আতংক সৃষ্টিকারীদের ধরে জনমনে স্বস্তি জোগাতে হবে

রাজধানীতে ককটেল ফাটানো ও বাস-মিনিবাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জনমনে উৎকণ্ঠা বাড়াই স্বাভাবিক। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, এগুলো ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের উস্কানিতে তাদের কিছু বেপরোয়া কর্মী-সমর্থকের কাজ। এদের একাংশকে ঘটনাস্থল থেকে আটকের খবর রয়েছে। কেউ কেউ জনতার হাতে প্রহৃত হয়ে হাসপাতালে। ককটেল ফাটানোর ঘটনায় নিরীহ মানুষ আহত হওয়ারও খবর রয়েছে।
যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও লক্ষণীয়। অতীতে এ ধরনের নাশকতায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে যাত্রী মৃত্যুর একাধিক ঘটনা সবার জানা। এতে গান পাউডার ব্যবহারের প্রবণতাও ছিল। আমরা নিশ্চিতভাবেই চাই না সেই কালো অধ্যায়ে ফিরে যেতে। সরকারের তরফ থেকে প্রশাসনকেই সেটা নিশ্চিত করতে হবে। দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা চলন্ত বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে, তাদের ‘রাজনৈতিক কর্মী’ বলে বিবেচনার সুযোগ নেই। তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে জনমনে স্বস্তি জোগাতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা এসবে ‘খুব একটা মনোযোগ’ দিচ্ছেন না। তিনি সম্ভবত বলতে চেয়েছেন, বিক্ষিপ্তভাবে ঘটানো এসব ঘটনাকে সরকার তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। সরকার ‘নার্ভাস’ নয়, এটা বোঝাতেই হয়তো ওভাবে বলা। তবে ককটেল ফাটানো ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েই জনমনে সাহস জোগাতে হবে। অনেক সময় এমনও হয়, হালকাভাবে নেওয়ার কারণে পুলিশ যথাযথ নির্দেশনা পায় না এবং পরিণতিতে ভীতি সঞ্চারকারীরা আরও তৎপর হয়ে ওঠে।
গণঅভ্যুত্থানে ভেঙে পড়া পুলিশ এখনো মনোবলহীন বলেই অনেকের পর্যবেক্ষণ। তাদের গোয়েন্দা তৎপরতাও আগের জায়গায় ফেরেনি বলে মনে হচ্ছে। তবে ককটেল হামলা ও বাসে অগ্নিসংযোগের পর রাজধানীতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সক্রিয়তা। চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির দৃশ্য জনমনে কিছুটা স্বস্তি জোগাবে। মাঝে এটা উঠেই গিয়েছিল বলা যায়। পুলিশি টহলও অনেক কম বলে জনসাধারণ অভিযোগ করে আসছে। এর জবাবে যানবাহনের ঘাটতির কথা পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়। এ কারণে সাধারণ আইনশৃঙ্খলার অবনতিও পরিলক্ষিত।
সরকার অবশ্য তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দাবি করে, পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। এ ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে বক্তব্য দেওয়াটাও উচিত মনে হয়। নির্বাচিত সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলায় দ্রুত উন্নতির আশায় ছিল মানুষ। তেমন প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। এখন তো রাজনৈতিক উস্কানির পর ককটেল হামলা আর বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। লক্ষণীয়, হামলাকারীরা ছুটির দিন বেছে নিয়েছিল। জনমনে আতংক সৃষ্টি করে নির্বিঘ্নে কেটে পড়াই হয়তো এ ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য। তবে সিসিটিভিতে তাদের সিংহভাগকেই চিহ্নিত করা গেছে। এখন পুলিশের কাজ এদের সবাইকে আটক করে স্বচ্ছ বিচারের আওতায় আনা।
রাজনীতিতে ভিন্ন মত ও পথের মানুষ থাকবে। কিন্তু কোনো পক্ষেরই অধিকার নেই জনমনে অস্থিরতা বা আতংক সৃষ্টি হয়, এমন কাজে লিপ্ত হওয়া। সরকারেরও দায়িত্ব এ ধরনের চেষ্টা থাকলে তা অংকুরেই বিনষ্ট করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতার প্রমাণ দেওয়া। বিদেশ থেকে উস্কানির পাশাপাশি দেশের ভেতর থেকে যারা এসবে সহায়তা জোগাচ্ছে, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা জরুরি। তবে প্রতিপক্ষের লোক বলেই নিরপরাধ কাউকে আটক কিংবা মামলায় জড়ানো সমর্থনযোগ্য নয়। অতীতে এসব ঘটেছে বলে তার পুনরাবৃত্তিও কাম্য নয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ বরং ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাইছে। এ অবস্থায় সরকারের উচিত হবে পুলিশের অতিউৎসাহী অংশকে ওইসব অপতৎপরতা থেকে বিরত রাখা। রাজনীতিতে এর ফল কত বিষময় হতে পারে, সেটা তো সবারই জানা। আইনের শাসন জোরদার করেই নাশকতা সৃষ্টির সব ধরনের চেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।
.png)
-3f0d26.jpeg)

