শিশু কলি হত্যা: ৩ দিনের ভাঙচুরে ধ্বংসস্তূপ আসামি মোস্তফার বাড়ি
স্ট্রিম সংবাদদাতাপাবনা

পাবনায় শিশু কামরুন্নাহার কলিকে (১০) ধর্ষণের পর হত্যায় প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে টানা ৩ দিন ধরে চলছে ভাঙচুর। বিক্ষুব্ধ জনতা শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রথম দিনেই দরজা-জানালার গ্রিল খুলে নিয়ে যায়। এরপর দুই দিন ধরে হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে দেয়ালের ইট থেকে ছাদ ভেঙে রড পর্যন্ত খুলে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামের শিশু কলি। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে পুলিশ বাড়ির কাছের একটি ডোবায় তার বস্তাবন্দি মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কলিদের প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ পরে জানায়, মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। কয়েকদিন ঘরে রাখার পর বস্তাবন্দি করে মরদেহ ওই ডোবায় ফেলা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর শত শত মানুষ মিছিল নিয়ে মোস্তফার বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। সেখানে আগে থেকে পুলিশ থাকলেও পরিস্থিতির চাপে তারা সরে যায়। পরদিন দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ সেখানে আসে। তারা হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে দেয়ালের পাশাপাশি ছাদও ভেঙে ফেলেন। আজ রোববারও ভাঙচুর চলে।
মোস্তফার পরিবারও হামলা শিকার হয়েছেন। মোস্তফার স্বজন টিটু মিয়া অভিযোগ করেন, মোস্তফার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী প্রথম হামলা দিন বাড়িতেই ছিলেন। ওই সময় কয়েকজন তাঁর মাথা ও মুখে রড দিয়ে আঘাত করে। তিনি বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে, কলির বাবা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘আমার মেয়ে সাত দিন নিখোঁজ থাকলেও পুলিশ কোনো ভূমিকা নেয়নি। মরদেহ উদ্ধারের পর মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের এই ভূমিকার কারণেই মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে।’
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, হামলার আশঙ্কায় বাড়ির বাসিন্দা ও দামি মালপত্র আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আর জনস্রোত নির্বৃত্ত করতে গেলে পুলিশের বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি ছিল। ধর্ষকের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগও উঠত। তাই কৌশলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডিফেন্ডার পাবনা জেলা শাখার সদস্যসচিব আবদুর রব মন্টু বলেন, ‘বিচার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থাহীনতা এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে প্রতিবাদের নামে এমন ভাঙচুর কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। রাষ্ট্রযন্ত্রকে তাদের সঠিক ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিচার চেয়ে বিক্ষোভ-মানববন্ধন
শিশু কলি হত্যার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির (ফাঁসি) দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় পাবনা জেলা পরিষদের সামনে এই মানববন্ধন হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল পাবনা আদালত চত্বর প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে শেষ হয়।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা আসামিদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শওকত আলী বলেন, ‘এই নরপশুরা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সাত দিন বস্তাবন্দি করে রেখেছিল। আমরা এই খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি চাই।’
.png)
-3f0d26.jpeg)


-ed264b-256x144.webp)
-1df0ac-256x144.webp)

