স্ট্রিম প্রতিবেদক

শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়ে সাদা-জামরঙা কাপড়ে মোড়া সারি সারি স্টল। কোথাও ঝুলছে রঙিন বোনা ব্যাগ, উজ্জ্বল নকশার পোশাক কোথাও, কোথাও লাল ঝুড়িতে ভরা পাহাড়ি শাক, কচি ভুট্টা, কাঁঠাল, কুমড়া, বুনো আলু, ধান্যমরিচ। এক কোণে শুকনা মাছ আর চিংড়ির গন্ধ, অন্য কোণে ক্রুশেটে বানানো পুতুলের হাসিমুখ।
রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে বসেছে তিন দিনের বিঝু-বৈসু-সাংগ্রাই-বিষু মেলা। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত মিরপুরের শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে এই আয়োজনের আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) শেষ দিন।
ঢাকাস্থ পার্বত্য উদ্যোক্তা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে এবং সিএইচটি ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো হচ্ছে এ মেলা।
মেলায় ভিড়ের মধ্যে দেখা যায় কারও হাতে শাকের ব্যাগ, কেউ গয়না দেখছেন, কেউ ‘পিনন-হাদি’ ছুঁয়ে দেখছেন। মেলায় ৩০ থেকে ৩৫টি স্টলে আছে টাটকা কৃষিপণ্য, জুম চাষের সবজি, শুকনা খাবার, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, পাহাড়ি রান্না। সব মিলিয়ে এটি শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, একটি সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্রও।

স্টলে বিক্রেতারা কেবল পণ্য বিক্রি করছেন না, গল্পও শোনাচ্ছেন। কোন শাকটি পাহাড়ে বেশি রান্না হয়, কোন ফল জঙ্গলে জন্মায়, কোন চাল দিয়ে পিঠা ভালো হয়, কোন পোশাক উৎসবে বেশি পরা হয়; সবই জানা যাচ্ছে আলাপ করতে করতে।
এক স্টলে পাহাড়ি শুঁটকি, নাপ্পি, বিন্নি চাল, আখের গুড়, তেঁতুল আর নানা ধরনের শুকনো পণ্য। আরেক স্টলে সাজানো টাটকা শাকসবজি। লেলিন চাকমা নামে একজন জানান, তাঁদের দোকানে পাহাড়ের অনেক পরিচিত উপকরণ আছে। যেমন বাঁশকরল, তক পাতা, ধান্যমরিচ, কৈং আলু, বিন্নি চাল। এই মেলা তাঁর কাছে বেচাকেনা, আবার সংস্কৃতির অংশও।
এখানকার অনেক পণ্যই যেন দর্শকের কৌতূহলকে উসকে দেয়। সাভার থেকে আসা স্টলমালিক মনজুমিত্রা চাকমা জানান, তাঁদের উদ্দেশ্য শুধু বিক্রি নয়, উৎসবটিকে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন রসক নামের একটি জঙ্গলি ফলের কথা; যা চাষে হয় না, সহজে মেলেও না।
উদ্যোক্তা জ্যোতিপুরা জানান, তাঁদের স্টলে আছে মুন্দি, মোমো, চিকেন লাক্সো, কালো বিন্নি চালের পাটিসাপটা, জুস। সবচেয়ে আলাদা আইটেম হলো মুন্দি, তাও আবার একরকম নয়; চিংড়ি, ডিম, মিষ্টি ভুট্টাসহ নানা ধরনের।

এই মেলার আরেকটি বড় আকর্ষণ পোশাক ও অলংকার। এক স্টলে রঙিন পিনন-হাদি, থামি, শাড়ি, গলার গয়না, বোনা কাপড়; এসব এমনভাবে সাজানো যে দূর থেকে দেখলেও চোখ আটকে যায়।
চৈতি চাকমা নামে একজন জানান, মেলায় এসে তাঁকে সবচেয়ে বেশি টেনেছে ট্র্যাডিশনাল পোশাক ও গয়না। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য তাঁদের সংস্কৃতি তুলে ধরা আর ধরে রাখা। তিনি একে মিলনমেলা হিসেবে দেখেন। কারণ এই মেলার টানে দূর-দূরান্ত থেকে পরিচিতজনেরা আসেন; অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, গল্প হয়।
পাহাড়ি নারী উদ্যোক্তা জিলিয়ান তালুকদার তাঁর কোরিয়ান গ্ল্যাম বাংলাদেশ স্টলে এনেছেন কোরিয়ান স্কিন কেয়ার ও হেয়ার কেয়ার পণ্য। এই স্টলে এসে ধরা পড়ে মেলার আরেক রূপ। জিলিয়ান জানান, ঢাকায় বিঝুর আমেজ ফুটিয়ে তুলতে তিনি অংশ নিয়েছেন এই মেলায়। পাহাড়ের উৎসবস্মৃতি আর শহুরে ব্যবসায়িক উদ্যম এখানে পাশাপাশি রয়েছে।
দর্শকদের মধ্যেও একই রকম উচ্ছ্বাস। চিকিৎসক ইশরাত জাবিন জানান, ঢাকায় বসে এত সুন্দরভাবে পাহাড়ি সংস্কৃতির জিনিসপত্র একসঙ্গে পাওয়া যায় না বললেই চলে। তিনি গয়না কেনার কথা যেমন বলছিলেন; তেমনি শাক, কলা, পেঁপেও কিনেছেন। এই একটি মন্তব্যেই যেন মেলার সাফল্যের অনেকটা ধরা পড়ে।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক দুহং মারমার জানান, ঢাকায় বসবাসরত পাহাড়ি মানুষের পক্ষে প্রতি বছর পার্বত্য চট্টগ্রামে গিয়ে উৎসব করা সম্ভব হয় না। তাই এই আয়োজন একদিকে নিজেদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব ভাগ করে নেওয়ার জায়গা, অন্যদিকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও একটি প্রয়োজনীয় মঞ্চ।
এভাবেই ঢাকার এই মেলায় আসে পাহাড়ের উষ্ণতা। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক আয়োজনে সেই আবহ আরও প্রাণ পায়। ১১ এপ্রিল শেষ হচ্ছে মূল মেলা। পরদিন ১২ এপ্রিল বসবে স্পেশাল বিজু বাজার; যেখানে থাকবে টাটকা সবজি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও শুকনা খাবারের বিশেষ আয়োজন।
তবে মেলার আয়োজন শেষ হলেও থেকে যাবে তার রেশ। কারণ এই মেলা মানুষকে শুধু কেনাকাটার সুযোগ দেয় না, পাহাড়ের সংস্কৃতি, স্বাদ আর স্মৃতির কাছেও নিয়ে যায়। তাই এই আয়োজন সত্যিই শহরের ভেতর পাহাড়ের ডাক।

শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়ে সাদা-জামরঙা কাপড়ে মোড়া সারি সারি স্টল। কোথাও ঝুলছে রঙিন বোনা ব্যাগ, উজ্জ্বল নকশার পোশাক কোথাও, কোথাও লাল ঝুড়িতে ভরা পাহাড়ি শাক, কচি ভুট্টা, কাঁঠাল, কুমড়া, বুনো আলু, ধান্যমরিচ। এক কোণে শুকনা মাছ আর চিংড়ির গন্ধ, অন্য কোণে ক্রুশেটে বানানো পুতুলের হাসিমুখ।
রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে বসেছে তিন দিনের বিঝু-বৈসু-সাংগ্রাই-বিষু মেলা। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত মিরপুরের শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে এই আয়োজনের আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) শেষ দিন।
ঢাকাস্থ পার্বত্য উদ্যোক্তা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে এবং সিএইচটি ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো হচ্ছে এ মেলা।
মেলায় ভিড়ের মধ্যে দেখা যায় কারও হাতে শাকের ব্যাগ, কেউ গয়না দেখছেন, কেউ ‘পিনন-হাদি’ ছুঁয়ে দেখছেন। মেলায় ৩০ থেকে ৩৫টি স্টলে আছে টাটকা কৃষিপণ্য, জুম চাষের সবজি, শুকনা খাবার, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, পাহাড়ি রান্না। সব মিলিয়ে এটি শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, একটি সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্রও।

স্টলে বিক্রেতারা কেবল পণ্য বিক্রি করছেন না, গল্পও শোনাচ্ছেন। কোন শাকটি পাহাড়ে বেশি রান্না হয়, কোন ফল জঙ্গলে জন্মায়, কোন চাল দিয়ে পিঠা ভালো হয়, কোন পোশাক উৎসবে বেশি পরা হয়; সবই জানা যাচ্ছে আলাপ করতে করতে।
এক স্টলে পাহাড়ি শুঁটকি, নাপ্পি, বিন্নি চাল, আখের গুড়, তেঁতুল আর নানা ধরনের শুকনো পণ্য। আরেক স্টলে সাজানো টাটকা শাকসবজি। লেলিন চাকমা নামে একজন জানান, তাঁদের দোকানে পাহাড়ের অনেক পরিচিত উপকরণ আছে। যেমন বাঁশকরল, তক পাতা, ধান্যমরিচ, কৈং আলু, বিন্নি চাল। এই মেলা তাঁর কাছে বেচাকেনা, আবার সংস্কৃতির অংশও।
এখানকার অনেক পণ্যই যেন দর্শকের কৌতূহলকে উসকে দেয়। সাভার থেকে আসা স্টলমালিক মনজুমিত্রা চাকমা জানান, তাঁদের উদ্দেশ্য শুধু বিক্রি নয়, উৎসবটিকে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন রসক নামের একটি জঙ্গলি ফলের কথা; যা চাষে হয় না, সহজে মেলেও না।
উদ্যোক্তা জ্যোতিপুরা জানান, তাঁদের স্টলে আছে মুন্দি, মোমো, চিকেন লাক্সো, কালো বিন্নি চালের পাটিসাপটা, জুস। সবচেয়ে আলাদা আইটেম হলো মুন্দি, তাও আবার একরকম নয়; চিংড়ি, ডিম, মিষ্টি ভুট্টাসহ নানা ধরনের।

