শাহজালাল মাজারে ১৮ দিনে দানবাক্সে মিলল ৪৭ লাখ টাকা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সিলেট

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ২০: ৩৫
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা। স্ট্রিম ছবি

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে গত ১৮ দিনে জমা টাকা ও মূল্যবান সম্পদ গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এতে দেশি মুদ্রায় মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রূপা পাওয়া যায়।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে দ্বিতীয়বারের মতো মাজারের দানবাক্স সবার সমানে খুলে গণনা করা হয়। গণনা শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এ সব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গণনা করা সব অর্থ জেলা প্রশাসকের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।

কমিটির ওপর আস্থা রাখার জন্য সিলেটবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘হজরত শাহজালাল (রহ) মাজার, দরগাহ মসজিদ ও মাদ্রাসার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির পরবর্তী সভা আগামী বৃহস্পতিবার হবে। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এক মাসের মধ্যে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় একটা নীতিমালা চূড়ান্ত করব।’

দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের ১৩৫ রিয়াল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ ডলার, ভারতের ২ হাজার ৫৩২ রুপি, কাতারের ২২ দিরহাম, মালয়েশিয়ার ৬ রিঙ্গিত, হংকংয়ের ২০ ডলার, ওমানের ১ দশমিক ৪৫০ দিনার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার রুপিয়া, পাকিস্তানের ৬০ রুপি, সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার ও ২০ ইউরো। এছাড়া ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণ সদৃশ বস্তু ও ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রৌপ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া একটি গরু, ছাগল ৬৫টি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে। ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে, যার বিক্রয়মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।

এরআগে শনিবার সকালে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে ছোটো-বড় ৫ দানবাক্স ও তিনটি ডেগ খুলে অর্থ বের করা হয়। পরে গণনার কাজ সম্পন্ন করা হয়। গণনায় অংশ নেন ২৫ থেকে ৩০ জন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী। পুরো প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য, জেলা ও মহানগর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাজার এলাকায় মোতায়েন ছিল বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য।

এরআগে, ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়। সেদিন ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়। এর চারদিন আগে ১৮ জুন বিকেলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মাজারের তিনটি ডেক ও একটি ছোট দানবাক্স সিলগালা করা হয়েছিল।

মাজারের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত ২৬ জুন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এক মাসের মধ্যে আধুনিক ও কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনার সুপারিশ দেওয়ার কথা জানায়। ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত