leadT1ad

গোল্ডেন স্পেকট্রামের নিলাম বিতর্কে যা বললেন ফয়েজ তৈয়্যেব

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ৩২
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ফাইল ছবি

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বেসলাইন স্পেকট্রাম বা তরঙ্গের দাম কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যেব। তিনি বলেন, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের এই তরঙ্গের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমিয়ে প্রতি মেগাহার্টজ ২৬৭ কোটি টাকা থেকে ২৩০ বা ২৩৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড তরঙ্গের নিলাম নিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এরপর বিটিআরসি নিলামের তারিখ পিছিয়ে ২১ জানুয়ারি রেখেছে। কিন্তু প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার এই নিলামে একমাত্র দরদাতা গ্রামীণফোনের অংশ এবং প্রক্রিয়া থেকে অন্যান্য অপারেটরের সরে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ফয়েজ আহমদ স্ট্রিমকে বলেছেন, আদালত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে নিলামের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। রিটে যে ব্যাখ্যা আদালত চেয়েছেন, তা আমরা দেব। তিনি বলেন, অনেকগুলো তরঙ্গ একসঙ্গে স্পেকট্রাম দিলে সাধারণত নিলামে দাম কমে যায়। এজন্য স্বাভাবিকভাবে একটির পর আরেকটি করা হয়। এখন আমরা প্রথমে ৭০০ মেগাহার্টজের নিলাম করব। এরপর সামান্য যে তরঙ্গ আছে, তার জন্য আরেকটি নিলাম করব। এতে সব পক্ষের দাবিই করা রক্ষা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এই বিশেষ সহকারী বলেন, এখন ভুলভাবে বলা হচ্ছে– নিলাম বন্ধ বা একজনই পাচ্ছে। অন্যরা তো বিনিয়োগ করতেই চায় না। যে বিনিয়োগ করবে না, তাঁকে তো জোর করে আনতে পারব না। আবার কারও জন্য তো রাষ্ট্রীয় সম্পদ বসিয়ে রাখতে পারি না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ৭০০ তরঙ্গ না দিলে আমাদের ফোর-জি এবং ফাইভ-জির নেটওয়ার্ক কাভারেজের কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) সমস্যার সমাধান হবে না।

দরপত্রের শুরু থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে ফয়েজ আহমদ জানান, ৭০০ মেগাহার্টজের তরঙ্গ বরাদ্দের বিষয়ে দেশের তিনটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রথমে তাঁদের চিঠি দেন। পরে কোম্পানিগুলোর গ্রুপ থেকেও তরঙ্গের দাম কমানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর বিটিআরসি কমিশন সভায় আলোচনার মাধ্যমে দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং পরে তা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাস করানো হয়।

তিনি বলেন, ‘ইট ওয়াজ আ ভেরি ডিফিকাল্ট জব। অর্থ মন্ত্রণালয়কে বুঝিয়ে আমরা ১০ শতাংশ দাম কমিয়েছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বেসলাইন স্পেকট্রাম থেকে দাম কমানো হয়েছে।’

বিনিয়োগ ও অপারেটরদের আগ্রহের প্রসঙ্গ তুলে ফয়েজ আহমদ বলেন, প্রত্যেক নেটওয়ার্কের ফ্রিকোয়েন্সি প্ল্যান অনুযায়ী হার্ডওয়্যার কিনতে হয়, যা শত মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ। গ্রামীণফোন এই ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে বিনিয়োগ করবে। তবে রবি ও বাংলালিংক তাদের বর্তমান তরঙ্গে বিনিয়োগ করতে চায় এবং সেখানে তারা বাড়তি কিছু তরঙ্গ চায়।

তিনি বলেন, অপারেটররা প্রথমে এক মাস সময় চেয়েছিল। তাদের দুই সপ্তাহ এবং পরে ডকুমেন্ট জমার জন্য আরও এক মাস দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও আসেনি। তারা মূলত টালবাহানা করছিল যাতে অন্য কেউ তরঙ্গ না পায়। টেলিকম খাতে ‘আমি না পেলে আমার প্রতিপক্ষও যেন না পায়’– এমন চর্চা রয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত