কাতারের এলএনজি সরবরাহ কমছে, বিকল্প উৎসের খোঁজে বাংলাদেশ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

পারস্য উপসাগরে এলএনজিবাহী জাহাজের প্রতীকী ছবি। রয়টার্সের সৌজন্যে

কাতারের প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত এলএনজি কার্গোর অর্ধেক সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ।

ইরানের হামলায় কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের দুটি তরলীকরণ ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কাতারএনার্জি জানিয়েছে, এই ইউনিট দুটি মেরামতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। ফলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৪০টি এলএনজি কার্গোর মধ্যে মাত্র ২০টি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এই সীমিত সরবরাহ আগামী কয়েক বছর অব্যাহত থাকতে পারে।

বাংলাদেশ চলতি বছর ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা করেছিল, যার ৩৫ শতাংশ সরবরাহের দায়িত্ব ছিল কাতারএনার্জির। মার্চের মাঝামাঝি হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় কাতার গত ৪ মার্চ ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করে। পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডকে (আরপিজিসিএল) ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে নির্ধারিত কার্গোর অর্ধেক দেওয়া সম্ভব হবে না।

কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি বলেছেন, বিশ্ববাজার থেকে বছরে ১ কোটি ২৮ লাখ টন এলএনজি কমে যাবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে অ্যাঙ্গোলার মতো দেশ থেকে কিছু কার্গো সংগ্রহ করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার ধারণা, আলোচনা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারিত কার্গোর অন্তত ৮০ শতাংশ পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হলে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও ইরানের টোল আদায়ের কারণে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে গত ২২ জুন কাতারের বারজান গ্যাস প্ল্যান্টে নতুন করে বিস্ফোরণের ঘটনায় সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার জন্য আমদানিকৃত এলএনজি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় গ্যাসের মজুত কমে আসায় এবং বিকল্প উৎস খুঁজতে বিলম্ব হলে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। তাছাড়া, স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হলে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

সূত্র: ইনটেলইন নিউজ

Ad 300x250

সম্পর্কিত