স্ট্রিম সংবাদদাতা

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলের সকাল। প্রতিদিনের মতো কাজে এসেছিলেন শ্রমিকরা। হঠাৎ বিকট আওয়াজ। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজার ৯তলা ভবনের পুরোটাই। প্রাণ হারান ১১ শ ৩৬ শ্রমিক। শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি এই সংখ্যা ১১ শ ৭৫। ১৩ বছর পরেও সেদিনের ঘটনায় আতঙ্কিত হন বেঁচে ফেরা মানুষেরা। তাদের দাবি, এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু বিচার।
ফিরে দেখা ২৪ এপ্রিল, ২০১৩
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিল রানা প্লাজা। ভবনের প্রথম তলায় ছিল বিভিন্ন দোকান। দ্বিতীয় তলায় দোকান ও ব্যাংকের শাখা। তৃতীয় থেকে সপ্তম তলায় ছিল পোশাক কারখানা। এর মধ্যে তৃতীয় তলায় নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেড, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেডে এবং ফ্যানটম ট্যাগ লিমিটেড, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় ইথারটেক্স লিমিটেড গার্মেন্টস। অষ্টম ও নবম তলা ছিল ফাঁকা।
সেদিন সকালে ভবনে কাজ করছিলেন প্রায় তিন হাজার শ্রমিক। আটটার দিকেই কর্মব্যস্ততা শুরু হয়েছিল। বেলা সাড়ে ৯টার দিকে বিকট শব্দে প্রথম তলার ওপরে পুরো ভবন ধসে পড়ে।
এর পরপরই শুরু হয় উদ্ধার কাজ। শুরুতে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। উদ্ধার কাজে যোগ দেয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসার, র্যাব ও পুলিশ।
এমন ঘটনা নাও ঘটতে পারত
ধসের একদিন আগেই ভবনটির চার ও পাঁচ তলার কয়েকটি পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছিল। তা জেনে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে আসেন। মালিকপক্ষ স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। খবর প্রকাশ হয় সংবাদমাধ্যমে।
বিকেলের দিকে সাভারের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কবির হোসেন সরদার ভবনের ফাটল পরিদর্শন করেন। এরপর ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের বলেন, ‘এ ফাটলে তেমন কোনো সমস্যা নেই। বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা নেই। সামান্য প্লাস্টার উঠে গেছে। সব ঠিক হয়ে যাবে।’
ইউএনওর সেই কথিত আশ্বাসের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভবন ধসের সাক্ষী হয় বাংলাদেশ। ঘটনার পরেই ইউএনওকে বদলি করে দায় এড়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
আহত শ্রমিক, শ্রমিক নেতা ও সুশীল সমাজের দাবি, প্রশাসন যথাযথ তৎপরতা রাখলে হয়তো এমন ঘটনা এড়ানো যেত।
অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন, লাশের গন্ধের সাক্ষী অধরচন্দ্র স্কুল মাঠ
ধসে পড়া রানা প্লাজা থেকে একে একে উদ্ধার হতে থাকে আহত, মৃত মানুষের দেহ। আহতদের নেওয়া হয় আশপাশের হাসপাতালে। মরদেহগুলো নিয়ে যাওয়া হয় সাভারের অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে।
টানা ১৭ দিন ধরে চলা উদ্ধার অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হতো ওই মাঠে। লাশের অপেক্ষায় থাকা স্বজনরা ছুটে আসতেন সাইরেন শুনলেই। এই বুঝি স্বজনের মরদেহ এলো! স্বজনদের আহাজারিতে দিনরাত ভারি হয়ে থাকত অধরচন্দ্র স্কুল মাঠ। প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের পুরোটা জুড়েই তখন কান্না আর সাইরেনের আওয়াজ।
ওই সময় স্কুলটিতে পড়তেন আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘আগে ক্লাসের বাইরেও প্রচুর ঘুরাফেরা, খেলাধুলা করতাম এই মাঠে। কিন্তু রানা প্লাজার ধসে পড়ার পর মৃত লাশগুলো সারি সারি করে রাখা হয়েছিল এখানে। এখনও গা ছমছম করে ওঠে।’
সরকারি হিসাব মতে, প্রায় ১৭ দিনের উদ্ধার অভিযানে রানা প্লাজার ভবন থেকে ১,১৩৬ জন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল ২,৪৩৮ জন শ্রমিককে।
শহীদ বেদি এখন প্রতিবাদের প্রতীক
হতভাগ্য শ্রমিকদের স্মরণে ২০১৩ সালের ২৪ মে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের সামনে একটি শহিদ বেদি নির্মাণ করেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। অস্থায়ী শহিদ বেদিটির নামকরণ করা হয় ‘প্রতিবাদ-প্রতিরোধ’। বেদিটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন চালিয়ে আসছে নানা কর্মসূচি।
এখন যেমন আছে রানা প্লাজার সেই স্থান
ধসের পরপরই প্রায় সব ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এরপর জমিটির চারপাশ কাঁটাতার ও টিনের বেড়া দিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় প্রায় প্রতিদিনই রানা প্লাজায় আহত, নিহত আর নিখোঁজ স্বজনরা জায়গাটিতে আসতেন। তবে ধীরে ধীরে জায়গাটি পরিণত হয় পরিত্যক্ত ভূমিতে।
বর্তমানে জায়গাটিতে নানা লতাপাতার দখল। সামনে বেদি। ফুটপাত জুড়ে রাখা থাকে রেন্ট-এ কারের গাড়ি। তবে ২৪ এপ্রিল এলে নানা কর্মসূচিতে কিছুটা প্রাণ পায় জায়গাটি।
বিচার পাননি হতভাগ্যরা
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় মোট তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে শ্রমিকদের মৃত্যুতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে মামলা করে পুলিশ। ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে আরেকটি মামলা করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) । আর ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে আরেকটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তিনটি মামলার কোনোটিই এখনও শেষ হয়নি। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন ইমারত নির্মাণ বিধিমালা আইনের মামলাটি দীর্ঘদিন হাইকোর্টে স্থগিত। ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগে পুলিশের করা মামলাটি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। আর ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এসব দীর্ঘসূত্রিতায় এখনও বিচার পাননি হতভাগ্যরা।
২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। তবে চার মাসেও এ নির্দেশের অগ্রগতি নেই বললেই চলে।
বাঁচার লড়াই করছেন আহতরা
প্রায় ১৩ বছর ধরে পঙ্গুত্ব নিয়ে বাঁচার লড়াই করে যাচ্ছেন অনেকেই। অসুস্থতা আর দারিদ্র্য নিয়ে তাদের দীর্ঘ সংগ্রাম। শ্রমিক নেতারাও রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের শাস্তি ও শ্রমিকদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে আসছেন এতদিন।
ঘটনার সময় রানা প্লাজার আটতলায় নিউ স্টাইল লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন বুলবুলি আক্তার। সেদিনের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৩ এপ্রিল তাদের জানানো হয় যে তিনতলার কাছে পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাই আজকের মতো ছুটি দেওয়া হলো। ইঞ্জিনিয়ার এসে পরীক্ষা করবে। ২৪ এপ্রিল সকালে সুপারভাইজার ফোন করে জানায়, ইঞ্জিনিয়ার এসে পরীক্ষা করেছে, কোনো সমস্যা নেই। ডিউটি করা যাবে। ডিউটিতে না এলে বেতন আটকে দেওয়া হবে। এই হুমকির কারণে সবাই কাজে আসতে বাধ্য হয়। বেতন যদি আটকে দেওয়া হলে পরিবার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যাবে-এই চিন্তা করে বুলবুলি আক্তার ডিউটিতে আসেন। ডিউটিতে এসে কাজ করার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর হঠাৎ করে একটি বড় শব্দ হয়। বুলবুলি তখন মেশিনের কাছে বসা অবস্থা থেকে পড়ে যান। হাতের মাংস ছিঁড়ে যায়। দুইটি পা ভেঙে যায়। আঘাত লাগে মাথায়।
এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই নারী শ্রমিক। তিনি বলেন, ‘আমি এখন পঙ্গু অবস্থার দিকে চলে গেছি। … বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী-সন্তান সবার কাছে হাত পাততে হয়। ১৩ বছর ধরে এই কষ্ট ও হয়রানির মধ্যে আছি। আমাদের চারটি দাবি- আজীবনের আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ; পুনর্বাসন নিশ্চিত করা; সুষ্ঠু বিচার; এবং উন্নত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা।’
রানা প্লাজার পঞ্চম তলায় প্যান্টম টেক্স লিমিটেডে চাকরি করতেন পারুল বেগম। তাঁর ভাষ্যে ২৪শে এপ্রিল প্রায় সোয়া ৯টায় জেনারেটর চালু করার সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। জেনারেটর চালু হওয়ার এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যেই হঠাৎ একটি বড় শব্দ হয়। সেই শব্দে পুরো ফ্যাক্টরিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমি তখন ভয় পেয়ে দৌড়ানোর সময় পড়ে যান পারুল। তাঁর বাম পাশ দিয়ে একটি রড ঢুকে যায়। ডান পাশেও আঘাত লাগে। তিনি অচেতন হয়ে যান। ওই চাপে ডান পাশের কিডনি অকেজো হয়ে যায়। পরে শুনেছেন যে বিকেল চারটা-পাঁচটার দিকে উদ্ধার করা হয়েছিল তাঁকে।
তাঁর বক্তব্য: ‘বর্তমানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। সন্তানদের লেখাপড়া ও খাওয়া-পরার খরচ চালানোই অসম্ভব। সরকারের কাছে আমাদের দাবি—আজীবন চিকিৎসা, স্থায়ী পুনর্বাসন এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ। আহতদের জন্য রানা প্লাজার জায়গায় একটি হাসপাতাল বা ট্রেনিং সেন্টার চাই। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন—ঘটনার মূল দায়ীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুন।’
যা বলছেন শ্রমিক নেতারা
রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর প্রায় প্রতিটি শ্রমিক সংগঠনই শ্রমিকদের নিরাপদ কর্ম পরিবেশের আন্দোলন শুরু করে। নিহত ও আহতদের লস অব আর্নিংয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও করেন তারা। ২৪ এপ্রিলকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করার দাবি তোলা হয়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘আমাদের দাবি, অবিলম্বে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনরায় বিস্তারিত মূল্যায়ন বা নিড অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রানা প্লাজার এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভবন মালিক, গার্মেন্টস মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়ী ব্যক্তিদের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘ভবন মালিক সোহেল রানা ছাড়া আর অধিকাংশ অভিযুক্ত এখনো স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। … আন্তর্জাতিক শ্রম আইনে এককালীন আয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকলেও, বাস্তবে অনেক ভুক্তভোগী শ্রমিক এখনো পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পাননি।… রানা প্লাজার সামনে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে হবে, যাতে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো যায়। আমরা ২৪শে এপ্রিলকে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক শক্তি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানাই। রানা প্লাজার জায়গাটি সরকারিভাবে সংরক্ষণ করে সেখানে শ্রমিকদের স্মৃতিস্তম্ভ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ করা হোক।’
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পর শ্রমিকদের জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো পর্যাপ্ত কি না, এ প্রশ্নে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘পর্যাপ্ততার কোনো ডেফিনেশন নেই। তাই একেবারে সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির জায়গাটাও আপেক্ষিক। রানা প্লাজা ঘটনার সময়ের তুলনায় আজ শ্রমিকদের বেতন, জীবনমান ও সামাজিক সাপোর্ট অনেক বেড়েছে। তেমনি এটাও সত্যি যে তাদের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সেই সময়ের তুলনায় গার্মেন্টস শিল্পের সামগ্রিক সক্ষমতা প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি, প্রতিযোগিতা এবং মুনাফার চাপের কারণে অনেক মালিকও এখন চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছেন।’
মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, ‘শুধু শ্রমিকদের দিক থেকে বিষয়টি দেখা ঠিক নয়। আবার একপাক্ষিকভাবে মালিকদের পক্ষেও অবস্থান নেওয়া উচিত নয়। শ্রমিকদের জীবনমান যেমন উন্নত হয়েছে, তেমনি উৎপাদন খরচ, বাজারদর ও রপ্তানি পণ্যের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি। … অথচ শ্রমিকদের ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে।”
তিনি বলেন, ‘শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য মালিক, শ্রমিক, সরকার এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা-সব পক্ষের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা প্রয়োজন। বায়ারদের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে, সরকারের প্রয়োজন অবকাঠামো ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। মালিকদেরও লাভজনক অবস্থায় থাকতে হবে। তাহলেই শ্রমিকদের জন্য আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলের সকাল। প্রতিদিনের মতো কাজে এসেছিলেন শ্রমিকরা। হঠাৎ বিকট আওয়াজ। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজার ৯তলা ভবনের পুরোটাই। প্রাণ হারান ১১ শ ৩৬ শ্রমিক। শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি এই সংখ্যা ১১ শ ৭৫। ১৩ বছর পরেও সেদিনের ঘটনায় আতঙ্কিত হন বেঁচে ফেরা মানুষেরা। তাদের দাবি, এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু বিচার।
ফিরে দেখা ২৪ এপ্রিল, ২০১৩
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিল রানা প্লাজা। ভবনের প্রথম তলায় ছিল বিভিন্ন দোকান। দ্বিতীয় তলায় দোকান ও ব্যাংকের শাখা। তৃতীয় থেকে সপ্তম তলায় ছিল পোশাক কারখানা। এর মধ্যে তৃতীয় তলায় নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেড, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেডে এবং ফ্যানটম ট্যাগ লিমিটেড, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় ইথারটেক্স লিমিটেড গার্মেন্টস। অষ্টম ও নবম তলা ছিল ফাঁকা।
সেদিন সকালে ভবনে কাজ করছিলেন প্রায় তিন হাজার শ্রমিক। আটটার দিকেই কর্মব্যস্ততা শুরু হয়েছিল। বেলা সাড়ে ৯টার দিকে বিকট শব্দে প্রথম তলার ওপরে পুরো ভবন ধসে পড়ে।
এর পরপরই শুরু হয় উদ্ধার কাজ। শুরুতে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। উদ্ধার কাজে যোগ দেয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসার, র্যাব ও পুলিশ।
এমন ঘটনা নাও ঘটতে পারত
ধসের একদিন আগেই ভবনটির চার ও পাঁচ তলার কয়েকটি পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছিল। তা জেনে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে আসেন। মালিকপক্ষ স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। খবর প্রকাশ হয় সংবাদমাধ্যমে।
বিকেলের দিকে সাভারের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কবির হোসেন সরদার ভবনের ফাটল পরিদর্শন করেন। এরপর ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের বলেন, ‘এ ফাটলে তেমন কোনো সমস্যা নেই। বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা নেই। সামান্য প্লাস্টার উঠে গেছে। সব ঠিক হয়ে যাবে।’
ইউএনওর সেই কথিত আশ্বাসের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভবন ধসের সাক্ষী হয় বাংলাদেশ। ঘটনার পরেই ইউএনওকে বদলি করে দায় এড়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
আহত শ্রমিক, শ্রমিক নেতা ও সুশীল সমাজের দাবি, প্রশাসন যথাযথ তৎপরতা রাখলে হয়তো এমন ঘটনা এড়ানো যেত।
অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন, লাশের গন্ধের সাক্ষী অধরচন্দ্র স্কুল মাঠ
ধসে পড়া রানা প্লাজা থেকে একে একে উদ্ধার হতে থাকে আহত, মৃত মানুষের দেহ। আহতদের নেওয়া হয় আশপাশের হাসপাতালে। মরদেহগুলো নিয়ে যাওয়া হয় সাভারের অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে।
টানা ১৭ দিন ধরে চলা উদ্ধার অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হতো ওই মাঠে। লাশের অপেক্ষায় থাকা স্বজনরা ছুটে আসতেন সাইরেন শুনলেই। এই বুঝি স্বজনের মরদেহ এলো! স্বজনদের আহাজারিতে দিনরাত ভারি হয়ে থাকত অধরচন্দ্র স্কুল মাঠ। প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের পুরোটা জুড়েই তখন কান্না আর সাইরেনের আওয়াজ।
ওই সময় স্কুলটিতে পড়তেন আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘আগে ক্লাসের বাইরেও প্রচুর ঘুরাফেরা, খেলাধুলা করতাম এই মাঠে। কিন্তু রানা প্লাজার ধসে পড়ার পর মৃত লাশগুলো সারি সারি করে রাখা হয়েছিল এখানে। এখনও গা ছমছম করে ওঠে।’
সরকারি হিসাব মতে, প্রায় ১৭ দিনের উদ্ধার অভিযানে রানা প্লাজার ভবন থেকে ১,১৩৬ জন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল ২,৪৩৮ জন শ্রমিককে।
শহীদ বেদি এখন প্রতিবাদের প্রতীক
হতভাগ্য শ্রমিকদের স্মরণে ২০১৩ সালের ২৪ মে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের সামনে একটি শহিদ বেদি নির্মাণ করেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। অস্থায়ী শহিদ বেদিটির নামকরণ করা হয় ‘প্রতিবাদ-প্রতিরোধ’। বেদিটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন চালিয়ে আসছে নানা কর্মসূচি।
এখন যেমন আছে রানা প্লাজার সেই স্থান
ধসের পরপরই প্রায় সব ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এরপর জমিটির চারপাশ কাঁটাতার ও টিনের বেড়া দিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় প্রায় প্রতিদিনই রানা প্লাজায় আহত, নিহত আর নিখোঁজ স্বজনরা জায়গাটিতে আসতেন। তবে ধীরে ধীরে জায়গাটি পরিণত হয় পরিত্যক্ত ভূমিতে।
বর্তমানে জায়গাটিতে নানা লতাপাতার দখল। সামনে বেদি। ফুটপাত জুড়ে রাখা থাকে রেন্ট-এ কারের গাড়ি। তবে ২৪ এপ্রিল এলে নানা কর্মসূচিতে কিছুটা প্রাণ পায় জায়গাটি।
বিচার পাননি হতভাগ্যরা
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় মোট তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে শ্রমিকদের মৃত্যুতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে মামলা করে পুলিশ। ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে আরেকটি মামলা করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) । আর ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে আরেকটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তিনটি মামলার কোনোটিই এখনও শেষ হয়নি। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন ইমারত নির্মাণ বিধিমালা আইনের মামলাটি দীর্ঘদিন হাইকোর্টে স্থগিত। ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগে পুলিশের করা মামলাটি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। আর ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এসব দীর্ঘসূত্রিতায় এখনও বিচার পাননি হতভাগ্যরা।
২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। তবে চার মাসেও এ নির্দেশের অগ্রগতি নেই বললেই চলে।
বাঁচার লড়াই করছেন আহতরা
প্রায় ১৩ বছর ধরে পঙ্গুত্ব নিয়ে বাঁচার লড়াই করে যাচ্ছেন অনেকেই। অসুস্থতা আর দারিদ্র্য নিয়ে তাদের দীর্ঘ সংগ্রাম। শ্রমিক নেতারাও রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের শাস্তি ও শ্রমিকদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে আসছেন এতদিন।
ঘটনার সময় রানা প্লাজার আটতলায় নিউ স্টাইল লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন বুলবুলি আক্তার। সেদিনের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৩ এপ্রিল তাদের জানানো হয় যে তিনতলার কাছে পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাই আজকের মতো ছুটি দেওয়া হলো। ইঞ্জিনিয়ার এসে পরীক্ষা করবে। ২৪ এপ্রিল সকালে সুপারভাইজার ফোন করে জানায়, ইঞ্জিনিয়ার এসে পরীক্ষা করেছে, কোনো সমস্যা নেই। ডিউটি করা যাবে। ডিউটিতে না এলে বেতন আটকে দেওয়া হবে। এই হুমকির কারণে সবাই কাজে আসতে বাধ্য হয়। বেতন যদি আটকে দেওয়া হলে পরিবার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যাবে-এই চিন্তা করে বুলবুলি আক্তার ডিউটিতে আসেন। ডিউটিতে এসে কাজ করার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর হঠাৎ করে একটি বড় শব্দ হয়। বুলবুলি তখন মেশিনের কাছে বসা অবস্থা থেকে পড়ে যান। হাতের মাংস ছিঁড়ে যায়। দুইটি পা ভেঙে যায়। আঘাত লাগে মাথায়।
এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই নারী শ্রমিক। তিনি বলেন, ‘আমি এখন পঙ্গু অবস্থার দিকে চলে গেছি। … বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী-সন্তান সবার কাছে হাত পাততে হয়। ১৩ বছর ধরে এই কষ্ট ও হয়রানির মধ্যে আছি। আমাদের চারটি দাবি- আজীবনের আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ; পুনর্বাসন নিশ্চিত করা; সুষ্ঠু বিচার; এবং উন্নত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা।’
রানা প্লাজার পঞ্চম তলায় প্যান্টম টেক্স লিমিটেডে চাকরি করতেন পারুল বেগম। তাঁর ভাষ্যে ২৪শে এপ্রিল প্রায় সোয়া ৯টায় জেনারেটর চালু করার সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। জেনারেটর চালু হওয়ার এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যেই হঠাৎ একটি বড় শব্দ হয়। সেই শব্দে পুরো ফ্যাক্টরিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমি তখন ভয় পেয়ে দৌড়ানোর সময় পড়ে যান পারুল। তাঁর বাম পাশ দিয়ে একটি রড ঢুকে যায়। ডান পাশেও আঘাত লাগে। তিনি অচেতন হয়ে যান। ওই চাপে ডান পাশের কিডনি অকেজো হয়ে যায়। পরে শুনেছেন যে বিকেল চারটা-পাঁচটার দিকে উদ্ধার করা হয়েছিল তাঁকে।
তাঁর বক্তব্য: ‘বর্তমানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। সন্তানদের লেখাপড়া ও খাওয়া-পরার খরচ চালানোই অসম্ভব। সরকারের কাছে আমাদের দাবি—আজীবন চিকিৎসা, স্থায়ী পুনর্বাসন এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ। আহতদের জন্য রানা প্লাজার জায়গায় একটি হাসপাতাল বা ট্রেনিং সেন্টার চাই। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন—ঘটনার মূল দায়ীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুন।’
যা বলছেন শ্রমিক নেতারা
রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর প্রায় প্রতিটি শ্রমিক সংগঠনই শ্রমিকদের নিরাপদ কর্ম পরিবেশের আন্দোলন শুরু করে। নিহত ও আহতদের লস অব আর্নিংয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও করেন তারা। ২৪ এপ্রিলকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করার দাবি তোলা হয়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘আমাদের দাবি, অবিলম্বে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনরায় বিস্তারিত মূল্যায়ন বা নিড অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রানা প্লাজার এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভবন মালিক, গার্মেন্টস মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়ী ব্যক্তিদের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘ভবন মালিক সোহেল রানা ছাড়া আর অধিকাংশ অভিযুক্ত এখনো স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। … আন্তর্জাতিক শ্রম আইনে এককালীন আয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকলেও, বাস্তবে অনেক ভুক্তভোগী শ্রমিক এখনো পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পাননি।… রানা প্লাজার সামনে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে হবে, যাতে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো যায়। আমরা ২৪শে এপ্রিলকে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক শক্তি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানাই। রানা প্লাজার জায়গাটি সরকারিভাবে সংরক্ষণ করে সেখানে শ্রমিকদের স্মৃতিস্তম্ভ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ করা হোক।’
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পর শ্রমিকদের জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো পর্যাপ্ত কি না, এ প্রশ্নে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘পর্যাপ্ততার কোনো ডেফিনেশন নেই। তাই একেবারে সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির জায়গাটাও আপেক্ষিক। রানা প্লাজা ঘটনার সময়ের তুলনায় আজ শ্রমিকদের বেতন, জীবনমান ও সামাজিক সাপোর্ট অনেক বেড়েছে। তেমনি এটাও সত্যি যে তাদের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সেই সময়ের তুলনায় গার্মেন্টস শিল্পের সামগ্রিক সক্ষমতা প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি, প্রতিযোগিতা এবং মুনাফার চাপের কারণে অনেক মালিকও এখন চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছেন।’
মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, ‘শুধু শ্রমিকদের দিক থেকে বিষয়টি দেখা ঠিক নয়। আবার একপাক্ষিকভাবে মালিকদের পক্ষেও অবস্থান নেওয়া উচিত নয়। শ্রমিকদের জীবনমান যেমন উন্নত হয়েছে, তেমনি উৎপাদন খরচ, বাজারদর ও রপ্তানি পণ্যের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি। … অথচ শ্রমিকদের ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে।”
তিনি বলেন, ‘শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য মালিক, শ্রমিক, সরকার এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা-সব পক্ষের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা প্রয়োজন। বায়ারদের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে, সরকারের প্রয়োজন অবকাঠামো ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। মালিকদেরও লাভজনক অবস্থায় থাকতে হবে। তাহলেই শ্রমিকদের জন্য আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। ক্যালেন্ডারের পাতায় সাধারণ একটি দিন হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়ে যায় একটি বিভীষিকাময় দিন। যে দিনের স্মরণে আজও কেঁপে ওঠে হৃদয়, চোখ দিয়ে পড়ে পানি। এখনো নাকে লাগে গলিত ও অর্ধগলিত লাশের দুর্গন্ধ।
৩৩ মিনিট আগে
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে সুরের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বিশেষ কনসার্ট।
১ ঘণ্টা আগে
ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আহত শ্রমিক, নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
২ ঘণ্টা আগে
দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী শিল্প দুর্ঘটনা সাভারের রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৩ সালের এই দিনে ৯তলা ভবনটি ধসে পড়ে ১ হাজার ১৩৮ জন পোশাকশ্রমিকের নিহত হন। আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন হাজারো শ্রমিক।
২ ঘণ্টা আগে