সাগরে আজ মধ্যরাত থেকে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ০৮
৫৮ দিনের জন্য মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। স্ট্রিম গ্রাফিক

বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ৪৭৫ প্রজাতির মাছের অবাধ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৫৮ দিনের জন্য মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে।

মেরিন ফিশারিজ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছিল সরকার। শুরুতে এটি কেবল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিশিং ট্রলারের জন্য প্রযোজ্য হলেও ২০১৯ সাল থেকে সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকাকেও এর আওতায় আনা হয়। তবে দীর্ঘ ৬৫ দিনের এই অবরোধ নিয়ে বাংলাদেশি জেলেদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরা বন্ধ থাকার সুযোগে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেরা দেশীয় জলসীমায় প্রবেশ করে অবাধে মাছ শিকার করে।

জেলেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত বছর থেকে এই অবরোধের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করে। ভারতের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবরোধ সাত দিন কমিয়ে ৫৮ দিন করা হয়। গত বছর ১১ মার্চ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়, যা চলতি বছরেও বহাল রয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় সরকার বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে। উপকূলীয় ১৪টি জেলার ৬৭টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগরসহ মোট ৩,১১,০৬২ জন সমুদ্রগামী জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি হারে চাল দেওয়া হবে। ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ৫৮ দিনের জন্য এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় ৩,৫৮৫টি অভিযান এবং ১৩৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সে সময় ৮১.৬২ মেট্রিক টন মাছ, ৫,২১৯টি জাল এবং ৪৫টি নৌযান জব্দ করা হয়েছিল। আইন অমান্য করায় ১৬ জনকে কারাদণ্ড এবং মোট ৩৪.৮২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সম্পর্কিত