ প্রস্তাবনা' শীর্ষক অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান এ কথাগুলো বলেন। রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জামায়াত আমির বলেছেন, ‘আমাদের অর্থবছর হচ্ছে জুলাই টু জুন। জুন মাস বর্ষা, খরা, দুর্যোগ, সাইক্লোন—এগুলোতে সাধারণত আমাদের দেশ আক্রান্ত হয়। আমরা লক্ষ করি, এডিপির (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির) একটা বিশাল অংশ শেষের দুই মাসে তাড়াহুড়ো করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি বাস্তবায়ন নয়, এটি হচ্ছে গণলুটপাট। এর সুফল জনগণ পায় না। কিছু অসৎ সুবিধাভোগীদের পকেটে সুফল চলে যায়।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা সংসদে প্রস্তাব দেব, আমাদের অর্থবছরটি যেন ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে করা হয়। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের টাকাগুলো ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাবে না। এই টাকাগুলোর খবর পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।’
অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতের আশঙ্কা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, ও সাংবিধানিক সব জায়গায় নির্ধারণ বা নির্লজ্জ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ একেবারেই স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংক ও বিমা করপোরেশন—সবগুলোতে আজ সেই থাবা বিস্তৃত হচ্ছে। সমাজের অপরাধী লোকদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ বিভিন্নভাবে প্রমাণিত। এভাবে যদি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর রাজনৈতিক অন্যায্য হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকে, তাহলে জাতির গন্তব্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটি নিশ্চিত নয়।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি লাগবে। যদি এগুলো না থাকে, তাহলে যে বাজেটই সরকার দিক, ওই বাজেট কার্যকর হবে না।
শফিকুর রহমান বলেন, সম্পূরক বাজেট বছর শেষ হওয়ার ন্যূনতম তিন মাস আগে সংসদে পেশ করতে হবে। কিন্তু সম্পূরক বাজেট পাওয়া যায় শেষ মাসে। এর মাঝে বৈধ, অবৈধ, ন্যায্য ও অন্যায্য সব খরচ হয়ে যায়। কালো-সাদা একাকার হয়ে যায়। তারপরে সম্পূরক বাজেট সংসদের সামনে এলে জনগণের লাভ হয় না।
দেশের কর আদায়ের পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ তিনটি কর দেয়। একটা ট্রেজারিতে জমা হয়; একটা যায় কিছু ব্যক্তির পকেটে, যারা কর আদায় করে, আরেকটা যায় চাঁদাবাজদের পকেটে।
তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ, যার কারণে ট্রেজারির ট্যাক্সটা তাঁদের টার্নওভার ভলিউমের দিক থেকে ছোট হয়ে আসে। এখানে যদি সততা এবং স্বচ্ছতা মেনটেইন করা যায়, অটোমেটিক্যালি ব্যবসায়ীরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে আরও বেশি ট্যাক্স দেবেন।’
জামায়াতের আমির আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের অপমানজনকভাবে বিদায়ের পর জনঅভিপ্রায়ের ভিত্তিতে একটি সরকার গঠিত হয়েছিল। তাঁরাও জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেননি। বিভিন্ন কথা এখন অনেকে স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন, তবে সে সময় যাঁরা সরকারে ছিলেন, অনেকে চুপ করে আছেন। তাঁরা যদি ইনসাফ করতেন আজকের বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। নির্বাচনে জনগণ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিয়েছে। ভোট সুষ্ঠু হয়েছে, তবে ফলাফল সুষ্ঠু হয়নি। ইতিমধ্যেই আত্মস্বীকৃত বিভিন্ন সাক্ষীও পাওয়া গেছে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটকে অস্বীকার করে দুটি শপথের জায়গায় একটি শপথ নিয়েছে। তাঁরা আরেকটি শপথ কেন নিলেন না তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, নির্বাচন হওয়ার স্বার্থে তাঁরা জনগণকে অনেক কিছু বলেছেন, আসলে এটি তাঁদের মনের কথা নয়।
যদি রাজনীতিবিদরা এভাবেই জনগণকে ধোঁকা দেন, তাহলে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা তৈরি হবে কীভাবে—সেই প্রশ্ন রাখেন শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার সভাপতি তাসমিয়া প্রধান প্রমুখ।
জামায়াতের দলীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির মজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।

অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেবেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে 'জনমুখী বাজেট ৭ প্রস্তাবনা' বা 'জনমুখী বাজেট ২০২৬-২৭ প্রস্তাবনা' শীর্ষক অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান এ কথাগুলো বলেন। রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জামায়াত আমির বলেছেন, ‘আমাদের অর্থবছর হচ্ছে জুলাই টু জুন। জুন মাস বর্ষা, খরা, দুর্যোগ, সাইক্লোন—এগুলোতে সাধারণত আমাদের দেশ আক্রান্ত হয়। আমরা লক্ষ করি, এডিপির (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির) একটা বিশাল অংশ শেষের দুই মাসে তাড়াহুড়ো করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি বাস্তবায়ন নয়, এটি হচ্ছে গণলুটপাট। এর সুফল জনগণ পায় না। কিছু অসৎ সুবিধাভোগীদের পকেটে সুফল চলে যায়।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা সংসদে প্রস্তাব দেব, আমাদের অর্থবছরটি যেন ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে করা হয়। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের টাকাগুলো ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাবে না। এই টাকাগুলোর খবর পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।’
অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতের আশঙ্কা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, ও সাংবিধানিক সব জায়গায় নির্ধারণ বা নির্লজ্জ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ একেবারেই স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংক ও বিমা করপোরেশন—সবগুলোতে আজ সেই থাবা বিস্তৃত হচ্ছে। সমাজের অপরাধী লোকদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ বিভিন্নভাবে প্রমাণিত। এভাবে যদি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর রাজনৈতিক অন্যায্য হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকে, তাহলে জাতির গন্তব্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটি নিশ্চিত নয়।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি লাগবে। যদি এগুলো না থাকে, তাহলে যে বাজেটই সরকার দিক, ওই বাজেট কার্যকর হবে না।
শফিকুর রহমান বলেন, সম্পূরক বাজেট বছর শেষ হওয়ার ন্যূনতম তিন মাস আগে সংসদে পেশ করতে হবে। কিন্তু সম্পূরক বাজেট পাওয়া যায় শেষ মাসে। এর মাঝে বৈধ, অবৈধ, ন্যায্য ও অন্যায্য সব খরচ হয়ে যায়। কালো-সাদা একাকার হয়ে যায়। তারপরে সম্পূরক বাজেট সংসদের সামনে এলে জনগণের লাভ হয় না।
দেশের কর আদায়ের পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ তিনটি কর দেয়। একটা ট্রেজারিতে জমা হয়; একটা যায় কিছু ব্যক্তির পকেটে, যারা কর আদায় করে, আরেকটা যায় চাঁদাবাজদের পকেটে।
তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ, যার কারণে ট্রেজারির ট্যাক্সটা তাঁদের টার্নওভার ভলিউমের দিক থেকে ছোট হয়ে আসে। এখানে যদি সততা এবং স্বচ্ছতা মেনটেইন করা যায়, অটোমেটিক্যালি ব্যবসায়ীরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে আরও বেশি ট্যাক্স দেবেন।’
জামায়াতের আমির আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের অপমানজনকভাবে বিদায়ের পর জনঅভিপ্রায়ের ভিত্তিতে একটি সরকার গঠিত হয়েছিল। তাঁরাও জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেননি। বিভিন্ন কথা এখন অনেকে স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন, তবে সে সময় যাঁরা সরকারে ছিলেন, অনেকে চুপ করে আছেন। তাঁরা যদি ইনসাফ করতেন আজকের বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। নির্বাচনে জনগণ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিয়েছে। ভোট সুষ্ঠু হয়েছে, তবে ফলাফল সুষ্ঠু হয়নি। ইতিমধ্যেই আত্মস্বীকৃত বিভিন্ন সাক্ষীও পাওয়া গেছে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটকে অস্বীকার করে দুটি শপথের জায়গায় একটি শপথ নিয়েছে। তাঁরা আরেকটি শপথ কেন নিলেন না তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, নির্বাচন হওয়ার স্বার্থে তাঁরা জনগণকে অনেক কিছু বলেছেন, আসলে এটি তাঁদের মনের কথা নয়।
যদি রাজনীতিবিদরা এভাবেই জনগণকে ধোঁকা দেন, তাহলে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা তৈরি হবে কীভাবে—সেই প্রশ্ন রাখেন শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার সভাপতি তাসমিয়া প্রধান প্রমুখ।
জামায়াতের দলীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির মজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।

সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির অংশ নেওয়া নিয়ে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাতের কোনো অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
৪ মিনিট আগে
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য পুরো নথি হাইকোর্টে এসেছে।
১৪ মিনিট আগে
পেশাগত পোশাক পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটক, ফেসবুক রিলস বা ইনস্টাগ্রামে বিনোদনমূলক ভিডিও বা ছবি প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
৩৮ মিনিট আগে
সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কোনো বাধ্যবাধকতা সংবিধানে নেই উল্লেখ করে হাই কোর্টের রায়ের আইনি পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
১ ঘণ্টা আগে