মেঘনা গ্রুপের ৪১০ কোটি টাকার এলসি বাতিলের নির্দেশ
স্ট্রিম প্রতিবেদক

বিদেশে অনুমোদনহীন কোম্পানি গঠন এবং পরবর্তীতে নিজের মালিকানাধীন জাহাজ নতুন করে আমদানির নামে অর্থপাচারের অভিযোগে মেঘনা গ্রুপের ৩ কোটি ২৬ লাখ ডলারের (প্রায় ৪১০ কোটি টাকা) ঋণপত্র (এলসি) বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অনুসন্ধানে বিষয়টি উঠে আসার পর মেঘনা ব্যাংককে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থপাচারের বিষয়টি নিয়ে বিএফআইইউ, মেঘনা ব্যাংক ও মেঘনা গ্রুপের মধ্যে সভা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এরপরই ঋণপত্রটি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মেঘনা ব্যাংকের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা ঋণপত্রটি বাতিল করার জন্য মেঘনা গ্রুপকে নির্দেশ দিয়েছে। তাদের সম্মতি পেলেই বাতিল করা হবে। তিনি আরও জানান, এই জাহাজ মেঘনা ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আনতে না পারলেও অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মেঘনা গ্রুপ। ফলে প্রকৃতপক্ষে অর্থপাচার রোধ হলো কিনা, সেই প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে।
অর্থপাচারের চেষ্টা
বিএফআইইউর তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ মেঘনা ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে ‘এমভি মেঘনা পার্ল’ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার আমদানির উদ্দেশ্যে ৩২৫২২৬০১০২২০ নম্বরের এলসি অনুমোদন করা হয়। এলসিতে রপ্তানিকারক ও মূল সুবিধাভোগী হিসেবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ‘মেঘনা ট্রেড অ্যান্ড কমার্স পিটিই লিমিটেড’-এর নাম ব্যবহার করা হয়।
তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা লয়েড’স লিস্ট ইন্টেলিজেন্স, মে ইন্টারন্যাশনাল ও আইএমবির নথি পর্যালোচনা করে বিএফআইইউ দেখেছে, এলসি খোলার অনেক আগে থেকেই জাহাজটির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রক ছিল মেঘনা গ্রুপ। লয়েড’সের তথ্য অনুযায়ী, পানামায় নিবন্ধিত ‘সিএমবি ব্রুয়েগেল’ নামের জাহাজটি ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকেই মেঘনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনিক সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনায় ছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে এটি বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ হিসেবে চলাচল শুরু করে। ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মেঘনা পার্ল’।
গত ২৮ জুলাই এ বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে স্ট্রিম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশে কোম্পানি খোলা, নিজের কেনা জাহাজই নিজের অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন করে আমদানি এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঋণপত্র খোলার পেছনে স্পষ্টত অর্থপাচারের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছে বিএফআইইউ ও বাংলাদেশ ব্যাংক।
.png)
-3f0d26.jpeg)





-4f2d02-256x144.webp)
