কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এল ৫৮ ফুট দৈর্ঘ্যের মৃত তিমি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বরিশাল

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ২০: ১৯
তিমিটি কুয়াকাটার সৈকতের ঝাউবন এলাকায় জোয়ারে ভেসে আসে। সংগৃহীত ছবি

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর সাগরে ৫৮ ফুট দীর্ঘ বেলিন প্রজাতির তিমি মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিমিটিকে দেখতে পান স্থানীয় জেলেরা। পরে তিমিটি বেলা দুইটার দিকে কুয়াকাটার সৈকতের ঝাউবন এলাকায় জোয়ারে ভেসে আসে।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে যান উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটার (উপরা) সদস্যরা। উপরার আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু খলিফা বলেন, তিমিটি অন্তত ৪০ ফুট লম্বা হবে। দেখে মনে হচ্ছে প্রায় এক সপ্তাহ আগে এর মৃত্যু হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে মারা গেছে, সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি জানান, তীব্র পচনের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তিমিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে সাগরের স্রোতে সেটি ধীরে ধীরে কুয়াকাটা সৈকতের দিকেই ভেসে আসে। তি‌মি‌টি বি‌চে র‌য়ে‌ছে। উপ‌জেলা প্রশাস‌নের সহ‌যো‌গিতায় সে‌টি সংরক্ষ‌ণের কার্যক্রম চলমান র‌য়ে‌ছে।

কুয়াকাটার জেলেদের কাছে তিমি নতুন কিছু নয়। মাঝেমধ্যে সাগরে ডলফিন, শুশুক কিংবা ছোট আকারের মৃত সামুদ্রিক প্রাণী দেখা যায়। কিন্তু এমন বিশাল নীল তিমি খুব কমই চোখে পড়ে। তাই কৌতূহলের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে উদ্বেগও। সাগরের গভীরে কী ঘটছে, সেই প্রশ্ন সমুদ্রগামী জে‌লে‌দের ম‌ধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় তিমিটি সংরক্ষণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। উপরা, বাংলাদেশ এনিম্যাল লাভার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া), বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ), উপ‌জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

সংগঠনগুলোর দাবি, তিমিটির কঙ্কাল সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ গবেষণায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে নমুনা সংগ্রহেরও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজিব সরকার বলেন, জাহাজের ধাক্কা, প্লাস্টিক দূষণ, শব্দদূষণ কিংবা খাদ্য সংকটসহ নানা কারণে তিমির মৃত্যু হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, তিমির স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র এবং উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরতে পারে। মৃত তিমিটির যথাযথ সংরক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করা হলে সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তন, সামুদ্রিক প্রাণীর চলাচল এবং তাদের ঝুঁকি সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।

ড. রাজিব সরকারের মতে, তিমিটির কঙ্কাল সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা ভবিষ্যৎ গবেষণা, শিক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত