নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতেন তারা, বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্তসহ গ্রেপ্তার ৩

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ২২: ১৭
বৃহস্পতিবার পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর নোয়াখালী জেলা ইউনিট। সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে জালিয়াতির মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন—চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের কর অঞ্চল-২ এর কার্যালয়ে অফিস সহায়কে কর্মরত নুরুন্নবী (৫৫) ও মো. সোহেল (৪০) এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান (২৯)।

জুলফিকার আলী সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর নোয়াখালী জেলা ইউনিট। শুক্রবার (৩১ জুলাই) আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্ত ও মামলার নথি অনুযায়ী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অনুমোদনের ভিত্তিতে কর অঞ্চল-নোয়াখালীতে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ লক্ষ্যে গ্রেড-১৩ থেকে গ্রেড-২০ পদে নিয়োগের জন্য গত ৫ জুন ২০২৬ তারিখে নোয়াখালীর তিনটি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা হয়।

পরীক্ষা শেষে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১১২ প্রার্থীকে ২১ জুন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। যোগদানের দিন কাগজপত্র যাচাইকালে মনোনীত দুই প্রার্থীর হাতে লেখা আবেদনের সঙ্গে ভাইভার চেকলিস্টের লেখার অমিল ধরা পড়ে। এই দুই প্রার্থী হলেন অফিস সহায়কে মনোনীত মো. কামাল উদ্দিন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকে মনোনীত মো. নাসফুরুল্লাহ।

জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেন, লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় তাঁদের পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল।

২২ জুন মো. সুজন নামের আরেক প্রার্থীর হাতের লেখাতেও অমিল ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনিও প্রক্সি পরীক্ষার্থীর বিষয়টি স্বীকার করেন। ওই দিনই মো. কামাল উদ্দিন, মো. নাসফুরুল্লাহ এবং মো. সুজনকে নোয়াখালী জেলার সুধারাম মডেল থানায় সোপর্দ করে মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে অর্থের বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে এ ধরনের প্রতারণা চালাচ্ছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাই সিআইডির দল চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী থেকে নুরুন্নবী, মো. সোহেল এবং জুলফিকার আলীকে গ্রেপ্তার করে।

সিআইডি জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত