হিলি স্টেশন থামে না আন্তনগর ট্রেন, নেই যাত্রীছাউনি-শৌচাগার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
হিলি (দিনাজপুর)

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৪৪
ব্যস্ততাহীন হিলি রেলস্টেশন। সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের একসময়ের ব্যস্ততম হিলি রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে না ঢাকায় যাতায়াত করা কোনো আন্তনগর ট্রেন। হিলি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরের এক কিলোমিটারের মধ্যে থাকা এই স্টেশনে কাজে লাগছে না ব্যবসায়ীদেরও। স্থানীয় যাত্রীদের ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হলে পার্শ্ববর্তী উপজেলার স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। স্টেশনে নেই যাত্রী ছাউনি, একমাত্র শৌচাগারটিও পরিত্যক্ত।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, জেলার হাকিমপুর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হিলি রেলওয়ে স্টেশন ১৮৭৮ সালে ব্রিটিশ-ভারতের নর্দার্ন বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ের অধীনে চালু হয়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই স্টেশনে অধিকাংশ মেইল, এক্সপ্রেস ও আন্তনগর ট্রেনের নিয়মিত স্টপেজ ছিল। বর্তমানে এই স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪ জোড়া ট্রেন আসা-যাওয়া করলেও মাত্র তিনটি ট্রেন থামে।

হিলি স্টেশনে নেই কোনো ডিজিটাল টিকিট কাউন্টার। অ্যানালগ পদ্ধতিতে বরেন্দ্র, তিতুমীর ও লোকাল ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হয়। এসব ট্রেন শুধু দক্ষিণবঙ্গে যাওয়ার সময় এই স্টেশনে থামলেও ফেরার সময় থামে না।

পাশের পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার জানান, হিলি স্টেশনের ওপর দিয়ে ঢাকার একাধিক আন্তনগর ট্রেন (দ্রুতযান, একতা, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস) প্রতিদিন চলাচল করে। তবে এখানে স্টপেজ নেই। বর্তমানে এই স্টেশনে শুধু রাজশাহীগামী তিনটি লোকাল ট্রেন থামে। আন্তনগর ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে চাইলে যাত্রীদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা বিরামপুর অথবা পঞ্চগড়ের পাঁচবিবি স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়।

হিলি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনটির অবকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কোনো যাত্রী ছাউনি নেই। গ্রীষ্মের তীব্র রোদ, বর্ষার বৃষ্টিতে যাত্রীদের ভিজতে হয়। বসার বেঞ্চ না থাকায় দূর থেকে আসা যাত্রীদের স্টেশনে দাঁড়িয়ে কিংবা নোংরা মেঝেতে বসে অপেক্ষা করতে হয়। স্টেশনের একমাত্র টয়লেটটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত। এতে বিশেষ করে নারীদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও দিনাজপুরের পার্বতীপুরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ব্যস্ত ছিল হিলি স্টেশনটি। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৮০-এর দশকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত এই রুটে চলাচলকারী প্রায় সব লোকাল, মেইল ও আন্তনগর ট্রেন থামত। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা স্থলবন্দর এলাকা হওয়ায় এখান থেকে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা হতো।

মাজহারুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, হিলি একটি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর ও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসার প্রয়োজনে শত শত মানুষ রাজধানীতে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি বেহাল পড়ে থাকলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই।

এদিকে হিলি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর থেকে মাত্র কিলোমিটার দূরেই হিলি রেলস্টেশন। এখন স্টেশনে ওয়াগান (মালবাহী ট্রেন) না থামার কারণে ভারত থেকে শুধু ট্রাকে পণ্য আমদানি হচ্ছে। এতে দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছে হচ্ছে বলে জানান আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ফেরদৌস রহমান জানান, আগে এই স্টেশনে ওয়াগনের (মালবাহী ট্রেন) মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য আসত। কিন্তু বর্তমানে তা আর আসে না। এতে হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরাও অনেক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কী কারণে পণ্যবাহী ট্রেন দাঁড়ানোর অনুমতি নেই, তা ব্যবসায়ীদের জানা নেই। দ্রুত সব সমস্যা কাটিয়ে পণ্যবাহী ট্রেন দাঁড় করানো চালুর দাবি তাঁর।

হিলি রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার জয়ন্ত চক্রবর্তী জানান, স্টেশনটি সচল রাখতে ন্যূনতম দুজন স্টেশন মাস্টার, দুজন বুকিং সহকারী, ছয়জন পয়েন্টস ম্যান ও দুজন গেটম্যান প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে মাত্র একজন স্টেশন মাস্টার, একজন বুকিং সহকারী ও তিন-চারজন পয়েন্টস ম্যান নিয়ে কাজ চলছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত