দুই সাবজেক্টের ধাক্কায় এসএসসি ও সমমানে ফল বিপর্যয়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীরা ফল পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে। তবে এবার প্রায় সব বোর্ডেই গণিত ও ইংরেজি খারাপে মিইয়ে গেছে উৎসব। ছবি: ফোকাস বাংলা

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হারে বিপর্যয় ঘটেছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীও কমেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে প্রকাশিত ফলাফলে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ ১১টি বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ পরীক্ষার্থী।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূলত ইংরেজি ও গণিত– এই দুই আবশ্যিক বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলকে টেনে নিচে নামিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বাইরে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে এই দুই বিষয়েই সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে এবার সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে ময়মনসিংহ বোর্ডে, যেখানে সামগ্রিক পাসের হার ৫৭.৩৯ শতাংশ। এই বোর্ডে পাসের হার এতো নিচে নামার মূল কারণ ইংরেজি ও গণিত। ময়মনসিংহে ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছে ৩৩.৩৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ, প্রতি তিনজনে একজন ইংরেজিতে পাস করতে পারেনি। পাশাপাশি গণিতেও অকৃতকার্য হয়েছে ৩০.৩৯ শতাংশ শিক্ষার্থী।

একই চিত্র সিলেট বোর্ডে। এই বোর্ডে এবার সামগ্রিক পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ। সিলেটে ইংরেজিতে ফেল করেছে ৩০.৮৯ শতাংশ এবং গণিতে ফেল করেছে ২৪.০৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী। দিনাজপুর বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৫৮.০৫ শতাংশ হলেও, সেখানে গণিতের ফল ছিল হতাশাজনক। এই বোর্ডে গণিতেই অকৃতকার্য হয়েছে ২৮.৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর ইংরেজিতে ফেল করেছে ২৭.০৯ শতাংশ।

উত্তরপত্র মূল্যায়নে কড়াকড়ি এবং পরীক্ষকদের নম্বর দেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তাছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে ইংরেজি ও গণিতের দক্ষ শিক্ষকের অভাব দূর না হওয়াকে বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬০.৩৫ শতাংশ। এই বোর্ডে ইংরেজিতে অকৃতকার্যের হার ৩০.৭৬ শতাংশ এবং গণিতে ২২.০২ শতাংশ। চট্টগ্রাম বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ, যেখানে ইংরেজিতে পাস করতে পারেনি ২৭.৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থী।

তুলনামূলক ভালো পাসের হারের বোর্ডগুলোতেও ইংরেজি ও গণিতের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যশোর বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৬৬.২৭ শতাংশ হলেও, ইংরেজিতে ফেল করেছে ২৮.১৬ শতাংশ। রাজশাহী বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৬৩.৫৭ শতাংশ, যেখানে ২৫.৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী ইংরেজিতে ও ২২.৮৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী গণিতে ফেল করেছে।

কুমিল্লা বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৬৫.৪২ শতাংশ। তুলনামূলক কম হলেও, এই বোর্ডেও ইংরেজিতে ১৮.৭১ শতাংশ এবং গণিতে ১৮.২৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে এবার সবচেয়ে ভালো ফল করেছে ঢাকা বোর্ড। এই বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৭১.৬৩ শতাংশ। ঢাকাতেও ইংরেজিতে ২১.৬০ শতাংশ এবং গণিতে ১৭.১৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

সাধারণ বোর্ডগুলোর বাইরে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এসব বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। দাখিল (মাদ্রাসা) পরীক্ষায় এবার সামগ্রিক পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ, যেখানে গণিতে ফেলের হার ৩০.০৩ শতাংশ। আর কারিগরি বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৫৮.২০ শতাংশ হলেও, গণিতে ফেল করেছে ২৯.০৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

বোর্ড সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এবার উত্তরপত্র মূল্যায়নে কড়াকড়ি এবং পরীক্ষকদের নম্বর দেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তাছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে ইংরেজি ও গণিতের দক্ষ শিক্ষকের অভাব দূর না হওয়াকে বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত