কোনো খাবার শরীরের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ হবে, তা নির্ভর করে কী পরিমাণে খাচ্ছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস কেমন, তার ওপর। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব খাবার সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী। নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রিয়াংকা সমদ্দার অর্পা

ব্যস্ত জীবন। ফিটও থাকা চাই। খাবার নিয়ে কত হিসাব-নিকাশ! কোন খাবারে কত ক্যালোরি, কোনটা ওজন বাড়াবে, এসব ভাবতে ভাবতেই অনেক খাবার এড়িয়ে চলি। কিন্তু স্বাস্থ্যকর আর অস্বাস্থ্যকরের তকমা লাগাতে গিয়ে অনেক সময় ভুল করছি না তো!
অনেক খাবার আছে, যেগুলোকে আমরা অনেকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করেছি। অথচ পরিমাণ, রান্নার পদ্ধতি এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে এসব খাবারও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। চাইলে এই খাবারগুলোও রাখতে পারেন আপনার খাদ্যাভ্যাসে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৫টি খাবারের কথা।
আলু নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা হলো, এটি খেলে ওজন বাড়ে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিন্তু বিষয়টি এতটা সরল নয়। পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিকভাবে রান্না করে খেলে আলু পুষ্টিকর খাবার।
তবে আলুকে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বানিয়ে বা ডুবো তেলে ভেজে খেলে চলবে না। সাধারণ সেদ্ধ বা বেক করে খেতে হবে। আলুতে রয়েছে পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি৬। এগুলো শরীরের নানা কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আলু অনেকের ক্ষেত্রে পেট ভরা অনুভূতি দিতে পারে, তবে এটি কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করে পরিমাণ, রান্নার ধরন এবং সঙ্গে অন্য কী খাবার খাওয়া হচ্ছে তার ওপর।
চকলেট খেতে পছন্দ করেন না, এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বা অতিরিক্ত চিনির কারণে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ চকলেট এড়িয়ে চলেন।
কিন্তু সব চকলেট এক রকম নয়। বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেটে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পাশাপাশি এতে ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম ও জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও থাকে। তবে ডার্ক চকলেটেও ক্যালোরি ও ফ্যাট থাকে, তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে খাওয়াই ভালো।
যেকোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। সাদা ভাত নিয়ে অনেকের ধারণা, এটি খেলে শুধু ওজনই বাড়ে। কিন্তু পরিমিত পরিমাণে সাদা ভাত খেলেও সমস্যা নেই। এটি প্রাকৃতিকভাবেই গ্লুটেনমুক্ত, সহজে হজম হয় এবং শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। তবে সাদা ভাতে ফাইবার কম এবং এটি রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম বা অন্যান্য প্রোটিনের সঙ্গে খাওয়া ভালো।
অনেকেই মনে করেন, ঘি বা মাখন খেলে দ্রুত ওজন বেড়ে যায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। খাঁটি ঘি ও মাখন শুধু চর্বির উৎসই নয়, এতে রয়েছে বিউটিরিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে–এর মতো পুষ্টি উপাদান। বিউটিরিক অ্যাসিড অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও শরীরে এর বড় একটি অংশ তৈরি হয় অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া খাদ্যআঁশ ও অন্যান্য উপাদান ভাঙার মাধ্যমে। আর এসব ভিটামিন শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজন।
তবে ঘি বা মাখনের ক্ষেত্রেও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলোতে ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। তাই অতিরিক্ত না খেয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমাণমতো খেলে অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য এটি নিরাপদ হতে পারে।
মাল্টিপ্লেক্স বা হলে গেলেন সিনেমা দেখতে। বিরতির সময় কিনলেন এক ঠোঙা ক্যারামেল পপকর্ন। সিনেমা শেষে হল থেকে বের হয়ে গেলেন। কিন্তু এরপরই অনেকেই ভুগতে থাকেন গিল্ট ট্রিপে। কারণ সিনেমা হলে বিক্রি হওয়া পপকর্নে সাধারণত প্রচুর চিনি, মাখন, তেল বা লবণ যোগ করা থাকে, যা এর ক্যালোরি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
সঠিকভাবে তৈরি করলে পপকর্ন একটি তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক হতে পারে। এতে রয়েছে ডায়েটারি ফাইবার এবং পলিফেনল নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের জন্য উপকারী। তাই বাড়িতে অল্প তেল ও সামান্য লবণ দিয়ে বা এয়ার-পপড পপকর্ন তৈরি করে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। শুধু অতিরিক্ত মাখন, ক্যারামেল বা চিজ এড়িয়ে চললেই ভালো।
মোদ্দা কথা হলো, সব খাবারকে শুধু ‘স্বাস্থ্যকর’ বা ‘অস্বাস্থ্যকর’, এই দুই ভাগে বিচার করা ঠিক নয়। কোনো খাবার শরীরের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ হবে, তা নির্ভর করে কী পরিমাণে খাচ্ছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস কেমন, তার ওপর। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব খাবার সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী। নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যস্ত জীবন। ফিটও থাকা চাই। খাবার নিয়ে কত হিসাব-নিকাশ! কোন খাবারে কত ক্যালোরি, কোনটা ওজন বাড়াবে, এসব ভাবতে ভাবতেই অনেক খাবার এড়িয়ে চলি। কিন্তু স্বাস্থ্যকর আর অস্বাস্থ্যকরের তকমা লাগাতে গিয়ে অনেক সময় ভুল করছি না তো!
অনেক খাবার আছে, যেগুলোকে আমরা অনেকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করেছি। অথচ পরিমাণ, রান্নার পদ্ধতি এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে এসব খাবারও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। চাইলে এই খাবারগুলোও রাখতে পারেন আপনার খাদ্যাভ্যাসে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৫টি খাবারের কথা।
আলু নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা হলো, এটি খেলে ওজন বাড়ে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিন্তু বিষয়টি এতটা সরল নয়। পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিকভাবে রান্না করে খেলে আলু পুষ্টিকর খাবার।
তবে আলুকে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বানিয়ে বা ডুবো তেলে ভেজে খেলে চলবে না। সাধারণ সেদ্ধ বা বেক করে খেতে হবে। আলুতে রয়েছে পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি৬। এগুলো শরীরের নানা কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আলু অনেকের ক্ষেত্রে পেট ভরা অনুভূতি দিতে পারে, তবে এটি কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করে পরিমাণ, রান্নার ধরন এবং সঙ্গে অন্য কী খাবার খাওয়া হচ্ছে তার ওপর।
চকলেট খেতে পছন্দ করেন না, এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বা অতিরিক্ত চিনির কারণে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ চকলেট এড়িয়ে চলেন।
কিন্তু সব চকলেট এক রকম নয়। বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেটে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পাশাপাশি এতে ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম ও জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও থাকে। তবে ডার্ক চকলেটেও ক্যালোরি ও ফ্যাট থাকে, তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে খাওয়াই ভালো।
যেকোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। সাদা ভাত নিয়ে অনেকের ধারণা, এটি খেলে শুধু ওজনই বাড়ে। কিন্তু পরিমিত পরিমাণে সাদা ভাত খেলেও সমস্যা নেই। এটি প্রাকৃতিকভাবেই গ্লুটেনমুক্ত, সহজে হজম হয় এবং শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। তবে সাদা ভাতে ফাইবার কম এবং এটি রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম বা অন্যান্য প্রোটিনের সঙ্গে খাওয়া ভালো।
অনেকেই মনে করেন, ঘি বা মাখন খেলে দ্রুত ওজন বেড়ে যায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। খাঁটি ঘি ও মাখন শুধু চর্বির উৎসই নয়, এতে রয়েছে বিউটিরিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে–এর মতো পুষ্টি উপাদান। বিউটিরিক অ্যাসিড অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও শরীরে এর বড় একটি অংশ তৈরি হয় অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া খাদ্যআঁশ ও অন্যান্য উপাদান ভাঙার মাধ্যমে। আর এসব ভিটামিন শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজন।
তবে ঘি বা মাখনের ক্ষেত্রেও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলোতে ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। তাই অতিরিক্ত না খেয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমাণমতো খেলে অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য এটি নিরাপদ হতে পারে।
মাল্টিপ্লেক্স বা হলে গেলেন সিনেমা দেখতে। বিরতির সময় কিনলেন এক ঠোঙা ক্যারামেল পপকর্ন। সিনেমা শেষে হল থেকে বের হয়ে গেলেন। কিন্তু এরপরই অনেকেই ভুগতে থাকেন গিল্ট ট্রিপে। কারণ সিনেমা হলে বিক্রি হওয়া পপকর্নে সাধারণত প্রচুর চিনি, মাখন, তেল বা লবণ যোগ করা থাকে, যা এর ক্যালোরি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
সঠিকভাবে তৈরি করলে পপকর্ন একটি তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক হতে পারে। এতে রয়েছে ডায়েটারি ফাইবার এবং পলিফেনল নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের জন্য উপকারী। তাই বাড়িতে অল্প তেল ও সামান্য লবণ দিয়ে বা এয়ার-পপড পপকর্ন তৈরি করে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। শুধু অতিরিক্ত মাখন, ক্যারামেল বা চিজ এড়িয়ে চললেই ভালো।
মোদ্দা কথা হলো, সব খাবারকে শুধু ‘স্বাস্থ্যকর’ বা ‘অস্বাস্থ্যকর’, এই দুই ভাগে বিচার করা ঠিক নয়। কোনো খাবার শরীরের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ হবে, তা নির্ভর করে কী পরিমাণে খাচ্ছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস কেমন, তার ওপর। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব খাবার সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী। নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
.png)
চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি। প্রতিটি সংগ্রহশালায় ক্যানভাস থেকে ক্যানভাসে তিনি খুঁজেছেন শিল্পের ভাষা; রঙ, আলো আর তুলির আঁচড়ে অনুভব করেছেন শিল্পীদের জীবন, সময় ও সৃষ্টির গল্প। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো নতুন ধারাবাহিক
৫ ঘণ্টা আগে
ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
২৫ জুলাই ২০২৬
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
২৫ জুলাই ২০২৬
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
২৫ জুলাই ২০২৬