মুরাদনগরে নারী ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ আটক ৫

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে আজ ভোরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মুরাদনগরের অনিক, সুমন, রমজান ও বাবু।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান গণমাধ্যমে জানান, তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে ফজর আলীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

এই ঘটনার ভুক্তভোগী জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে তিনি সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ফজর আলী জোর করে বাড়িতে ঢুকতে চাইলে তিনি বাধা দেন। কিন্তু বাধা উপেক্ষা করে ফজর আলী জোর করে ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার ফজর আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই মামলা করা হয়।

এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনা শুরু হয়। পরে গতকাল রাতে জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার ভিডিও ধারণকারী তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর এলাকাবাসী ফজর আলীকে পিটিয়ে আহত করে। পরে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান আরো জানান, ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত ফজর আলীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ওই নারীর মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে।

আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট

মুরাদনগরের এ ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগের প্রশ্রয়দাতাদের দায়ী করেছেন স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। শনিবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মুরাদনগরে সকল আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন, পুনর্বাসন এবং ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার, নির্যাতন, চাঁদাবাজি, ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দিয়েছেন–আজকের পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজকে আমি লজ্জিত, আমার বলার ভাষা নেই। এলাকার লোকজন দেখা হলেই বলে গণ-অভ্যুত্থানে দেশ মুক্ত হয়েছে কিন্তু মুরাদনগর আরও বড় মাফিয়াদের দখলে গেছে।’

‘মাফিয়াদের’ লাগাম টেনে ধর‍তে হবে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘স্থানীয় প্রশাসন ধর্ষকদের গ্রেপ্তার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে মূল মাফিয়াদের লাগাম টেনে না ধরা গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।’

বিষয়:

সম্পর্কিত