এই মেলার আরেকটি বড় আকর্ষণ পোশাক ও অলংকার। এক স্টলে রঙিন পিনন-হাদি, থামি, শাড়ি, গলার গয়না, বোনা কাপড়; এসব এমনভাবে সাজানো যে দূর থেকে দেখলেও চোখ আটকে যায়।
চৈতি চাকমা নামে একজন জানান, মেলায় এসে তাঁকে সবচেয়ে বেশি টেনেছে ট্র্যাডিশনাল পোশাক ও গয়না। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য তাঁদের সংস্কৃতি তুলে ধরা আর ধরে রাখা। তিনি একে মিলনমেলা হিসেবে দেখেন। কারণ এই মেলার টানে দূর-দূরান্ত থেকে পরিচিতজনেরা আসেন; অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, গল্প হয়।
পাহাড়ি নারী উদ্যোক্তা জিলিয়ান তালুকদার তাঁর কোরিয়ান গ্ল্যাম বাংলাদেশ স্টলে এনেছেন কোরিয়ান স্কিন কেয়ার ও হেয়ার কেয়ার পণ্য। এই স্টলে এসে ধরা পড়ে মেলার আরেক রূপ। জিলিয়ান জানান, ঢাকায় বিঝুর আমেজ ফুটিয়ে তুলতে তিনি অংশ নিয়েছেন এই মেলায়। পাহাড়ের উৎসবস্মৃতি আর শহুরে ব্যবসায়িক উদ্যম এখানে পাশাপাশি রয়েছে।
দর্শকদের মধ্যেও একই রকম উচ্ছ্বাস। চিকিৎসক ইশরাত জাবিন জানান, ঢাকায় বসে এত সুন্দরভাবে পাহাড়ি সংস্কৃতির জিনিসপত্র একসঙ্গে পাওয়া যায় না বললেই চলে। তিনি গয়না কেনার কথা যেমন বলছিলেন; তেমনি শাক, কলা, পেঁপেও কিনেছেন। এই একটি মন্তব্যেই যেন মেলার সাফল্যের অনেকটা ধরা পড়ে।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক দুহং মারমার জানান, ঢাকায় বসবাসরত পাহাড়ি মানুষের পক্ষে প্রতি বছর পার্বত্য চট্টগ্রামে গিয়ে উৎসব করা সম্ভব হয় না। তাই এই আয়োজন একদিকে নিজেদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব ভাগ করে নেওয়ার জায়গা, অন্যদিকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও একটি প্রয়োজনীয় মঞ্চ।
এভাবেই ঢাকার এই মেলায় আসে পাহাড়ের উষ্ণতা। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক আয়োজনে সেই আবহ আরও প্রাণ পায়। ১১ এপ্রিল শেষ হচ্ছে মূল মেলা। পরদিন ১২ এপ্রিল বসবে স্পেশাল বিজু বাজার; যেখানে থাকবে টাটকা সবজি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও শুকনা খাবারের বিশেষ আয়োজন।
তবে মেলার আয়োজন শেষ হলেও থেকে যাবে তার রেশ। কারণ এই মেলা মানুষকে শুধু কেনাকাটার সুযোগ দেয় না, পাহাড়ের সংস্কৃতি, স্বাদ আর স্মৃতির কাছেও নিয়ে যায়। তাই এই আয়োজন সত্যিই শহরের ভেতর পাহাড়ের ডাক।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মাজারের প্রধান কথিত পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর (৬৫) নিহত হয়েছে।
৩ মিনিট আগে
হাম ও লক্ষণ নিয়ে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে ৮৮৮ জন।
২০ মিনিট আগে
৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ নামের একটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পায়নি।
১ ঘণ্টা আগে
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, কারিগরি শিক্ষা বিকল্প কোনো ধারা নয়, এটি এখন জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। দক্ষ জনশক্তি তৈরি ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। যেভাবে জাপান, জার্মানির মতো দেশ উন্নতি করেছে, আমাদেরও সেভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
২ ঘণ্টা আগে