নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, লুটপাট ও ভুল নীতির কারণে সৃষ্ট সংকটের প্রভাব এখনো দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে পড়ছে। একটি দেশের টেকসই শিল্পায়নের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। বর্তমানে দেশের বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানেই পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে উৎকণ্ঠায় পড়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। বিশেষ করে যারা ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে কারখানা স্থাপন করেছেন এবং গ্যাস সংযোগের জন্য চাহিদাপত্রের টাকা জমা দিয়ে অপেক্ষা করছেন, তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র জানায়, তিতাস গ্যাসসহ দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কাছে বর্তমানে নতুন সংযোগের জন্য দেড় হাজারের বেশি আবেদন ঝুলে রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠান চাহিদাপত্রের টাকা জমা দিয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করেছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রতিবছর গ্যাসের উৎপাদন গড়ে দিনে ১৫ কোটি ঘনফুটের বেশি কমছে। ২০১৭ সালে যেখানে দৈনিক ২৭০ কোটি ঘনফুট দেশীয় গ্যাস উৎপাদিত হতো, বর্তমানে তা কমে ১৬০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। ঘাটতি মেটাতে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২১০ থেকে ২২০ কোটি ঘনফুট। এর ওপর সম্প্রতি মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক আরও ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। ফলে শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ প্রায় কমে এসেছে। রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকার শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন কমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতারাতি এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়। দেশীয় নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উৎপাদন বা নতুন আমদানির অবকাঠামো তৈরি করতে অন্তত দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, স্বল্পমেয়াদে আমদানি বাড়ানোর বিকল্প নেই। এখন দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে আমদানির অবকাঠামো বাড়াতে হবে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত