শান্তিরক্ষা দিবসে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশিদের আত্মদান বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ১৪: ০৪
ঢাকা সেনানিবাসে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবসে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব ও অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের পতাকাতলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শান্তিরক্ষীদের আত্মদান বিশ্বশান্তির জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালে সুদানে শাহাদাতবরণকারী ৬ সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই হামলাসহ সম্প্রতি আহত সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিরক্ষীদের সম্মাননা স্মারকও দেন তিনি।

এ সময় বিশ্বশান্তি রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা এবং কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময়ও করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৭৫ জন শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের দুই লাখের বেশি সদস্য বিশ্বের ৪৩টি দেশের ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ বাংলাদেশি ১০টি মিশনে কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে সবকারপ্রধান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, যা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশাদারিত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখাই বাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার মূলভিত্তি।

বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, অপপ্রচার ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সব সময় বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জাতিসংঘ সনদ ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে ভূমিকা রেখে যাবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক, জ্যেষ্ঠ শান্তিরক্ষী হিসেবে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত