জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

রমজানে ৮ বন্ধুর ‘বিনা লাভের বাজার’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৫: ১৯
মৌলভীবাজারে রমজান মাসকে সামনে রেখে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন একদল তরুণ। স্ট্রিম ছবি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রমজান মাসকে সামনে রেখে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন একদল তরুণ। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কথা চিন্তা করে তাঁরা চালু করেছেন ‘বিনা লাভের বাজার’। স্বাভাবিক বাজারদরের তুলনায় কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পেরে ক্রেতাদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।

উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের শহীদনগর বাজারে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দুপুর গড়াতেই বাজারে ভিড় বাড়ছে। আপেল, মাল্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ডাল, শসা, গাজর, কাঁচা মরিচ থেকে শুরু করে সেমাই—রমজানের প্রয়োজনীয় নানা পণ্য সাজানো রয়েছে সারিবদ্ধভাবে। যে যার প্রয়োজন ও সাধ্য অনুযায়ী পণ্য কিনে নিচ্ছেন।

উদ্যোক্তারা জানান, রোজা শুরুর পর থেকেই এই বাজার চালু করা হয়। রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চালু থাকবে এই বাজার। নেছার, ফাহিম, সানি, সাকিব, সামাদ, সাকি, বেলাল ও ইলিয়াস—এই আট বন্ধুর সম্মিলিত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে বাজারটি।

বাজারে আপেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, মাল্টা ৩০০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, দেশি রসুন ৬০ টাকা, ছোলা ৮০ টাকা, মসুর ডাল ৮৫ টাকা, চানার ডাল ৫৮ টাকা, সেমাই ৩৮ টাকা, আলু ১৫ টাকা, শসা ৫৫ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, ধনিয়া পাতা ৩০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৩০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া লম্বা আলু ২ কেজি ২৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

বাজার করতে এসে নজমুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘এখানে কাঁচা মরিচ ১৩০ টাকা কেজি কিনেছি, অথচ বাইরে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। আলু ১৫ টাকা করে নিয়েছি, বাইরে ২০ টাকা। ধনিয়া পাতা এখানে ৩০ টাকা, বাইরে ৬০-৭০ টাকা। এখানে বাজার করে আমার বেশ কিছু টাকা সাশ্রয় হয়েছে।’

উদ্যোক্তা ফাহিম, সানি, সাকিব ও সাকি বলেন, ‘রমজান এলেই আমাদের দেশে অনেক পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যায়। নিম্ন আয়ের মানুষদের তখন কষ্ট করে সংসার চালাতে হয়। আমরা চাই, অন্তত আমাদের এই উদ্যোগ থেকে তারা কিছুটা স্বস্তি পাক। আমরা কোনো পণ্যে লাভ করছি না।’

তাঁরা আরও জানান, লাভের চিন্তা না করে শুধু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই বাজার চালু করা হয়েছে। মাসব্যাপী এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও সাশ্রয় করতে পারবেন—এমনটাই আশা তাঁদের।

রমজানে এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই বলছেন, তরুণদের এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সম্পর্কিত