মায়ের অমানবিক মৃত্যু, সেই যুগ্ম-সচিবকে ওএসডি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

মায়ের অমানবিক মৃত্যুর ঘটনায় ছেলে যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানকে ওএসডি করেছে সরকার। স্ট্রিম গ্রাফিক

রাজধানীর মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটে ৭৫ বছর বয়সী মা নূরজাহান বেগমের অমানবিক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ছেলে ও সরকারের যুগ্ম সচিব এ. কে. এম. আনিসুর রহমানকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি বা ওএসডি) হয়েছে। তাঁকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আজ বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জেতী প্রু’র সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আনিসুর রহমানকে আগামী ৪ জুনের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় তিনি ৪ জুন অপরাহ্ণে বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য হবেন।

প্রশাসনিক ভাষায় কোনো কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট কোনো দপ্তরে পদায়ন না করে মন্ত্রণালয়ে ‘সংযুক্ত’ রাখার অর্থ হলো তাঁকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের সেকশন-৬-এর একটি বাসা থেকে বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় দেখা যায়, অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল তাঁর নিথর দেহ। এমনকি মরদেহে পোকা ও ফাঙ্গাস ধরে গিয়েছিল বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

নূরজাহান বেগমের এক ছেলে ড. আনিসুর রহমান সরকারের যুগ্ম সচিব, অন্য ছেলে বুয়েটের শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় স্কুলের শিক্ষক। উচ্চপদস্থ ও শিক্ষিত সন্তানদের থাকার পরও মায়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এরপর আজ সকালেই জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানান, ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন-২০১৩’ অনুযায়ী ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ড. আনিসুর রহমানকে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি হলো।

২০১৩ সালের পিতা-মাতা ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী, কোনো সন্তান তাঁর বাবা-মাকে অবহেলা করলে বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা না দিলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা বা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মায়ের প্রতি অবহেলার বিষয়টি বিভাগীয় অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত