বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ

৩ বছর পেছানোর সুপারিশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ১৪: ৫০
বক্তব্য দিচ্ছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত
বক্তব্য দিচ্ছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। এজন্য আবেদনটি সাধারণ পরিষদে পাঠানোর সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)।

বুধবার (২২ জুলাই) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার ইকোসকের বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর আবেদন চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে খসড়া সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। এ সময় প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন তিনি।

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) মূল্যায়নের ভিত্তিতে ইকোসক এই সুপারিশ করে। সিডিপি ওই মূল্যায়নে বাংলাদেশ ও নেপালের আবেদন সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপযুক্ত বলে মত দিয়েছে।

ইকোসক সুপারিশ করেছে, বর্তমানে নির্ধারিত এলডিসি উত্তরণের তারিখ ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের আগেই সাধারণ পরিষদ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ টেকসই ও সুশৃঙ্খল এলডিসি উত্তরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাধারণ পরিষদ প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে এলডিসি-পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হবে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আগামী তিন বছরের জন্য ২৫ দফা সংস্কার কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে সরকার। এতে ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণের তিনটি সূচক— মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক— পূরণ করেছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সীমিত রপ্তানি বৈচিত্র্য ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় এলডিসি-পরবর্তী ধাক্কা মোকাবিলায় প্রস্তুতির জন্য সরকার আরও তিন বছর সময় চেয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত