ঢাকায় জ্বলছে না গ্যাসের চুলা, রাত জেগে রান্না

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

চাপ কম থাকায় জ্বলছে না চুলা। স্ট্রিম গ্রাফিক

রাজধানীতে লাইন গ্যাসের সংকট তীব্র। দিনে চাপ কম থাকায় জ্বলছে না চুলা। রাত জেগে রান্না সারতে হচ্ছে। এতে দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। মিরপুর বাউনিয়াবাদের বাসিন্দা শারমিন টুম্পা জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় গ্যাসের সংকট আগেই ছিল। ভোর ৪টা থেকে ঘণ্টা দুই পাওয়া যেত। এখন দিনে থাকছেই না। অধিকাংশ পরিবার রাত জেগে কিংবা সিলিন্ডার কিনে রান্না সারতে বাধ্য হচ্ছেন।

পেট্রোবাংলা ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ভাষ্যে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে গেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা। টাকা দিয়েও গ্যাস মিলছে না। দ্রুত খনির সন্ধান এবং সেখান থেকে উৎপাদন ছাড়া এই সংকট সহসা কাটবে না।

জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তারিকুল ইসলাম খান স্ট্রিমকে বলেন, গ্যাস সংকটের সমাধান দ্রুত হবে না। বরং সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, অভ্যন্তরীণ গ্যাসের মজুত দ্রুত কমছে। কূপগুলো ড্রাই হচ্ছে। পরে ওয়ার্কওভার করে আরও কিছু গ্যাস উঠানো সম্ভব হচ্ছে। নতুন খনি আবিষ্কার ছাড়া এই সংকট কাটবে না।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে তিনটির সঙ্গে চুক্তি থাকলেও মাত্র একটি কোম্পানি এলএনজি দিচ্ছে। তাও পুরোটা দিতে পারছে না। স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। গ্যাস সংকটের এটাও অন্যতম কারণ। যুদ্ধ না থামলে, সংকট কমবে না।

সংকটে দিশাহারা গৃহিণীরা

রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, খিলগাঁওয়ে গ্যাসের সংকট বেশি। এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগে অল্প পরিমাণে গ্যাস পাওয়া গেলেও, এখন থাকছেই না। গভীর রাতে দেখা মিললেও, চাপ কম। রাত জেগে রান্না সারছি। আবার ভিন্ন উপায়ে খাবার জোগাড় করতে হচ্ছে। এতে যেমন খরচ বাড়ছে, তেমনি বাইরের খাবারে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

মোহাম্মদপুরের চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের বাসিন্দা ইসমাইল হক স্ট্রিমকে বলেন, আগে ভোরে থাকত। আবার বিকেলে কয়েক ঘণ্টা পাওয়া যেত। এখন টানা কয়েক দিন থাকছে না। পুরো এলাকায় একই অবস্থা। বাধ্য হয়ে অনেকে সিলিন্ডার, ইলেকট্রিক চুলা, কেরোসিন স্টোভে রান্না করছেন।

রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, খিলগাঁওয়ে গ্যাসের সংকট বেশি। এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগে অল্প পরিমাণে গ্যাস পাওয়া গেলেও, এখন থাকছেই না। গভীর রাতে দেখা মিললেও, চাপ কম। বাইরে থেকে খাবার জোগাড়ে যেমন খরচ বাড়ছে, তেমনি পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

একই এলাকার নবোদয় হাউজিংয়ের বাসিন্দা শামসু রুবেল জানান, তাদের বাসায় গত ১৫ দিন সকালের নাস্তা তৈরি হয়নি। প্রতিদিন বাইরে থেকে আনতে হয়েছে। এক-দুই দিন দুপুরের পরে একটু গ্যাস পাওয়া যায়।

রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়া আহমেদনগর এলাকা সালমা আক্তার বলেন, ‘খুবই সমস্যায় রয়েছি। সন্তানেরা ভাজাপোড়া খাওয়ার আবদার করে। বাইরেরটা দিতে সাহস পাই না। ঘরেও তৈরি করতে পারছি না। এভাবে কতদিন চলবে, আল্লাহই ভালো জানেন।’

মিরপুরের মাটিকাটার বাসিন্দা ফাহাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে কয়েকদিন ধরে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সকালে থাকে না। অথচ ওই সময়ে বেশি দরকার। বাধ্য হয়ে যখন থাকছে, রান্না করে রেখে ওভেনে গরম করে খাচ্ছি। গ্যাস কখন আসবে, সেজন্য তীর্থের কাকের মতো প্রহর গুণতে হচ্ছে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত