বিশেষজ্ঞ এনে ত্রুটি শনাক্ত, গ্যাস সংকট আরও ২-৪ দিন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৯: ১১
কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ দিনেও কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের ত্রুটি মেরামত করা যায়নি। এই কারণে দেশজুড়ে গ্যাস সংকট অব্যাহত রয়েছে। এলএনজি টার্মিনালের বয়লার ক্যাবলে আগুনের কারণে ত্রুটি দেখা দেয়। গত বৃহস্পতিবার বিদেশি বিশেষজ্ঞদের আনার পর ত্রুটি শনাক্ত হয়। কয়েক দিনের মধ্যে ত্রুটি মেরামত হবে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন স্ট্রিমকে জানান, বৃহস্পতিবার বিদেশি বিশেষজ্ঞরা আসার পরই কাজ শুরু হয়েছে। কবে নাগাদ টার্মিনাল সচল হবে– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটি নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। আরও দুই-চার দিন লেগে যেতে পারে।’

গত ২১ জুলাই কারিগরি ত্রুটির কারণ দেখিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় প্রকৌশলীরা টার্মিনালের ত্রুটি শনাক্ত করতে না পারায় বিদেশি বিশেষজ্ঞ আনা হয়।

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় পেট্রোবাংলার উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তারিকুল ইসলাম খান স্ট্রিমকে বলেছেন, ‘ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এখন সেটি মেরামতের কাজ চলছে। বয়লার ক্যাবল থেকে টার্মিনালে আগুন লেগেছিল। এরপর টার্মিনাল বন্ধ রাখা হয়।’

আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করছে এক্সিলারেট এনার্জি। আরেকটি সামিট গ্রুপ।

বেশ কয়েক বছর ধরে দেশে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম। এই দুটি টার্মিনাল থেকে ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়। কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ আরও কমে গেছে। দেশে প্রতিদিন সরবরাহ করা মোট গ্যাসের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে এলএনজি থেকে। স্বাভাবিকভাবেই এলএনজির সরবরাহ কমলে গ্যাস সংকট বেড়ে যায়।

টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর গত ২২ জুলাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এক অনুষ্ঠানে বলেন, এলএনজি গ্রহণ ও রূপান্তরের জন্য মাত্র দুটি টার্মিনাল থাকায় একটিতে সমস্যা দেখা দিলেই সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি হয়।

আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করছে এক্সিলারেট এনার্জি। আরেকটি সামিট গ্রুপ। এই দুটি টার্মিনাল থেকে ১০০-১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়। কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ আরও কমে গেছে।

আরপিজিসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে দুটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে ল্যান্ড বেইজড ও মহেশখালীতে ‘কুতুবজোম’ ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হচ্ছে। সরকার পায়রা বন্দর এলাকায় আরেকটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র (যুগ্ম সচিব) মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের ওপর পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস নিতে পারছে না। ফলে কয়েকটি স্থানে সিএনজি নিতে দীর্ঘ লাইন এবং জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি। তবে দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে চলা আমদানিনির্ভরতার কারণে গ্যাস সংকটের প্রভাব তীব্র হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত