অস্বাস্থ্যকর ভেবে বাদ দিচ্ছেন? পরিমিত খেলে উপকারী হতে পারে এই ৫ খাবার

কোনো খাবার শরীরের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ হবে, তা নির্ভর করে কী পরিমাণে খাচ্ছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস কেমন, তার ওপর। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব খাবার সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী। নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রিয়াংকা সমদ্দার অর্পা
প্রিয়াংকা সমদ্দার অর্পা

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ২১: ১৬
, সব খাবারকে শুধু ‘স্বাস্থ্যকর’ বা ‘অস্বাস্থ্যকর’, এই দুই ভাগে বিচার করা ঠিক নয়। স্ট্রিম গ্রাফিক

ব্যস্ত জীবন। ফিটও থাকা চাই। খাবার নিয়ে কত হিসাব-নিকাশ! কোন খাবারে কত ক্যালোরি, কোনটা ওজন বাড়াবে, এসব ভাবতে ভাবতেই অনেক খাবার এড়িয়ে চলি। কিন্তু স্বাস্থ্যকর আর অস্বাস্থ্যকরের তকমা লাগাতে গিয়ে অনেক সময় ভুল করছি না তো!

অনেক খাবার আছে, যেগুলোকে আমরা অনেকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করেছি। অথচ পরিমাণ, রান্নার পদ্ধতি এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে এসব খাবারও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। চাইলে এই খাবারগুলোও রাখতে পারেন আপনার খাদ্যাভ্যাসে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৫টি খাবারের কথা।

আলু

আলু নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা হলো, এটি খেলে ওজন বাড়ে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিন্তু বিষয়টি এতটা সরল নয়। পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিকভাবে রান্না করে খেলে আলু পুষ্টিকর খাবার।

কোনো খাবার শরীরের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ হবে, তা নির্ভর করে কী পরিমাণে খাচ্ছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস কেমন, তার ওপর।

তবে আলুকে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বানিয়ে বা ডুবো তেলে ভেজে খেলে চলবে না। সাধারণ সেদ্ধ বা বেক করে খেতে হবে। আলুতে রয়েছে পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি৬। এগুলো শরীরের নানা কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আলু অনেকের ক্ষেত্রে পেট ভরা অনুভূতি দিতে পারে, তবে এটি কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করে পরিমাণ, রান্নার ধরন এবং সঙ্গে অন্য কী খাবার খাওয়া হচ্ছে তার ওপর।

ডার্ক চকলেট

চকলেট খেতে পছন্দ করেন না, এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বা অতিরিক্ত চিনির কারণে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ চকলেট এড়িয়ে চলেন।

কিন্তু সব চকলেট এক রকম নয়। বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেটে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পাশাপাশি এতে ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম ও জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও থাকে। তবে ডার্ক চকলেটেও ক্যালোরি ও ফ্যাট থাকে, তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে খাওয়াই ভালো।

সাদা ভাত

যেকোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। সাদা ভাত নিয়ে অনেকের ধারণা, এটি খেলে শুধু ওজনই বাড়ে। কিন্তু পরিমিত পরিমাণে সাদা ভাত খেলেও সমস্যা নেই। এটি প্রাকৃতিকভাবেই গ্লুটেনমুক্ত, সহজে হজম হয় এবং শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। তবে সাদা ভাতে ফাইবার কম এবং এটি রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম বা অন্যান্য প্রোটিনের সঙ্গে খাওয়া ভালো।

ঘি ও মাখন

অনেকেই মনে করেন, ঘি বা মাখন খেলে দ্রুত ওজন বেড়ে যায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। খাঁটি ঘি ও মাখন শুধু চর্বির উৎসই নয়, এতে রয়েছে বিউটিরিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে–এর মতো পুষ্টি উপাদান। বিউটিরিক অ্যাসিড অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও শরীরে এর বড় একটি অংশ তৈরি হয় অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া খাদ্যআঁশ ও অন্যান্য উপাদান ভাঙার মাধ্যমে। আর এসব ভিটামিন শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজন।

তবে ঘি বা মাখনের ক্ষেত্রেও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলোতে ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। তাই অতিরিক্ত না খেয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমাণমতো খেলে অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য এটি নিরাপদ হতে পারে।

পপকর্ন

মাল্টিপ্লেক্স বা হলে গেলেন সিনেমা দেখতে। বিরতির সময় কিনলেন এক ঠোঙা ক্যারামেল পপকর্ন। সিনেমা শেষে হল থেকে বের হয়ে গেলেন। কিন্তু এরপরই অনেকেই ভুগতে থাকেন গিল্ট ট্রিপে। কারণ সিনেমা হলে বিক্রি হওয়া পপকর্নে সাধারণত প্রচুর চিনি, মাখন, তেল বা লবণ যোগ করা থাকে, যা এর ক্যালোরি অনেক বাড়িয়ে দেয়।

সঠিকভাবে তৈরি করলে পপকর্ন একটি তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক হতে পারে। এতে রয়েছে ডায়েটারি ফাইবার এবং পলিফেনল নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের জন্য উপকারী। তাই বাড়িতে অল্প তেল ও সামান্য লবণ দিয়ে বা এয়ার-পপড পপকর্ন তৈরি করে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। শুধু অতিরিক্ত মাখন, ক্যারামেল বা চিজ এড়িয়ে চললেই ভালো।

মোদ্দা কথা হলো, সব খাবারকে শুধু ‘স্বাস্থ্যকর’ বা ‘অস্বাস্থ্যকর’, এই দুই ভাগে বিচার করা ঠিক নয়। কোনো খাবার শরীরের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ হবে, তা নির্ভর করে কী পরিমাণে খাচ্ছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস কেমন, তার ওপর। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব খাবার সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী। নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত